Bartaman Logo
৯ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সোনার কাজে বাইরে স্বামীরা, নিঃসঙ্গতা কাটাতে পরকীয়া, দেদার ভাঙছে সংসার

বিয়ের পর নববধূকে নিয়ে ক্লাব, পিকনিক কিংবা মদের আসরে আড্ডা দেওয়া এখন অনেক জায়গায় নতুন ট্রেন্ড হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর এই প্রবণতাই পরবর্তী সময়ে অনেক দম্পতির বৈবাহিক জীবনে চরম বিপর্যয় ডেকে আনছে।

সোনার কাজে বাইরে স্বামীরা, নিঃসঙ্গতা কাটাতে পরকীয়া, দেদার ভাঙছে সংসার
  • ৫ মার্চ, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
কাজলকান্তি কর্মকার, ঘাটাল: বিয়ের পর নববধূকে নিয়ে ক্লাব, পিকনিক কিংবা মদের আসরে আড্ডা দেওয়া এখন অনেক জায়গায় নতুন ট্রেন্ড হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর এই প্রবণতাই পরবর্তী সময়ে অনেক দম্পতির বৈবাহিক জীবনে চরম বিপর্যয় ডেকে আনছে। ঘাটাল মহকুমার সাম্প্রতিক বিবাহ বিচ্ছেদের মামলাগুলি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বিচ্ছেদের মূল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে পরকীয়া। 
Advertisement
ঘাটাল বার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক রামকুমার দে জানিয়েছেন, বর্তমানে আদালতে প্রচুর বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা জমা পড়ছে। এর পেছনে প্রধানত দু’টি কারণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে, বধূদের পরকীয়া কিংবা স্বামীর বিবাহ বহির্ভুত সম্পর্ক। দম্পতিরা যখন একে অপরের থেকে দূরে চলে যান বা পারস্পরিক বিশ্বাস নষ্ট হয়ে যায়, তখন তাঁরা বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেন।
ঘাটাল মহকুমায় এই সমস্যা আরও প্রকট হয়ে উঠছে। কারণ, এখানকার যুবকদের একটা বড় অংশ সোনা, রুপো এবং জরির কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকায় অধিকাংশ সময় রাজ্যের বাইরে কাটান। বিয়ের পর তাঁদের মধ্যে অনেকেই স্ত্রীকে বন্ধুদের সঙ্গে ক্লাব, পার্টি ও মদের আসরে নিয়ে যান। সেখানে স্বামীর বন্ধুদের সঙ্গে আলাপ-পরিচিতি ঘটে। তারপর স্বামী বাইরে গিয়ে দীর্ঘদিন না ফিরলে নিঃসঙ্গতা পেয়ে বসে। তার থেকে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজতে থাকেন বধূরা। 
বিয়ের আগে এই অঞ্চলের বেশিরভাগ যুবতী সাধারণত মদ্যপান করেন না। কিন্তু বিয়ের পর স্বামীর অনুরোধে এবং সামাজিকতার খাতিরে তাঁরা মদের আসরে যোগ দেন। প্রথমে বাধ্য হয়ে মদ পান করলেও পরে অনেকেই এতে আসক্ত হয়ে পড়েন। স্বামী যখন জীবিকার তাগিদে বাইরে থাকেন, তখনও তাদের মদের প্রতি আগ্রহ কমে না। অনেক সময় স্বামীর বন্ধু বা পরিচিতরা তাঁদের মদের সংস্থান করে দেন। সেই সূত্রে ধীরে ধীরে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হতে শুরু করে। রাতের পর রাত হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটিং, গোপন ছবি ও ভিডিওর আদান-প্রদান এই সম্পর্ককে আরও গভীরে নিয়ে যায়। এক পর্যায়ে স্ত্রী হয়তো পালিয়ে যান। নয়তো স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের মামলা দায়ের করেন।
আইনজীবী অনিমেষ কর্মকার জানান, বেশ কিছু বিচ্ছেদের মামলায় দেখা গেছে, বধূদের নেশা এতটাই প্রবল হয়ে ওঠে যে, স্বামী না থাকলেও তারা অন্য কোনও পুরুষের মাধ্যমে মদের সংস্থান করেন। একসময় তাঁরা স্বামীর চেয়ে সেই ব্যক্তির প্রতি বেশি আসক্ত হয়ে পড়েন এবং দাম্পত্য জীবন ভেঙে যায়।তবে, সব পরকীয়ার সম্পর্ক যে শুধুমাত্র মদের সংস্থানের মাধ্যমে হয়, তা নয়। দাসপুর থানার এক সাব ইন্সপেক্টর জানিয়েছেন, ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, অজানা নম্বর থেকে ফোন কলের মাধ্যমেও পরকীয়ার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ধীরে ধীরে এই সম্পর্ক এতটাই গভীর হয় যে, বৈবাহিক সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। শেষমেশ বিচ্ছেদের পর্যায়ে পৌঁছে যায়।এই সমস্যার সমাধান কীভাবে সম্ভব? বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈবাহিক সম্পর্কে বিশ্বাস ও স্বচ্ছতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে খোলামেলা আলোচনা ও পারস্পরিক বোঝাপড়া থাকলে এই ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব। পাশাপাশি, মদ্যপান ও অনিয়ন্ত্রিত সামাজিক মেলামেশার বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। পরিবার ও সমাজকে সচেতন করতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। 
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ