Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বর্ষশেষে দার্জিলিংয়ে তুষারপাতের আশা, বাংলাদেশে ঘূর্ণাবর্তর জেরে সর্বোচ্চ তাপমাত্রারও পতন

মেঘলা-কুয়াশা পরিবেশের সঙ্গে শীতল উত্তুরে হাওয়ার  জেরে সোমবার সারাদিন ধরে ঠান্ডাতে জবুথুবু হয়ে রইল কলকাতা সহ রাজ্যের অনেক জায়গা

বর্ষশেষে দার্জিলিংয়ে তুষারপাতের আশা, বাংলাদেশে ঘূর্ণাবর্তর জেরে সর্বোচ্চ তাপমাত্রারও পতন
  • ৩০ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মেঘলা-কুয়াশা পরিবেশের সঙ্গে শীতল উত্তুরে হাওয়ার  জেরে সোমবার সারাদিন ধরে ঠান্ডাতে জবুথুবু হয়ে রইল কলকাতা সহ রাজ্যের অনেক জায়গা। কলকাতায় ভোরবেলা সর্বনিম্ন তাপমাত্রা (১৩.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস) স্বাভাবিকের কাছাকাছি ছিল। বেশ বেলা পর্যন্ত রোদের দেখাই মেলেনি। পরে রোদ উঠলেও তাতে বেশি তেজ ছিল না। এই পরিস্থিতিতে শহরে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা (১৮.২ ডিগ্রি) এদিন স্বাভাবিকের থেকে ৭.২ ডিগ্রি কম ছিল! রোদ না-ওঠার পাশপাশি জোরালো উত্তুরে হাওয়ার জন্য বেলা পর্যন্ত কনকনে ঠান্ডা ছিল কলকাতা ও লাগোয়া এলাকায়।  এবারের শীতের মরশুমে কলকাতায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা এই প্রথম এতটা কম হল। উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের অনেক জেলাতেই এদিন সকালে  মাঝারি থেকে ঘন-কুয়াশা পড়ার জন্য সর্বোচ্চ তাপমাত্রা কম ছিল।
আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাঞ্চলীয় অধিকর্তা হবিবুর  রহমান বিশ্বাস জানিয়েছেন, মেঘলা-কুয়াশা পরিবেশের কারণ হচ্ছে উত্তর বাংলাদেশের উপর থাকা একটি ঘূর্ণাবর্ত। ওই ঘূর্ণাবর্তর প্রভাবে বায়ুমণ্ডলের নীচের স্তরে জলীয় বাষ্প প্রবেশ করেছিল। তা ঘনীভূত হয়ে মেঘলা-কুয়াশা সৃষ্টি করে। আজ মঙ্গলবার মেঘলা-কুয়াশা পরিবেশ তৈরি  হতে পারে। সোমবার দক্ষিণবঙ্গে শীতলতম স্থান ছিল বাঁকুড়া (৯ ডিগ্রি)। উত্তরবঙ্গের সমতল এলাকার মধ্যে আলিপুরদুয়ার শীতলতম ছিল (১০ ডিগ্রি)। দার্জিলিংয়ে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ৩.৮ ডিগ্রি। 

Advertisement


বুধবার চলতি বছরের শেষ দিনে ও নতুন বছরের প্রথম দুই দিনে দার্জিলিংয়ের কিছু জায়গায় তুষারপাত হতে পারে। আবহাওয়া অধিকর্তা জানিয়েছেন, দার্জিলিংয়ের যেসব জায়গার উচ্চতা খুব বেশি সেখানেই তুষারপাত হওয়ার অনুকূল পরিস্থিতি আছে। অন্য জায়গায় হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকছে। কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার জেলার কোনও কোনও জায়গায় হালকা বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এইসময়ে উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের কয়েকটি জেলাতে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে।  পশ্চিমি ঝঞ্ঝার প্রভাবে চলতি বছরের শেষদিনে ও নতুন বছরের প্রথম দু’দিনে আবহাওয়ার পরিবর্তন হবে। পশ্চিম হিমালয়ে কাশ্মীর হিমালয়ের উপর যে পশ্চিমি ঝঞ্ঝাটি বছরের শেষলগ্নে তৈরি হচ্ছে তার প্রভাব পূর্ব হিমালয়ে পড়বে। দার্জিলিং ও সিকিমের উঁচু এলাকায় তুষারপাতের অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হবে ওই ঝঞ্ঝার জন্য। ঝঞ্ঝার জেরে এইসময়ে প্রবল তুষারপাত হবে কাশ্মীরে। হিমাচল প্রদেশ ও উত্তরাখণ্ডের কিছু অংশে তুষারপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। পাঞ্জাব, হরিয়ানা, রাজস্থান, পশ্চিম উত্তরপ্রদেশে বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে চলতি বছরের শেষে ও নতুন বছরের প্রথম দু-তিনদিনে।  হিমালয়ে কোনও পশ্চিমি ঝঞ্ঝা এলে উত্তুরে হাওয়া দুর্বল হয়ে পড়ে। যার প্রভাবে রাজ্যে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়। দক্ষিণবঙ্গে এর প্রভাব পড়ে। বছরের শেষদিনে ও নতুন বছরের প্রথম দু’দিন কলকাতায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৫-১৬ ডিগ্রির আশপাশে থাকতে পারে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ