সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: দার্জিলিং চিড়িয়াখানায় দেখা মিলবে জাপানের তুষার চিতার। বিরল বিদেশি স্নো লেপার্ডদের উপস্থিতিতে পর্যটকদের কাছে আরও আকর্ষণীয় হতে চলেছে দার্জিলিং। আসলে স্নো লেপার্ডের জিনগত বৈচিত্র্য রক্ষায় আন্তর্জাতিক উদ্যোগ নিতে চলেছে দার্জিলিংয়ের পদ্মজা নাইডু হিমালয়ান জুলজিক্যাল পার্ক। দীর্ঘদিন ধরে একই বংশের মধ্যে প্রজননের ফলে ‘ইনব্রিডিং’-এর ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় জাপান থেকে একটি মহিলা স্নো লেপার্ড আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
দার্জিলিংয়ের তোপকেদারার প্রজনন কেন্দ্রে বর্তমানে পাঁচটি পুরুষ ও আটটি স্ত্রী স্নো লেপার্ড রয়েছে। এগুলি সিকিমের। দীর্ঘদিন একই বংশধারার মধ্যে প্রজননের ফলে জিনগত বৈচিত্র্য কমে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। এর প্রভাব ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শারীরিক সক্ষমতা ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উপর পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজ্য বনদপ্তর ও জু’অথরিটি জাপানের তামা জু-র সঙ্গে প্রাণীবিনিময় নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা করে। বনদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রস্তাব অনুযায়ী, জাপান থেকে একটি মহিলা স্নো লেপার্ড দার্জিলিংয়ে আনা হবে এবং বিনিময়ে এখান থেকেও একটি মহিলা স্নো লেপার্ড জাপানে পাঠানো হবে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া ও আন্তর্জাতিক ছাড়পত্র পাওয়ার পর চূড়ান্ত চুক্তি কার্যকর হবে।
শিলিগুড়ির বেঙ্গল সাফারি পার্কে বাঘের ক্ষেত্রে নতুন রক্তের সংমিশ্রণের অভিজ্ঞতাকেই এবার স্নো লেপার্ড সংরক্ষণে কাজে লাগাতে চাইছে কর্তৃপক্ষ। নতুন এই উদ্যোগে তোপকেদারার স্নো লেপার্ডদের জিনগত বৈচিত্র্য ও ভবিষ্যৎ প্রজনন সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা দার্জিলিং চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের।