Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দক্ষিণ মেরুতে প্রায় দু’মাস গবেষণার পর দাসপুরের বাড়িতে ফিরলেন স্নিগ্ধা

দক্ষিণ মেরুতে প্রায় দু’মাস গবেষণার পর দাসপুরের বাড়িতে ফিরলেন স্নিগ্ধা
  • ২০ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, ঘাটাল: কুমেরু বা দক্ষিণ মেরু অভিযান শেষে গ্রামে ফিরলেন ঘাটালের দাসপুরের কন্যা স্নিগ্ধা ভৌমিক। তাঁর এই সাফল্যে উচ্ছ্বসিত গোটা ঘাটাল মহকুমা। দাসপুরের বালিতোড়া গ্রামের গর্ব স্নিগ্ধা কুমেরু মহাসাগরে গিয়েছিলেন গবেষণার কাজে। শনিবার সকালে তিনি বাড়ি ফিরতেই গ্রাম যেন উৎসবের চেহারা নেয়। তাঁকে সংবর্ধনা জানানো হয়। গ্রামের হাইস্কুল থেকেও তাঁকে বিশেষ সংবর্ধনা দেওয়া হয়। স্কুলের প্রধান শিক্ষক তাপস ঘোষ বলেন, স্নিগ্ধা আমাদের স্কুলের ছাত্রী না থাকলেও তাঁর এই অভিযান আমাদের মহকুমা তথা রাজ্যের গর্ব।

Advertisement

প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক স্নিগ্ধা কুমেরু মহাসাগরে ‘সাদার্ন সি’র ‘প্রিডজ বে’ অঞ্চলে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে গবেষণা চালিয়েছেন। গবেষণার উদ্দেশ্যে ৯ ফেব্রুয়ারি তিনি রওনা দেন। ৫৩ দিন ছিলেন সেখানে। স্নিগ্ধা বলেন, বহু প্রতিকূলতার মধ্যে তাঁদের কাজ করতে হয়েছে।
‘প্রিডজ বে’র কাছেই ভারতের আন্টার্কটিকা গবেষণাগার ‘ভারতী’ অবস্থিত। এই অভিযানে প্রেসিডেন্সির আরও এক গবেষক সৌম্যশুভ্র বৈষ্ণবও অংশ নিয়েছেন। তাঁরা দু’জনেই অস্ট্রেলিয়ার কুর্টিন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে গবেষণায় অংশ নিয়ে প্রাচীন সামুদ্রিক জীবের জীবাশ্ম আবিষ্কার করেন, যা জীবনের উৎপত্তি ও বিবর্তনের ধারাকে নতুনভাবে ব্যাখ্যা করতে সাহায্য করবে।
স্নিগ্ধার বাবা স্বরূপ ভৌমিক ভারতীয় রেলের কর্মী ও মা সুলেখা একজন গৃহবধূ। স্নিগ্ধা কাঁকুড়গাছি পূর্বাচল বিদ্যামন্দির থেকে প্রাথমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক এবং পরে স্কটিশ চার্চ কলেজ থেকে জুলজিতে অনার্স নিয়ে বিএসসি পাশ করেন। এরপর বালিগঞ্জ সায়েন্স কলেজ থেকে এমএসসি করে বর্তমানে প্রেসিডেন্সিতে পিএইচডি করছেন।
তিনি জানান, ছোটবেলা থেকেই ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক, ডিসকভারি ও অ্যানিম্যাল প্ল্যানেটের মতো চ্যানেল দেখে জীববিজ্ঞানের প্রতি এক তীব্র আকর্ষণ তৈরি হয়েছিল। বাস্তুতন্ত্রের প্রতি গভীর আগ্রহ থেকেই তিনি গবেষণার পথে এগিয়ে যান। প্রেসিডেন্সিতে যোগ দেওয়ার পর সহকারী অধ্যাপক সুমিত মণ্ডলের সঙ্গে কুমেরু অঞ্চলের নমুনা নিয়ে কাজ করতে গিয়ে তাঁর মনে আন্টার্কটিকা অভিযান করার প্রবল ইচ্ছা তৈরি হয়।
গ্রামবাসীদের বক্তব্য, এই অসামান্য সাফল্য শুধু স্নিগ্ধার ব্যক্তিগত অর্জন নয়, এটি গোটা দাসপুর তথা ঘাটাল মহকুমার গর্ব। গ্রামের মানুষ থেকে শুরু করে শিক্ষক, সহপাঠী এবং সমাজের নানা স্তরের মানুষ তাঁর এই অসাধারণ অর্জনে গর্বিত। তাঁর এই পদক্ষেপ আগামী প্রজন্মকে বিজ্ঞান ও গবেষণার পথে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করবে।  • নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ