Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সঙ্গীরা পালিয়েছে, খুঁজতে মরিয়া একজনের স্ত্রী ও অপরের স্বামী

সঙ্গীরা পালিয়েছে, খুঁজতে মরিয়া একজনের স্ত্রী ও অপরের স্বামী
  • ৭ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, ঘাটাল: দুই সন্তান ফেলে পরস্ত্রীকে নিয়ে পালিয়েছে স্বামী। যাঁর স্ত্রীকে নিয়ে পালিয়েছে, সেই যুবককে সঙ্গে নিয়ে অসহায় গৃহবধূ স্বামীর সন্ধানে রাস্তায় নেমেছেন। যুবকও তাঁর স্ত্রীর সন্ধান পেতে মরিয়া। উদ্দেশ্য এক হওয়ায় তাঁরা পরস্পরের পাশে দাঁড়িয়েছেন। 
Advertisement
বছর পাঁচেক আগে হঠাৎ করেই ফোনে আলাপ দুধের বাঁধের বাসিন্দা মুনমুনের সঙ্গে শুভঙ্কর মান্নার। স্বর্ণশিল্পী শুভঙ্করের বাড়ি দাসপুর থানার রামনগরে। কিছুদিনের মধ্যেই আলাপ পরিণত হয় বিয়েতে। বর্তমানে তাঁরা দুই পুত্র সন্তানের অভিভাবক। তারমধ্যে ছোটটির বয়স পাঁচ সপ্তাহ। সুখেই সংসার চলছিল। এমনকী শ্বশুর-শাশুড়ি নিয়ে এক সঙ্গে থাকতে সমস্যা হচ্ছিল বলে বছর দুই আগে শুভঙ্কর রামনগরের পার্শ্ববর্তী কামালপুরে বাড়ি ভাড়া করে স্ত্রীকে রাখেন। কিন্তু মাস ছ’য়েক হল মুনমুনের সঙ্গে শুভঙ্করের দূরত্ব বাড়তে থাকে। মুনমুন বলেন, ‘যখনই ফোন করি, ফোন ব্যস্ত থাকে। কথা বলার ধরনও যেন অন্য রকম মনে হয়।’
মুনমুনের বাপের বাড়ির পরিস্থিতিও এলোমেলো। দুই বোন এক ভাইয়ের মধ্যে দিদির বিয়ে হয়ে গিয়েছে। বাবা কয়েক বছর আগে মারা যাওয়ার পর মা আবার ওই গ্রামেরই বাসিন্দা এক যুবককে বিয়ে করে নেন। তাই ভাইও পড়াশোনা ছেড়ে দিয়ে ভিনরাজ্যে রেস্তরাঁয় কাজে চলে গিয়েছে। মুনমুন জানান, তাই সন্তান প্রসবের সময় তাঁর পাশে একজন মহিলার বলে স্বামীকে জানান। তখন তাঁর স্বামী খড়ার শহরের উদয়গঞ্জের বাসিন্দা মনি দিগারকে মুনমুনের সঙ্গে হাসপাতালে থাকার জন্য থাকার প্রস্তাব দেয়। মুনমুনের বিষয়টি ভালো ঠেকেনি। তাই সে মনিকে সঙ্গে রাখতে রাজি হয়নি। তিনি বলেন, ‘আমার পুত্র সন্তান হওয়ার খবর জানানোর কয়েক দিন পরেই স্বামী সেই মনিকে নিয়ে বেপাত্তা হয়ে যায়। সেই থেকে আমার ফোনও ধরেনি। এদিকে হাতে একটি টাকাও নেই। বাপের বাড়িতেও থাকার জায়গা নেই। সদ্যোজাত শিশুকে নিয়ে আমি অকূল পাথারে পড়ছি।’
এদিকে এক ছেলে ও এক মেয়েকে বাড়িতে রেখে স্ত্রী বেপাত্তা  শুনে মুম্বই থেকে তড়িঘড়ি বাড়ি ফিরেছেন মনির স্বামী পেশায় ফুড প্রোডাক্টস কোম্পানির কর্মী বিজয় দিগার। স্বামীর খোঁজ পেতে পেটে সিজারের দগদগে কাটা ঘা নিয়েই মুনমুন উদয়গঞ্জে গিয়ে বৃহস্পতিবার দেখা করেন তাঁর সঙ্গে। দুজনেই এখন কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যে যার সঙ্গীকে খুঁজে পেতে মরিয়া। তাঁরা থানায় গিয়ে পুলিসের সঙ্গে কথা বলছেন। আত্মীয়ের বাড়ি গিয়ে খোঁজখুঁজি শুরু করেছেন।  বিজয় বলেন, ‘আমি স্ত্রীকে খুব ভালোবাসি। তাছাড়া আমি বাইরে থাকি। তাই আমার সন্তানদের জন্য  মনিকে খুঁজে পেতেই হবে।’ 
সম্পর্কিত সংবাদ