Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সুন্দরবনের প্রত্যন্ত গ্রামের যুবকের সঙ্গে প্রতারণা

সুন্দরবনের প্রত্যন্ত গ্রামের যুবকের সঙ্গে প্রতারণা
  • ২৫ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: কাজ পেতে সুদূর সুন্দরবন থেকে রানাঘাটে এসে প্রতারিত হলেন এক বেকার যুবক। কার্যত না খেয়ে শীতের রাত কাটল রাস্তার ধারের মন্দিরে। রবিবার সকালে বিষয়টি নজরে আসে রানাঘাট ট্রাফিক পুলিসের। তাঁদের উদ্যোগেই বাড়ি ফেরানোর ব্যবস্থা করা হল আক্তার সরদার নামে ওই যুবকের। 
Advertisement
সুন্দরবনের প্রত্যন্ত গ্রামের চড়াঘাটা এলাকায় বাড়ি বছর তিরিশের আক্তারের। বাবার সঙ্গে সুন্দরবনের জঙ্গলে মধু সংগ্রহ এবং কাঠ কেটে চলে অভাবের সংসার। কিন্তু তাতে সংসারে চাকা আর গড়াচ্ছিল না। তাই অনেকদিন ধরেই বিকল্প আয়ের পথ খুঁজছিল আক্তার এবং তাঁর পরিবার। সেই সুযোগও চলে আসে সম্প্রতি। রানাঘাটের বাসিন্দা রাজেশ রায় নামে এক ব্যক্তি গিয়েছিল তাঁদের এলাকায়। সেখানেই আক্তারের বাবার সঙ্গে পরিচয় হয় তাঁর। আক্তারের বাবার থেকে প্রায় ২০ কেজি মধু নেয় রাজেশ নামের ওই ব্যক্তি। কিন্তু ১০ কেজির দাম দিলেও আক্তারের বাবাকে অভিযুক্ত জানায়, ছেলেকে আমার সঙ্গে রানাঘাট পাঠান। সেখানে বাকি দশ কেজি মধুর দাম দিয়ে দেব। সেইসঙ্গে আক্তারকে সেলাইয়ের কাজে লাগিয়ে বেতন দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেয়। ওই যুবকের বাবাকে রাজেশ জানায়, তার বড় সেলাইয়ের ব্যবসা আছে। অনেকদিন ধরেই বিকল্প আয়ের পথ খুঁজছিল ওই পরিবার। ছেলে কাজ পাবে এই আশায় আক্তারকে ছেড়েও দেন তার বাবা। রাজেশ নামে ওই ব্যক্তির সঙ্গে আক্তার শনিবার সকালে এসে পৌঁছন রানাঘাটে। অভিযোগ, দক্ষিণপাড়ার কাছে আক্তারকে বসিয়ে রাজেশ তার কাছ থেকে ওই ১০ কেজি মধু নিয়ে নেয়। সেই মধু এক জায়গায় দিয়ে ১০ মিনিটের মধ্যে আসছে বলে চম্পট দেয় অভিযুক্ত। ঘণ্টার পর ঘণ্টা সেখানে বসে থাকলেও রাজেশ আর আসেনি। মধুর দাম বাবদ প্রায় আড়াই হাজার টাকাও জোটেনি হতভাগ্য ওই যুবকের। তাঁর ঠাঁই হয় দক্ষিণপাড়ার একটি মন্দিরে। অনাহারে শনিবার গোটা দিন কাটে ওই যুবকের। শীতের রাতে কাবু হয়ে মন্দিরের সামনেই রাত কাটাতে হয় আক্তারকে। রবিবার সকালে, তার দুর্দশার কথা স্থানীয় বেশ কয়েকজন জানতে পারেন। তাঁরাই বিষয়টি জানান রানাঘাট ট্রাফিক পুলিসকে। এরপর ট্রাফিক পুলিসের উদ্যোগে অসহায় ওই যুবকের খাওয়া-দাওয়া এবং সুন্দরবনগামী গাড়িতে বাড়ি ফেরার ব্যবস্থা করা হয়। আক্তার বলেন, কাজ দেবে বলে ডেকে এনেছিল। ১০ কেজি মধুর দামও পাইনি। সারারাত না খেয়ে রাস্তায় পড়ে থাকতে হয়েছে।
সম্পর্কিত সংবাদ