সুখেন্দু পাল, বোলপুর: ২০২২ সালের ৫ আগস্ট, সময় বিকেল সাড়ে ৪টে। স্থান কালীমোহনপল্লি বিএলএলআরও অফিস। দুই দুষ্কৃতী পিস্তল হাতে ঢুকে সরাসরি পিস্তল ঠেকিয়ে দিল আধিকারিকের কপালে। তাদের কথা শুনতে হবে। কী সেই কথা? জমির রেকর্ড বদলে যাওয়ায় খতিয়ান নম্বর জানতে চেয়ে আরটিআই করা ব্যক্তিকে দেওয়া যাবে না কোনও তথ্য। সেই তথ্য ওই ব্যক্তির হাতে গেলে তিনি আইনি লড়াই লড়তে পারতেন। তাতে মাফিয়ারা সমস্যায় পড়ে যেত। তাই জমি হাঙরদের হয়ে সেই অস্ত্রধারী যুবক সেদিন শাসিয়ে ছিল অফিসারদের।
Advertisement
ওই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এক ব্যক্তি বলেন, যখন আধিকারিক সমস্ত কাগজপত্র তৈরি করছিলেন সেই সময়ই দু’জন আচমকা পিস্তল হাতে অফিসে ঢুকে যায়। শুধু হুমকি দিয়েই বেরিয়ে গিয়েছিল। ঘটনার কথা জানাজানি হওয়ায় গোটা রাজ্যের মানুষ জানতে পেরেছিল। কিন্তু এটাই বোলপুরের আসল ছবি। বোলপুরে একটা কথা চালু আছে, ‘হয় তাদের কথা শুনতে হবে, নয়তো পিস্তলের মোকাবিলা করতে হবেো’
এই পরিস্থিতিতে বোলপুরে জমি মাফিয়াদের ভয়ে সিঁটিয়ে থাকেন সরকারি আধিকারিকরা। রেকর্ড নিতে যাওয়া ওই ব্যক্তি বলেন, আমাকেও ওরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছিল। খুব ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। তবে হাল ছাড়িনি। লড়াই চালিয়ে যাচ্ছি।
ওই ঘটনার পর থেকে প্রশাসনিক মহলেও মাফিয়ারা ভয় ধরিয়ে দিতে সক্ষম হয়। এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের অনেকেই স্বচ্ছভাবে কাজ করতে চান। কিন্তু কর্মীদের একাংশ মাফিয়াদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে চলছে। তাদের হাত ধরেই জমির রেকর্ড বদলে যাচ্ছে। কেউ অর্থের বিনিময়ে, কেউ চাপে পড়ে এসব করছে। তবে শুধু ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়, সরকারি খাসজমির নকল কাগজ করে নিচ্ছে মাফিয়ারা।
বিএলএলআরও অফিসের সামনে দাঁড়িয়ে এক ব্যক্তি বলেন, বোলপুরে জমির চাহিদা অনেক আগেই বেড়েছে। আগে জমি বিক্রি করে অনেকে কমিশন নিত। অল্প কিছু দালালি পেলেই তারা খুশি হতো। কিন্তু এখন জমি কেড়ে নিচ্ছে। ওদের খিদে বেড়ে গিয়েছে। জমির কারবারে টাকা উড়ছে। তাই মস্তান থেকে রাজনীতির কারবারি সকলেই এই লাইনে ঢুকে যাচ্ছে। এখন জমি নিয়ে রীতিমতো মাফিয়াগিরি চলছে। জামবুনি, দুর্গাপুর রোড, বাইপাস সহ বিভিন্ন এলাকার জমি মলিকরা আতঙ্কে রয়েছেন। দালাল ছাড়া জমি বিক্রি করতেও পারছেন না। জমির দাম কী হবে, সেটা তারাই ঠিক করে দিচ্ছে। এই পরিস্থিতি বদল হওয়া দরকার। সর্ষের মধ্যে ভূত না থাকলে এভাবে জমির রেকর্ড বদল হতে পারে না। এই ঘুঘুর বাসা ভাঙা দরকার। মুখ্যমন্ত্রী চাইছেন দপ্তরের কাজে স্বচ্ছতা আসুক। কিন্তু তারপরও বোলপুরের জমি মাফিয়ারা বেপরোয়া। কারণ পিছনে রয়েছে কিছু রাজনৈতিক প্রভাবশালী।
বোলপুরের ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরে গিয়ে দেখা গেল, কয়েকজন দালাল অফিসের মধ্যে চরকির মতো ঘুরছে। তাদের দেখিয়ে একজন বললেন, এরাই সিন্ডিকেটের এজেন্ট। প্রভাবশালী যোগ থাকায় ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের আধিকারিকরা কিছুই বলতে পারেন না। এদের কারসাজিতেই বদলে যায় জমির রেকর্ড। আর একবার রেকর্ড বদলে গেলেও জমির প্রকৃত মালিকের কিছুই করার থাকে না। (চলবে)
এই পরিস্থিতিতে বোলপুরে জমি মাফিয়াদের ভয়ে সিঁটিয়ে থাকেন সরকারি আধিকারিকরা। রেকর্ড নিতে যাওয়া ওই ব্যক্তি বলেন, আমাকেও ওরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছিল। খুব ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। তবে হাল ছাড়িনি। লড়াই চালিয়ে যাচ্ছি।
ওই ঘটনার পর থেকে প্রশাসনিক মহলেও মাফিয়ারা ভয় ধরিয়ে দিতে সক্ষম হয়। এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের অনেকেই স্বচ্ছভাবে কাজ করতে চান। কিন্তু কর্মীদের একাংশ মাফিয়াদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে চলছে। তাদের হাত ধরেই জমির রেকর্ড বদলে যাচ্ছে। কেউ অর্থের বিনিময়ে, কেউ চাপে পড়ে এসব করছে। তবে শুধু ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়, সরকারি খাসজমির নকল কাগজ করে নিচ্ছে মাফিয়ারা।
বিএলএলআরও অফিসের সামনে দাঁড়িয়ে এক ব্যক্তি বলেন, বোলপুরে জমির চাহিদা অনেক আগেই বেড়েছে। আগে জমি বিক্রি করে অনেকে কমিশন নিত। অল্প কিছু দালালি পেলেই তারা খুশি হতো। কিন্তু এখন জমি কেড়ে নিচ্ছে। ওদের খিদে বেড়ে গিয়েছে। জমির কারবারে টাকা উড়ছে। তাই মস্তান থেকে রাজনীতির কারবারি সকলেই এই লাইনে ঢুকে যাচ্ছে। এখন জমি নিয়ে রীতিমতো মাফিয়াগিরি চলছে। জামবুনি, দুর্গাপুর রোড, বাইপাস সহ বিভিন্ন এলাকার জমি মলিকরা আতঙ্কে রয়েছেন। দালাল ছাড়া জমি বিক্রি করতেও পারছেন না। জমির দাম কী হবে, সেটা তারাই ঠিক করে দিচ্ছে। এই পরিস্থিতি বদল হওয়া দরকার। সর্ষের মধ্যে ভূত না থাকলে এভাবে জমির রেকর্ড বদল হতে পারে না। এই ঘুঘুর বাসা ভাঙা দরকার। মুখ্যমন্ত্রী চাইছেন দপ্তরের কাজে স্বচ্ছতা আসুক। কিন্তু তারপরও বোলপুরের জমি মাফিয়ারা বেপরোয়া। কারণ পিছনে রয়েছে কিছু রাজনৈতিক প্রভাবশালী।
বোলপুরের ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরে গিয়ে দেখা গেল, কয়েকজন দালাল অফিসের মধ্যে চরকির মতো ঘুরছে। তাদের দেখিয়ে একজন বললেন, এরাই সিন্ডিকেটের এজেন্ট। প্রভাবশালী যোগ থাকায় ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের আধিকারিকরা কিছুই বলতে পারেন না। এদের কারসাজিতেই বদলে যায় জমির রেকর্ড। আর একবার রেকর্ড বদলে গেলেও জমির প্রকৃত মালিকের কিছুই করার থাকে না। (চলবে)



