Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সন্ধ্যার পর যাতায়াতে সমস্যা, কান্দি-সালার নাইট সার্ভিস বাসের দাবিতে সরব যাত্রীরা

সন্ধ্যার পর যাতায়াতে সমস্যা, কান্দি-সালার নাইট সার্ভিস বাসের দাবিতে সরব যাত্রীরা
  • ২৮ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, কান্দি: ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনও সমস্যা নেই। কিন্তু সন্ধ্যার পর সবকিছুই নাগালের বাইরে চলে যায়। মুর্শিদাবাদের সালার স্টেশন থেকে বাড়ি পৌঁছতে দ্বিগুণ-তিনগুণ খরচ করতে হয়। বেশি ভাড়া দিলেও অটো, টোটো ও ছোট গাড়ির উপর ভরসা করতে হয়। সন্ধ্যার পর ওই এলাকায় ওইসব যানবাহনের দাপট চলে। সেকারণে যাত্রীরা ফের কান্দি-সালার নাইট সার্ভিস বাসের দাবিতে সরব হয়েছেন।
Advertisement
পূর্ব রেলের কাটোয়া-আজিমগঞ্জ শাখার সালার রেল স্টেশন সবসময় জমজমাট থাকে। কান্দি মহকুমার যাত্রীদের এই স্টেশনে নেমেই বাড়ি ফিরতে হয়। তাই প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী ওই স্টেশনে ওঠানামা করেন। ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত যাত্রীদের তেমন সমস্যা না হলেও সন্ধ্যার পর বাড়ি ফেরার খরচ বেড়ে যায়। সন্ধ্যার পর থেকে ওই স্টেশনে হাওড়া ও শিয়ালদহ থেকে কয়েকটি লোকাল ও এক্সপ্রেস ট্রেন দাঁড়ায়। যেসব যাত্রী কর্মসূত্রে কলকাতা যান তাঁরা ওইসব ট্রেনেই বাড়ি ফেরেন। ফলে রাতের দিকেও প্রচুর যাত্রী স্টেশনে ওঠানামা করেন। কিন্তু সালার স্টেশনে নামার পরই তাঁদের যাতায়াত করতে সমস্যায় পড়তে হয়। বাড়ি ফিরতে কয়েকগুণ খরচ বেড়ে যায়।
যাত্রীরা জানান, সন্ধ্যা ৬টা ৪০মিনিটে আপ মালদহ টাউন এক্সপ্রেস সালার স্টেশনে দাঁড়ায়। সেইসময় কান্দি ও গীতগ্রাম ফেরার জন্য দু’টি বেসরকারি যাত্রীবাহী বাস পাওয়া যায়। এরপর কোনও রুটেই আর বাস পরিষেবা থাকে না। যাত্রীদের ভরসা বিনা পারমিটের অটো, টোটো ও ছোট চারচাকা গাড়ি। সন্ধ্যার পর সেগুলিতে ভাড়াও নির্দিষ্ট নেই। কান্দির যাত্রী সমীরণ কুণ্ডু বলেন, গত কয়েক বছর ধরে এই সমস্যা চলছে। দিনেরবেলায় ৩৫টাকা ভাড়া লাগলেও সন্ধ্যার পর ৮০-১০০ টাকা দিতে হয়। সন্ধ্যার পর অটো ও টোটো ছাড়া উপায় থাকে না। কান্দির মুদি ব্যবসায়ী আজফর মিয়া বলেন, শুধু যে ভাড়া কয়েকগুণ বেশি লাগছে সেটাই নয়। যতক্ষণ না একই রুটের বেশ কয়েকজন যাত্রী পাওয়া যাচ্ছে ততক্ষণ সালার স্টেশন চত্বরেই অপেক্ষা করতে হয়।
যাত্রীদের আরও অভিযোগ, সালার থেকে কান্দি যাওয়ার জন্য অটোয় ওঠার পর মাঝ রাস্তায় যাত্রী নেমে গেলে সেখান থেকেই ফের অটো সালারের দিকে ঘুরিয়ে নেওয়া হয়। অটোয় একজন বা দু’জন যাত্রী থাকলে এমন পরিস্থিতি হয়। সেক্ষেত্রে ওই দু’-একজন যাত্রীকে ফের অন্য জায়গায় অপেক্ষা করতে হয় আর একটি অটো ধরার জন্য। সেকারণে ট্রেন যাত্রীরা কান্দি-সালার নাইট সার্ভিস বাস পরিষেবার দাবি তুলেছেন। প্রসঙ্গত, প্রায় ১৫বছর আগে নাইট সার্ভিস বাসের পরিষেবা চালু ছিল। এবিষয়ে কান্দি বাস মালিক কল্যাণ ইউনিয়নের সম্পাদক সঞ্জীব চক্রবর্তী বলেন, দিনেরবেলা বাস চালিয়েও লোকসান হচ্ছে। নাইট সার্ভিস পরিষেবা দেওয়ার কথা আমরা বিবেচনা করতে পারছি না। সালার অটো ইউনিয়নের সদস্য মোজাফ্ফর শেখ বলেন, গোটা রাত জেগে অটোচালকরা যাত্রীদের নিরাপদে বাড়ি পৌঁছে দেন। ওইসময় খুব একটা যাত্রীও পাওয়া যায় না। কাজেই যাত্রীদের সামান্য ভাড়া বেশি দিতে হয়।
সম্পর্কিত সংবাদ