Bartaman Logo
১০ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / হেলথ

সাপের উপদ্রব বেড়েছে, সর্পাঘাতে মৃত্যুর হার কমানোই চিকিৎসকদের কাছে চ্যালেঞ্জ

বর্ষা নামতেই এবার সাপের উপদ্রব প্রচুর বেড়েছে। মাঠ-ঘাটে বা বাড়িতে, বাড়ির আশপাশে সাপের গতিবিধি বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

সাপের উপদ্রব বেড়েছে, সর্পাঘাতে মৃত্যুর হার কমানোই চিকিৎসকদের কাছে চ্যালেঞ্জ
  • ১০ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বহরমপুর: বর্ষা নামতেই এবার সাপের উপদ্রব প্রচুর বেড়েছে। মাঠ-ঘাটে বা বাড়িতে, বাড়ির আশপাশে সাপের গতিবিধি বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। গত মাসেই মুর্শিদাবাদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সাপের ছোবলে প্রায় পনেরো জন রোগীর মৃত্যু হয়েছে। জেলার মহকুমা হাসপাতাল, সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল, ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলিতে সর্পাঘাতে মৃত্যুর পরিসংখ্যানে চিকিৎসক মহল উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। সর্পাঘাতে মৃত্যু কমিয়ে আনাই এখন চিকিৎসকদের কাছে চ্যালেঞ্জ। আর তারজন্য বেশ কয়েকটি পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। 

Advertisement

মুর্শিদাবাদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধ্যক্ষ অনাদি রায়চৌধুরী বলেন, সর্পাঘাতে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে। এটা যথেষ্ট উদ্বেগের। বর্ষায় চলাফেরায় সাবধানতা অবলম্বন ছাড়া সাপের ছোবল থেকে বাঁচতে বিকল্প কোন পথ নেই। কৃষকদের গাম বুট পড়ে মাঠে নামার পরামর্শ দেব। যাঁরা পাটের জাঁক দেওয়া বা পাটের আঁশ ছাড়াচ্ছেন তাদেরও সতর্ক হয়ে কাজ করতে বলব। বাড়ি এবং বড়ির আশপাশের জঙ্গল পরিষ্কার করে রাখতে হবে। বাড়ি এবং আশপাশে কোনো গর্ত রাখা চলবে না। বিশেষ করে মনে রাখতে হবে সাপে কাটা রোগীকে ওঝার কাছে নিয়ে গিয়ে অযথা সময় নষ্ট না করে এক থেকে দেড় ঘন্টার মধ্যে নিকটতম সরকারি হাসপাতালে আনতে হবে। তাতে চিকিৎসকরা গোল্ডেন সময়ের মধ্যে চিকিৎসার সুযোগ পাবেন। শোওয়ার আগে বিছানা ঝেড়ে মশারি টাঙিয়ে চারদিক গুঁজেই ঘুমোতে যান।
সাপ মানেই যেকোন মানুষের কাছে শরীর হিম করা আতঙ্কের সামিল। তা সে বিষধর হোক বা বিষহীন। সাপ দেখলেই মানুষ স্বাভাবিক প্রতিবর্ত ক্রিয়ায় আঁতকে ওঠেন। বর্ষায় এই সাপের উপদ্রব প্রচুর বাড়ে। এবার সাপের উপদ্রব এবং সর্পাঘাতে মৃত্যুর সংখ্যা অন্যান্য বছরের তূলনায় অনেক বেশি বলে দাবি চিকিৎসকদেএ। এবার কেউটে, কালাচ, চন্দ্রবোড়া, শঙ্খচিতির বাড়বাড়ন্ত প্রচুর। বিশেষ করে চন্দ্রবোড়ার আতঙ্ক সব থেকে বেশি। সর্প বিষারদদের দাবি, চন্দ্রবোড়া কুন্ডলি পাকিয়ে শিকার ধরার জন্য ওৎ পেতে থাকে। মাটির কম্পন অনুভব করেই স্প্রিংয়ের মতো নির্দিষ্ট নিশানায় শিকারের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। অন্যান্য বিষধর সাপ প্রাণভয়ে বা আঘাত পেলেই আক্রমণে যায়। চন্দ্রবোড়ার সহজাত প্রবৃত্তি এই সব সাপের থেকে কিছুটা আলাদা। বিষের তীব্রতাও অনেক। চন্দ্রবোড়ার ছোবলে আক্রান্তকে এক থেকে দেড় ঘন্টার মধ্যে হাসপাতালে আনতে হবে। সঠিক চিকিৎসায় অনেক সময় রোগীকে বাঁচানো সম্ভব হলেও বহু ক্ষেত্রে দেখা যায় রোগীর আক্রান্ত অংশে পচন ধরতে শুরু করেছে। কালপেঁচা, বাজপাখির মতো শিকারি পাখির সংখ্যা কমে যাওয়ায় পাহাড়ি এলাকার চন্দ্রবোড়ার সংখ্যা এখন সমতলে প্রচুর বেড়েছে। চন্দ্রবোড়ার আত্মঙ্কে চাষিরা মাঠে নামতে ভয় পাচ্ছেন। তবে গামবুট পরে মাঠে গেলে নিরাপত্তা বাড়ে। সর্পবিদদের বক্তব্য, চন্দ্রবোড়া সাধারণত শরীরের নিচের দিকে হামলা করে। গাম বুট থাকলে ক্ষতি করতে পারেনা। সর্পবিদদের আরও দাবি, সাপ নিজে গর্ত করতে পারেনা। ইঁদুর বা অন্য জীবজন্তুর তৈরি করা গর্তেই আশ্রয় নিয়ে থাকে। ফলে ঘরের ভিতর বা বাড়ির আশপাশে কোনো অবাঞ্ছিত গর্ত থাকলে সেগুলি ইট, পাথর, শক্ত মটি দিয়ে বুজিয়ে দিতে হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ