নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এ এক অভাবনীয় ঘটনা। আর জি কর মেডিকেল কলেজে এ দৃশ্য কেউ কবে দেখেছেন, মনেই করতে পারছিলেন না। এক বৃদ্ধার ডানদিকের ফুসফুস শরীরের বাইরে ঝুলছে। সেই অবস্থায় তাঁকে আনা হয়েছে ট্রমা ইমার্জেন্সিতে!
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এ এক অভাবনীয় ঘটনা। আর জি কর মেডিকেল কলেজে এ দৃশ্য কেউ কবে দেখেছেন, মনেই করতে পারছিলেন না। এক বৃদ্ধার ডানদিকের ফুসফুস শরীরের বাইরে ঝুলছে। সেই অবস্থায় তাঁকে আনা হয়েছে ট্রমা ইমার্জেন্সিতে!
ঘটনাটি শুক্রবারের। বারাসতের দত্তপুকুরের বাঁদু-চণ্ডীগড়ি এলাকার বাসিন্দা মালতী ঘোষ (৭৯) বাড়ির দোতলা থেকে নীচে পড়ে যান। তাতে বুকের খাঁচায় এতটাই আঘাত লাগে, সেখান থেকে ডান দিকের ফুসফুস, কিছুটা হাড়, মাংসপেশি বাইরে বেরিয়ে আসে। রোগিণীর নাতি দেবরাজ ঘোষ বললেন, ‘প্রথমে আমরা স্থানীয় চিকিৎসককে দেখাই। তিনি বলেন, এর চিকিৎসা তাঁর পক্ষে করা অসম্ভব। তারপর নিয়ে যাই বারাসত মেডিকেল কলেজে। তারা প্রাথমিক চিকিৎসা করে জানিয়ে দেয়, তাদের পক্ষে এর থেকে বেশি কিছু করা অসম্ভব। অন্যত্র নিয়ে যান। সময় নষ্ট করবেন না। তাহলে উনি বাঁচবেন না। তারপর নিয়ে যাই আর জি কর হাসপাতালে। অসম্ভব দ্রুততার সঙ্গে তারা ঠাকুমার চিকিৎসা শুরু করেন। অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যায়। এখন উনি আইসিইউতে আছেন। আগের থেকে অনেকটা ভালো। তাও যতক্ষণ না জেনারেল বেডে পাঠানো হচ্ছে, নিশ্চিন্ত হতে পারছি না।’ মালতীদেবীর অপারেশন করেছিলেন এখানকার কার্ডিওথোরাসিক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডাঃ রাজর্ষি বসু। বললেন, আউটডোরে রোগী দেখছিলাম। সার্জারি বিভাগের চিকিৎসকদের ফোন পেয়ে ট্রমাতে গিয়ে দেখি এক রোগিণীর এই অবস্থা! বুকের পাঁজরের ক্ষতস্থান থেকে ডান ফুসফুস বেরিয়ে এসেছে। দেরি না করে ওটিতে নিয়ে যাই। প্রথমে তো অ্যানসথেসিয়াই দেওয়া যাচ্ছিল না। ধীরে ধীরে তা সম্পন্ন হলে, বেরিয়ে থাকা ফুসফুসটি স্যালাইন দিয়ে দীর্ঘক্ষণ ধুয়ে জীবাণুমুক্ত করি। তারপর অপারেশন করে সেটি এবং বেরিয়ে থাকা মাসল ও অন্যান্য অংশ আবার যথাস্থানে স্থাপন করি।
কিন্তু কীভাবে হল এই ঘটনা? রোগিণীর নাতি যা বললেন, তা যে কোনও গল্প কাহিনিকেও হার মানাবে! শনিবার সন্ধ্যায় দেবরাজ বললেন, ঠাকুমার মানসিক সমস্যা আছে। আমাদের দোতলা বাড়ির একতলায় দুটি এবং দোতলায় একটি ঘর। দোতলার ঘরটিতে ঠাকুমা থাকেন। কিন্তু উনি ঘরে ওঠেন এক অদ্ভূত কায়দায়। বাড়ির পিছনে সুপারি গাছের সারি আছে। সিঁড়ি এড়িয়ে গাছ বেয়ে তিনি বাড়ির দোতলায় অ্যাসবেসটসে ওঠেন। তারপর জানলা দিয়ে ঘরে ঢোকেন। শুক্রবার খুব ভোরে হঠাৎ ধুপ করে একটা আওয়াজে ঘুম ভেঙে যায়। দেখি, ঠাকুমা পড়ে আছেন নীচে। শরীরে একটা কাটা দাগ আবছা দেখলাম যেন। বাড়ির বাকিদের ডাকতে যাব, ততক্ষণে ওই অবস্থায় ফের সুপারি গাছ বেয়ে দোতলায় উঠে গিয়েছেন ঠাকুমা। তারপর ওর কাছে গিয়ে দেখি, ডান ফুসফুসটা বেরিয়ে এসেছে ক্ষতস্থান থেকে।