Bartaman Logo
২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / হেলথ

স্বাস্থ্যভবনের কড়া দাওয়াই, কম ওজনের শিশুদের বাঁচানোই চ্যালেঞ্জ মেডিকেলের

শিশুমৃত্যু রুখতে স্বাস্থ্যভবনের কড়া দাওয়াই। কম ওজনের শিশুদের এখন বাঁচানোই চ্যালেঞ্জ মালদহ মেডিকেলের। শিশু বিভাগে বাড়ানো হল চিকিৎসক ও নার্সদের ডিউটি।

স্বাস্থ্যভবনের কড়া দাওয়াই, কম ওজনের শিশুদের বাঁচানোই চ্যালেঞ্জ মেডিকেলের
  • ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদহ: শিশুমৃত্যু রুখতে স্বাস্থ্যভবনের কড়া দাওয়াই। কম ওজনের শিশুদের এখন বাঁচানোই চ্যালেঞ্জ মালদহ মেডিকেলের। শিশু বিভাগে বাড়ানো হল চিকিৎসক ও নার্সদের ডিউটি। আগস্টে মালদহ মেডিকেলে ৮৯টি শিশুর মৃত্যু হয়। চলতি মাসে শিশু মৃত্যুর সংখ্যা ইতিমধ্যেই ৬০ ছুঁয়েছে। দেখা যাচ্ছে, কম ওজন নিয়ে জন্মগ্রহণ করা শিশুদের মৃত্যুর হার বেশি। এনিয়ে স্বাস্থ্যভবনের তরফে মালদহ মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, দু’কেজির কম ওজনের শিশুদেরও যাতে বাঁচানো যায়, তার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। সেইসঙ্গে কেন নবজাতকদের লো বার্থ ওয়েট হচ্ছে, তার কারণ খুঁজে বের করে সমাধানে উদ্যোগ নিতে হবে। কোনোভাবেই দায় এড়ানো চলবে না। মালদহ মেডিকেলের এমএসভিপি গণেশচন্দ্র গায়েন বলেন, দু’কেজির কম ওজনের শিশুদের যাতে বাঁচানো যায়, তার চেষ্টা করছি আমরা। এজন্য শিশু বিভাগে চিকিৎসক ও নার্সদের ডিউটি বাড়ানো হয়েছে। লো বার্থ ওয়েটের নবজাতকদের বাঁচানোর ক্ষেত্রে দু›টি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। প্রথমত, সংক্রমণ ঠেকানো। দ্বিতীয়ত, শরীরের তাপমাত্রা বজায় রাখা। দু’টি দিকেই বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে। কম ওজনের শিশুদের শ্বাসনালি পরিষ্কার রাখা অত্যন্ত জরুরি। সেইসঙ্গে শিশুকে ওয়ার্মারে রেখে তার তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করাও গুরুত্বপূর্ণ। এগুলি যাতে ঠিকভাবে হয়, তা দেখা হচ্ছে। শুধুমাত্র মেডিকেল অফিসারের উপর ভরসা নয়, পোস্ট গ্রাজ্যুয়েট ট্রেনিদের (পিজিটি) বেশি করে শিশু বিভাগে ডিউটি দেওয়া হচ্ছে। কম ওজনের শিশু জন্ম নেওয়ার পিছনে টিনেজ প্রেগন্যান্সি একটা অন্যতম কারণ বলে দাবি মালদহ মেডিকেলের এমএসভিপির। বলেন, অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, ১৫-১৬ বছর বয়সে মা হয়ে যাচ্ছে। ফলে তার সন্তানকে বাঁচানো যাচ্ছে না। আঠারো বছর না হতেই অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ার কারণে ঝামেলায় পড়ার আশঙ্কায় অনেকে হাসপাতালে ডাক্তার দেখাতে আসছে না। বাড়িতে আশাকর্মীরা গেলেও তাঁদের সঠিক তথ্য দেওয়া হচ্ছে না। ফলে ঝুঁকি বাড়ছে বিপদের। 

Advertisement

টিনেজ প্রেগন্যান্সির ক্ষেত্রে এখন সঙ্গে সঙ্গে জেলা প্রশাসন ও পুলিশকে খবর পাঠানো হচ্ছে বলে মেডিকেল কলেজ সূত্রে খবর। যার কারণে অনেকেই সরাসরি হাসপাতালে ভর্তি না হয়ে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা নার্সিংহোমে সন্তান প্রসবের জন্য ভর্তি হচ্ছে। কিন্তু পরিস্থিতি যখন হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে, তখন চরম সংকটাপন্ন অবস্থায় নবজাতককে সেই নার্সিংহোম থেকে রেফার করে দেওয়া হচ্ছে মালদহ মেডিকেলে। ফলে শেষপর্যন্ত সেই শিশুকে আর বাঁচানো সম্ভব হচ্ছে না। ইংলিশবাজার শহর সহ গোটা জেলায় পরিকাঠামোহীন এইসব বেসরকারি নার্সিংহোমের বিরুদ্ধে শীঘ্রই পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছেন বিজেপি বিধায়ক তথা বিধানসভার মুখ্য সচেতক অম্লান ভাদুড়ি। তিনি বলেন, আগের সরকারের আমলে বহু নার্সিংহোম তৈরি হয়েছে, সেগুলি সব নিয়ম মেনে চলছে কি না খতিয়ে দেখতে বৈঠকে বসব। অভিযানও চালানো হবে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ