নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কেন্দ্রীয় ড্রাগ কন্ট্রোলের কড়া বিধান—স্বেচ্ছায় রক্তদান শিবিরে দাতার হিমোগ্লোবিন পরীক্ষা করতে হবে। দাতা এবং গ্রহীতার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এই কাজ করতেই হবে। তবে সেই বিধানকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে হিমোগ্লোবিন পরীক্ষা ছাড়াই হচ্ছে শিবির। এবং তা হচ্ছে সেন্ট্রাল ব্লাড ব্যাঙ্ক সহ সরকারি ব্লাড ব্যাঙ্ক আয়োজিত শিবিরেই! এ যেন সর্ষের মধ্যেই ভূত।
এরকম একের পর এক উদাহরণ আছে। ২ আগস্ট বেলঘরিয়ায় রক্তদান শিবিরের আয়োজন করেছিল রাজ্যের সর্ববৃহৎ সরকারি ব্লাড ব্যাঙ্ক মানিকতলার সেন্ট্রাল ব্লাড ব্যাঙ্ক। ওই দিন অশোকনগরেও একটি শিবিরের আয়োজন করেছিল তারা। সেটি শাসক দলের যুব মোর্চার শিবির। ৩ আগস্টে গাইঘাটায় একটি রক্তদান শিবিরের আয়োজন করেছিল বনগাঁ এবং সেন্ট্রাল ব্লাড ব্যাঙ্ক। ৭আগস্ট উলুবেড়িয়ায় শিবির করেছিল সেন্ট্রাল ব্লাড ব্যাঙ্ক। রাজ্যের বৃহত্তম এবং এশিয়ার প্রাচীনতম এই ব্লাড ব্যাঙ্ক ৮আগস্ট দেগঙ্গায় আয়োজন করেছিল শিবিরের। এই শিবিরগুলির একটিতেও রক্তদাতার হিমোগ্লোবিন পরিমাপ করা হয়নি বলে অভিযোগ। বিষয়টি আইনবিরুদ্ধ।
স্বেচ্ছা রক্তদান আন্দোলনের অন্যতম যোদ্ধা ওয়েস্ট বেঙ্গল ভলান্টারি ব্লাড ডোনার্স ফোরামের সাধাণ সম্পাদক অপূর্ব ঘোষ বলেন, ‘শুধু এখন নয়, বছরের পর বছর ধরে সরকারি ব্লাড ব্যাঙ্ক আয়োজিত শিবিরে এই গর্হিত কাজ হয়েই চলেছে। এখন নিমেষে এই পরীক্ষা হয়ে যায়। খরচও তেমন কিছু বেশি নয়। তাহলে সমস্যা কোথায়? মুখ্যমন্ত্রী এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন, অবিলম্বে রক্তদাতা এবং গ্রহীতার সুরক্ষার কথা ভেবে এই পরীক্ষা করা হোক। আইনরক্ষা হোক।’ স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণস্বরূপ নিগম বলেন, ‘দ্রুত এ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহণ করতে বলা হচ্ছে।’ এ নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়কে একাধিকবার ফোন করা হলেও কোনো প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
প্রশ্ন উঠতে পারে হিমোগ্লোবিন পরীক্ষা এত জরুরি কেন? বিশিষ্ট হেমাটোলজিস্ট ডাঃ প্রান্তর চক্রবর্তী বলেন, ‘ভারতীয় পুরুষ এবং মহিলাদের আদর্শ হিমোগ্লোবিন থাকা উচিত ১৩ এবং ১২। হিমোগ্লোবিন কম থাকলে সেই ব্যক্তি যদি রক্তদান করেন তাঁর অ্যানিমিয়া আরও বাড়াবাড়ি জায়গায় চলে যেতে পারে। এমনকী ১০’য়ের নীচে হিমোগ্লোবিন থাকা মানুষ রক্তদান করলে তাঁর হার্টে চাপ পড়া, হার্ট ফেলিওরের মতো প্রাণঘাতী সমস্যাও হতে পারে। আর হিমোগ্লোবিন বাড়ানোই যেখানে উদ্দেশ্য সেখানে কম হিমোগ্লোবিন থাকা দাতার রক্ত গ্রহীতা গ্রহণ করলে তাঁর কাজের কাজ কিছুই হয় না। এ রক্তদান বৃথা যায়।