Bartaman Logo
৯ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / হেলথ

পশ্চিম মেদিনীপুরে কিশোরীদের এইচপিভি টিকাকরণে সংশয়ে অভিভাবকদের একাংশ

আজকের ছোট্ট একটি সিদ্ধান্তই হয়তো আগামী দিনের বড় বিপদ থেকে রক্ষা করতে পারে। কন্যাসন্তানের সুস্থ ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে তাই জরায়ু মুখের ক্যানসার প্রতিরোধে জোর দেওয়া হচ্ছে হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (এইচপিভি) টিকাকরণে।

পশ্চিম মেদিনীপুরে কিশোরীদের এইচপিভি টিকাকরণে সংশয়ে অভিভাবকদের একাংশ
  • ৯ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: আজকের ছোট্ট একটি সিদ্ধান্তই হয়তো আগামী দিনের বড় বিপদ থেকে রক্ষা করতে পারে। কন্যাসন্তানের সুস্থ ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে তাই জরায়ু মুখের ক্যানসার প্রতিরোধে জোর দেওয়া হচ্ছে হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (এইচপিভি) টিকাকরণে। তবে এই টিকাকরণ অভিযান ঘিরে সাধারণ মানুষের একাংশের মধ্যে এখনও নানা প্রশ্ন রয়েছে। এই টিকা নিলে কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হবে কি না, আদৌ এই টিকা নেওয়া কতটা নিরাপদ—এমন নানা সংশয় ঘুরছে অভিভাবকদের মনে। সেই সংশয় দূর করতে এবার সচেতনতার বার্তা দিচ্ছে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা প্রশাসন ও পুলিশ।

Advertisement

চলতি বছরের ৩১ মে থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত দেশজুড়ে চলা এইচপিভি টিকাকরণ অভিযানে ১৪–১৫ বছর বয়সি কিশোরীদের এই টিকা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারি উদ্যোগে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে টিকা দেওয়া হচ্ছে। জেলার বিভিন্ন সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং নির্ধারিত স্কুলভিত্তিক টিকাকরণ কেন্দ্রে মিলছে এই পরিষেবা। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, নির্ধারিত বয়সের মধ্যে থাকা সব মেয়েকে এই টিকাকরণের আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জরায়ুমুখের ক্যানসারের প্রায় সব ক্ষেত্রের সঙ্গেই উচ্চ-ঝুঁকির এইচপিভি সংক্রমণের সম্পর্ক রয়েছে। মূলত যৌন সংক্রমণের মাধ্যমে ছড়ানো এই ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে টিকাকরণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। তাই ভবিষ্যতে জরায়ুমুখের ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতেই কম বয়সে এই টিকা দেওয়ার উদ্যোগ। জেলা প্রশাসনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিম মেদিনীপুরে ১৪–১৫ বছর বয়সি প্রায় ৩২ হাজার মেয়েকে এই টিকাকরণের আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। ইতিমধ্যেই প্রায় ১৯ হাজার কন্যাসন্তানকে টিকা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বাকিদেরও দ্রুত টিকাকরণের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। জেলাশাসক বিজিন কৃষ্ণা ও পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা বলেন, আমাদের জেলাতেও এইচপিভি টিকাকরণ ক্যাম্পেইন চলছে। অভিভাবকদের কাছে আবেদন, বাড়িতে ১৪–১৫ বছর বয়সি কন্যা সন্তান থাকলে তাঁদের অবশ্যই এই টিকা দিন। কোনো গুজবে কান দেবেন না। পশ্চিম মেদিনীপুরের মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক (সিএমওএইচ) সৌম্যশঙ্কর ষড়ঙ্গী বলেন, নিয়ম মেনেই সবাই ভ্যাকসিন নিন। জেলার মানুষের পাশে স্বাস্থ্য দপ্তর সর্বদা থাকবে। স্বাস্থ্য দফতরের নির্দেশ অনুযায়ী, টিকা নেওয়ার আগে অভিভাবকের সম্মতি প্রয়োজন। টিকা দেওয়ার পর প্রায় ৩০ মিনিট পর্যবেক্ষণে রাখা হয় কিশোরীদের।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ