Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বর্ষায় বাড়ছে সাপের উপদ্রব, জুন মাসে বনগাঁ হাসপাতালে ভর্তি ১১০ আক্রান্ত

গত তিন মাসে বনগাঁ হাসপাতালে ভর্তি হওয়া সাপে কামড়ানো রোগীর সংখ্যা দেখে সেটাই স্পষ্ট হচ্ছে

বর্ষায় বাড়ছে সাপের উপদ্রব, জুন মাসে বনগাঁ হাসপাতালে ভর্তি ১১০ আক্রান্ত
  • ২১ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বনগাঁ: বর্ষা শুরু হতেই বেড়েছে সাপের উপদ্রব। গত তিন মাসে বনগাঁ হাসপাতালে ভর্তি হওয়া সাপে কামড়ানো রোগীর সংখ্যা দেখে সেটাই স্পষ্ট হচ্ছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, এপ্রিল থেকে জুন মাস পর্যন্ত ৩১০ জন সাপের ছোবলে আক্রান্ত হয়ে বনগাঁ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তার মধ্যে শুধুমাত্র জুন মাসেই ১১০ জন সাপের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে এসেছেন। জুলাই মাসে সেই সংখ্যাটা অনেকটাই বাড়বে বলে মনে করছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। হাসপাতাল সূত্রে খবর, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বিষধর সাপে কামড়েছে আক্রান্তদের। যদিও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। সকলেই সুস্থ হয়ে বাড়ি গিয়েছেন।

Advertisement

স্থানীয়দের দাবি, বর্ষার মরশুমে প্রতিবছর সাপের উপদ্রব বাড়ে। এবছর বর্ষা বেশি হওয়ায় সাপের উপদ্রব ব্যাপক হারে বেড়েছে বনগাঁয়। বনগাঁ শহরের মধ্যে দিয়ে বয়ে যাওয়া ইছামতী নদী কচুরিপানা, কচুবন ও আগাছায় ভরা। নদীর দুপাশ দিয়ে বিষধর চন্দ্রবোরা সাপের আনাগোনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অনেক সময় নদী পারের বাসিন্দাদের ঘরে ঢুকে পড়ছে বিষধর সাপ। এছাড়া গোখরো, দাঁড়াস, জলঢোড়া সাপের আনাগোনা বেড়েছে। যা বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করেছে।
বনগাঁ মহকুমার বনগাঁ, গোপালনগর, পাল্লা, নহাটা, চাঁদপাড়া, বাগদা প্রভৃতি এলাকা থেকে রোগীরা বনগাঁ হাসপাতালে আসেন চিকিৎসার জন্য। ব্লকে একাধিক গ্রামীণ স্বাস্থ্য কেন্দ্র থাকলেও সেখানে অনেক সময় অ্যান্টি ভেনম সিরামের (এভিএস) অভাব দেখা দেয়। ফলে তাঁদের ভরসা করতে হয় বনগাঁ সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের উপর।
বনগাঁ হাসপাতালে পর্যাপ্ত অ্যান্টি ভেনম সিরাম থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বলে জানা গিয়েছে। 
হাসপাতাল সুপার কৃষ্ণচন্দ্র বড়াই বলেন, ‘হাসপাতালে সাপে কাটা রোগীর সংখ্যা অনেকটাই বেড়েছে। মানুষের মধ্যে সচেতনতা বেড়েছে। আগে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অনেক দেরিতে সাপে কাটা রোগীকে হাসপাতালে আনা হতো। এখন দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করায় সুস্থ হয়ে উঠছেন রোগীরা।’ পশ্চিমবঙ্গ যুক্তিবাদী মঞ্চের রাজ্য সম্পাদক প্রদীপ সরকার বলেন, ‘মানুষ সাপে কামড়ালে হাসপাতালমুখী হচ্ছে এটা খুবই ভালো দিক। তবে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষকে আরও সচেতন করে তুলতে হবে।’  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ