সংবাদদাতা, কান্দি: টানা চারদিন ধরে জলবন্দি হয়ে রয়েছে কান্দি ব্লকের সালেপুর গ্রাম। মূল এলাকার সঙ্গে বিচ্ছিন্ন হয়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। তারমধ্যেই তিনদিন ধরে বিদ্যুৎহীন রয়েছে গ্রাম। তাতেই সমস্যা কয়েকগুণ বেড়ে গিয়েছে। ঘরের মধ্যে ঢুকে পড়ছে পোকামাকড় ও বিষধর সাপ। প্রাণে বাঁচতে পরিবার পিছু একজন করে রাত পাহারা দিয়ে সাপ তাড়াচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, হিজল পঞ্চায়েতের ওই গ্রামে রয়েছে প্রায় ৩০০টি পরিবার। ভোটার সংখ্যা প্রায় ৯৫০। গ্রামের বেশিরভাগ মানুষের জীবিকা কৃষিকাজ। পাকা ও মাটিরবাড়ি দু’টোই রয়েছে গ্রামে। গত বুধবার সন্ধ্যায় ওই গ্রামের কাছাকাছি দ্বারকা নদের বাঁধ ভেঙে যায়। জল ঢুকে হিজল পঞ্চায়েতের কয়েকটি গ্রামের মাঠ জলমগ্ন হয়ে পড়ে। সালেপুর গ্রামের চারপাশ প্লাবিত। বাসিন্দাদের বাড়ি থেকে বের হওয়াটা সমস্যার হয়ে দাঁড়িয়েছে। একমাত্র নৌকাই তাঁদের ভরসা।
তবে সমস্যা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে বিদ্যুতের অভাব। বাসিন্দারা জানিয়েছেন, বুধবার সন্ধ্যায় বাঁধ ভাঙার পরেও সারারাত গ্রামে বিদ্যুৎ ছিল। কিন্তু, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। এরপর আর বিদ্যুৎ আসেনি। বিদ্যুৎ দপ্তরকে বারবার জানিয়েও সমস্যা মেটেনি। স্থানীয় বাসিন্দা তুরষাউল শেখ বলেন, বিদ্যুৎ না থাকার কারণে তিনদিন ধরে পানীয় জলের চরম সঙ্কট চলছে। অন্তত দিনের বেলায় কয়েকঘণ্টার জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহ থাকলে সাবমার্সিবল পাম্প থেকে মানুষ খাবার জল সঞ্চয় করে রাখতে পারে। জল ছাড়া জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।
আর এক বাসিন্দা অলি শেখ বলেন, বন্যার দুর্ভোগ আমাদের গা সওয়া হয়ে গিয়েছে। কিন্তু, পানীয় জল ও সাপের উপদ্রব এতটাই বেড়ে গিয়েছে, যে অন্ধকারে বাড়ি থেকে বের হতেও ভয় লাগছে। সাপের উপদ্রব ঠেকাতে পরিবারের একজনকে লাঠি হাতে রাত জেগে বাড়ি পাহারা দিতে হচ্ছে।
গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য কংগ্রেসের সানোয়ার শেখ বলেন, বিদ্যুৎ দপ্তর পরিকল্পনা করে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করেছে। বিদ্যুৎ দপ্তরের মুর্শিদাবাদ রিজিওনাল ম্যানেজার কৌশিক মণ্ডল বলেন, ওই গ্রামের দু’টি ট্রান্সফর্মার বন্ধ রাখা হয়েছে। কারণ, যেদিক দিয়ে ১১ হাজার ভোল্টেজের বিদ্যুতের তার গিয়েছে। তার তলা দিয়ে নৌকা নিয়ে বাসিন্দারা যাতায়াত করছেন। বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হলে বড় ধরনের বিপদ ঘটতে পারে। তাই বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে। জল নেমে গেলে ফের বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা হবে।
কান্দির বিডিও শ্রীকুমার ভট্টাচার্য বলেন, ওই গ্রামে ত্রাণ ও পানীয় জলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সাপের উপদ্রবের বিষয়টিও দেখা হচ্ছে।