নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: পানীয় জল দিয়ে বিভিন্ন দাবিদাওয়া সমেত এলাকার মানুষ একত্রিত হয়েছিলেন বিজেপি কাউন্সিলারের বাড়ির সামনে। কিন্তু সেখান থেকে তাদের গালিগালাজ করে তাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠল ওই কাউন্সিলারের স্ত্রীর বিরুদ্ধে। এর প্রতিবাদে বিক্ষোভও দেখান স্থানীয় মহিলারা। মানুষের ভোটে জেতার পর তাদের সঙ্গেই অভব্য আচরণ করায় বিজেপি কাউন্সিলারকে এক হাত নিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা। ঘটনাটি ঘটেছে শান্তিপুর পুরসভার এক নম্বর ওয়ার্ডের পাবনা কলোনি নতুন পাড়ায়। সেখানকার প্রায় জনা তিরিশ মহিলা এদিন পানীয় জল সংক্রান্ত বিভিন্ন দাবিদাওয়া নিয়ে রবিবার রাতে গিয়েছিলেন স্থানীয় বিজেপি কাউন্সিলার মহানন্দ বিশ্বাসের বাড়িতে। কিন্তু অভিযোগ, দীর্ঘক্ষণ ধরে বাইরে দাঁড়িয়ে ডাকাডাকির পরেও কেউ সাড়াশব্দ দেননি। তাই বাধ্য হয়েই তাঁরা গিয়ে শব্দ করে ডাকাডাকি করেন। আর ঠিক তখনই বাড়ির দরজা খুলে বেরিয়ে আসেন বিজেপি কাউন্সিলারের স্ত্রী। রণমূর্তি ধারণ করে তিনি বিক্ষোভকারীদের গালিগালাজ করেন বলে অভিযোগ। তাঁদের ঝাঁটা, জুতো মেরে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার হুমকিও দেন। প্রতিবাদীদের দাবি, কাউন্সিলার বাড়িতে না থাকলে তাঁর মোবাইল নম্বর দিয়ে বলাই যেত, ফোন করে নিতে। অথবা পরে আসার কথাও বলা যেত। কিন্তু একজন জনপ্রতিনিধির স্ত্রী এইভাবে সাধারণ মানুষের সঙ্গে ব্যবহার কীভাবে করতে পারেন। এক মহিলা রিপন বিশ্বাস বলেন, আমরা গিয়ে সাধারণ ভাবেই ডাকাডাকি করেছি। উনি বাইরে এসে যে ধরনের ভাষা ব্যবহার করেছেন তা বলা যায় না। আমাদের ভয় দেখিয়ে বলছেন, পুলিস ডেকে বলবে আমরা নাকি ছিনতাই করতে গিয়েছি। বিষয়টি নিয়ে অবশ্য বিজেপি কাউন্সিলার মহানন্দ বিশ্বাস বলেন, আমি সেই সময় বাড়িতে ছিলাম না। আমার স্ত্রী অসুস্থ। বাড়িতে কম্বল চাপা দিয়ে ঘুমোচ্ছিল। কিন্তু যাঁরা বাড়িতে গিয়েছিলেন, তাঁরা ডাকাডাকির পর সাড়া না পেয়ে পিছনের জানলায় ব্যাপক ধাক্কাধাক্কি শুরু করে। তবে যে ধরনের গালিগালাজ করার কথা বলা হচ্ছে তা মোটেও সত্য নয়। আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। শান্তিপুরের তৃণমূল নেতা তথা পুর চেয়ারম্যান সুব্রত ঘোষ বলেন, মানুষ একজনকে নির্বাচিত করেন যাতে তাঁরা সুবিধা-অসুবিধার কথা বলতে পারেন। তাই কেউ সমস্যা নিয়ে গেলে তা শোনা উচিত। যাঁদের জন্য ভোটে জেতা তাঁদের কথা ভাবতে হবেই। তাই এই ধরনের ব্যবহার কাম্য নয়।



