Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সামশেরগঞ্জে ভাঙন অব্যাহত, ২টি বাড়ি তলিয়ে গেল নদীতে

সামশেরগঞ্জে ভাঙন অব্যাহত, ২টি বাড়ি তলিয়ে গেল নদীতে
  • ২৪ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: বর্ষাকালজুড়ে ভাঙনের আতঙ্কে সিঁটিয়ে ছিল সামশেরগঞ্জ। শীতের মরশুমেও সেই ভাঙন অব্যাহত। গত কয়েকদিন ধরে নতুন শিবপুরে ভাঙছে নদীর পাড়। শীতের মরশুমে নদীতে গঙ্গায় তেমন জল না থাকলেও ভাঙন শুরু হওয়ায় এলাকায় নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। ভাঙনে দু’টি বাড়ি এবং কয়েক মিটার জমি তলিয়ে গিয়েছে বলে দাবি স্থানীয় বাসিন্দাদের। বেশ কয়েকটি বড় বড় আম-লিচুর গাছ গঙ্গাগর্ভে তলিয়ে যায়। ভাঙন এলাকা থেকে কিছুটা দূরেই রয়েছে জনবসতি। তাঁরা জানিয়েছেন, নদীতে জল কম রয়েছে। এই সময়ে ভাঙন রোধের কাজ করলে ভালো হয়। এখন ভাঙন রোধের কাজ না করলে আগামী বর্ষায় ভয়াবহ ভাঙনের কবলে পড়তে হবে বলে তাঁরা আশঙ্কা করছেন। সেচদপ্তরের আধিকারিকদের অনুমান, গঙ্গায় জল কমতে শুরু করায় আশপাশের এলাকায় টান ধরেছে।
Advertisement
সামশেরগঞ্জের বিডিও কৃষ্ণচন্দ্র মুণ্ডা বলেন, আশেপাশের পরিবারগুলি ভাঙনের আশঙ্কায় আগেই ঘরের জিনিসপত্র সরিয়ে নিয়েছিল। ঘরের জানালা-দরজাও ভেঙে নিয়েছিল। নদী পাড়ের দু’টি বাড়ি সহ কয়েক মিটার জমি ও কয়েকটি গাছ তলিয়ে গিয়েছে।
বর্ষার মরশুমে প্রায় তিন মাস ধরে লাগাতার ভাঙনে বিধ্বস্ত ছিল সামশেরগঞ্জের নতুন শিবপুর, প্রতাপগঞ্জ ও মহেশটোলা। শীতের মরশুমে নদীতে জলস্তর কমতে শুরু করে। কিন্তু, তেমনভাবে আর ভাঙন না হওয়ায় কিছুটা স্বস্তিতে ছিলেন বাসিন্দারা। কিন্তু, হঠাৎ কয়েকদিন ধরে নতুন শিবপুরে নতুন করে ভাঙনের আতঙ্ক শুরু হয়েছে। এতে খাদের কিনারে দাঁড়িয়ে থাকা দু’টি পাকা বাড়ি নদীতে তলিয়ে যায়। বর্ষার শুরুতেই ভাঙনের কবলে পড়তেই আশেপাশের এলাকার মানুষ সহ ওই দু’টি পরিবারের সদস্যরা অন্যত্র নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যান। ঘরের জিনিসপত্র তাঁরা আগেই সরিয়ে নিয়েছিলেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ঘর দু’টি এতদিন কার্যত খাদের কিনারে ঝুলছিল। নদীর পাড়ে ধস নামতে শুরু করলে গভীর রাতেই বাড়ি দু’টি পড়ে যায়। কিছুটা জমিও তলিয়ে গিয়েছে। মাস তিনেক আগে এই এলাকায় ভয়াবহ ভাঙনে প্রায় ২০টি কাঁচাপাকা বাড়ি নদীগর্ভে তলিয়ে যায়। আশেপাশের প্রায় শতাধিক পরিবার আতঙ্কে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যায়। বেশ কয়েকটি পরিবার স্থানীয় অস্থায়ী শিবিরে আশ্রয় নেয়।
স্থানীয় বাসিন্দা হারুন শেখ বলেন, গত কয়েক থেকেই একটু একটু করে ভাঙন শুরু হয়। গভীর রাতে দু’টি পাকা বাড়ি তলিয়ে গিয়েছে। বহুমানুষ ভিটেমাটি হারিয়ে আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছে। তারা কোনওরকমে রাত কাটাচ্ছে। এখন নদীতে জল কম রয়েছে, এই সময় ভাঙন রোধের কাজ করা উচিত।
সম্পর্কিত সংবাদ