Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সম্পূর্ণ নতুন পদ্ধতিতে অপারেশন, শিশুর শ্বাসনালী থেকে বের করা হল পেনের ঢাকনা   

সম্পূর্ণ নতুন পদ্ধতিতে অপারেশন, শিশুর শ্বাসনালী থেকে বের করা হল পেনের ঢাকনা 
 
  • ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
সংবাদদাতা, বর্ধমান: খেলতে খেলতে পেনের পিছনের দিকের ঢাকনা সাত বছরের এক শিশুর গলায় ঢুকে যায়। সেটি শ্বাসনালীতে আড়াআড়িভাবে আটকে যায়। ফলে প্রবল শ্বাসকষ্ট হয় শিশুটির। শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা কমতে থাকে। প্রাণসংশয় দেখা দেয় তার। বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নাক-কান-গলা বিভাগের চিকিৎসকরা পরীক্ষা করে ঢাকনাটির অবস্থান দেখে নেন। তবে, ঢাকনাটি এমন জায়গায় আটকেছিল যে, ব্রঙ্কোস্কোপি করে সেটি বের করা সম্ভব ছিল না। চিকিৎসকরা ভাবনা-চিন্তা করে নয়া পথ আবিষ্কার করলেন। ব্রঙ্কোস্কোপির পরিবর্তে ট্রাক্টোস্টমি করে শিশুটির শ্বাসনালী থেকে ঢাকনাটি বের করতে সফল হয়েছেন। এ ধরনের অস্ত্রোপচার এর আগে হাসপাতালে কখনও হয়নি। বিষয়টি জার্নালে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের। জার্নালে প্রকাশিত হলে বিভিন্ন জেলা হাসপাতালে এ ধরনের অস্ত্রোপচারের বিষয়ে চিকিৎসকরা অবহিত হবেন। হাসপাতালের সুপার ডাঃ তাপস ঘোষ বলেন, শিশুটির ব্রঙ্কোস্কোপি করা সম্ভব ছিল না। অথচ, দ্রুত পেনের ঢাকনা শ্বাসনালী থেকে না বের করা গেলে শিশুটির প্রাণ সংশয়ের সম্ভাবনা ছিল। নাক-কান-গলা বিভাগের চিকিৎসকরা ভাবনা-চিন্তা করে নতুন পদ্ধতি বের করে ঢাকনাটি শ্বাসনালী থেকে বাইরে আনতে সক্ষম হয়েছেন। এটা অত্যন্ত কৃতিত্বের। বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এ ধরণের অস্ত্রপচার এর আগে কখনও হয়নি। রাজ্যেও হয়নি। 
Advertisement
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, শিশুটির বাড়ি হুগলির গোঘাট থানার হাজিপুরে। শুক্রবার খেলার সময় তার গলায় পেনের পিছনের দিকের ঢাকনা শ্বাসনালীতে আটকে যায়। পরিবারের লোকজন তড়িঘড়ি তাকে আরামবাগ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানকার চিকিৎসকরা চেষ্টা করেও ঢাকনাটি বের করতে পারেন নি। ঝুঁকি না নিয়ে তাঁরা বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। হাসপাতালে আনার পর চিকিৎসকরা দেখেন, বাঁদিকের ব্রঙ্কাসে সেটি আড়াআড়িভাবে আটকে রয়েছে। তার ফলে বাঁদিকের ফুসফুস চুপসে গিয়েছিল। শিশুটির শরীরে অক্সিজেনের অভাব দেখা দিচ্ছে। ব্রঙ্কোস্কোপিতে সেটি বের করা সম্ভব হয়নি। এরপরই চিকিৎসকরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে নতুন পদ্ধতিতে ঢাকনাটি বের করার সিদ্ধান্ত নেন। ট্রাকিওস্টোমার মধ্যে দিয়ে গলায় ছিদ্র করে নাজাল এন্ডোস্কোপি করে কাঁচির সাহায্যে ঢাকনাটি বের করতে সক্ষম হন চিকিৎসকরা। এরপরই তাকে পিকু ইউনিটে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়। অস্ত্রোপচারের জন্য মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়। তাতে ছিলেন ডাঃ ঋতম রায়, ডাঃ অসীম সরকার, ডাঃ শুভদীপ সর্দার, অ্যানাস্থেটিস্ট টিমে ছিলেন ডাঃ বিকাশ বিষয়ী ও ডাঃ স্বস্তিকা বিষয়ী। এছাড়াও পিজিটিরাও তাঁদের সাহায্য করেন। ডাঃ ঋতম রায় বলেন, শিশুটিকে ১০ ঘণ্টা পর এখানে আনা হয়। শিশুটির প্রাণ বাঁচানোর তাগিদে খুব দ্রুত ভাবনা-চিন্তা করে আমরা এই পদ্ধতি আবিষ্কার করি। আমাদের মাথায় কেবলমাত্র শিশুটির প্রাণ বাঁচানোর ভাবনাই ছিল। এ ধরনের অস্ত্রোপচারের কথা জার্নালে দেওয়ার ভাবনা-চিন্তা চলছে।
শিশুটির মা আয়েশা বেগম বলেন, সরকারি হাসপাতালে যে এ ধরনের চিকিৎসা সম্ভব, তা ভাবতেও পারিনি। চিকিৎসকদের চেষ্টায় ছেলে প্রাণে বেঁচেছে।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ