সংবাদদাতা, বহরমপুর: পৃথক দু’টি ঘটনায় প্রেমের সম্পর্কে টানাপোড়েনের জেরে আত্মঘাতী হলেন এক যুবতী ও এক কিশোর। পুলিস জানিয়েছে, রবিবার রাতে নিজের বাড়িতে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মঘাতী হন বিএ দ্বিতীয় বর্ষের এক ছাত্রী। মৃতের নাম পূর্ণিমা বারিকদার(২১)। বাড়ি বহরমপুর থানার শিবপুর নতুনপাড়ায়। অন্যদিকে গত ২৫ অক্টোবর কীটনাশক খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে এক কিশোর। রবিবার রাতে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। মৃতের নাম রোহেল শেখ(১৭)। বাড়ি নওদা থানার রামনগরে। দু’টি ঘটনাতেই পুলিস অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, পূর্ণিমা বছর দু’য়েক থেকে প্রতিবেশী এক যুবকের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়ায়। সম্পর্কের কথা জানাজানি হতেই দুই পরিবারে চাপানউতোর শুরু হয়। মৃতের পরিবারের দাবি, রবিবার রাতে প্রেমিকের বাবা-মা পূর্ণিমাকে বাড়িতে ডেকে পাঠায়। মৃতের বাবা সঞ্জয় বারিকদার বলেন, মেয়েকে ডেকে পাঠিয়ে চরম অপমান করা হয়। অপমান সহ্য করতে না পেরেই মেয়ে বাড়ি ফিরে সোজা দোতলার ঘরে গিয়ে গলায় ফাঁস দেয়। রাতে খাবার জন্য পূর্ণিমাকে ডাকতে গেলে তাঁকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান তাঁর মা। বহরমপুর কলেজের ছাত্রী ছিলেন পূর্ণিমা। মৃতের আত্মীয় প্রাণগৌর মণ্ডল বলেন, আমরা দোষিদের শাস্তি চাই। অন্যদিকে সোশ্যাল মিডিয়ায় রোহেল শেখের সঙ্গে এক কিশোরীর পরিচয় প্রেমে গড়ায়। গত ২৫ অক্টোবর প্রেমিকা ফোন করে সম্পর্ক ছিন্ন করে। প্রেমের সম্পর্ক ভাঙতেই অভিমানে বাড়িতে কীটনাশক খায় সে। তাকে উদ্ধার করে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে শারীরিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় পরিবারের লোক গত ৩১ অক্টোবর তাকে বাড়ি নিয়ে যান। রবিবার রাতে সে ফের অসুস্থ বোধ করলে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়। চিকিৎসা শুরু হতেই তার মৃত্যু হয়। মৃতের দাদু আনারুল শেখ বলেন, আমরা জানতে পেরে বারবার বাধা দিয়েছিলাম। বুঝিয়েছিলাম। পরে মেয়ের বাড়ি থেকে সমস্যা আসতে পারে। কিন্তু কারও কথা কানে তোলেনি।



