নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: সীমান্তঘেঁষা ভারতের হাবাসপুর, শ্রীরামপুর, বড়চুপড়িয়া, রামনগরের মতো ধানতলা এবং হাঁসখালি থানা এলাকার সীমান্ত লাগোয়া গ্রামগুলি যেন আতঙ্কের হটস্পট! ইছামতীর অনতিদূরে সবুজ ঘেরা ছোট ছোট গ্রাম। কিন্তু চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন গ্রামবাসীরা। প্রায় শুখা ইছামতী। নদীর গতিপথও এখানে অনেকটাই সঙ্কীর্ণ। ওপারেই বাংলাদেশ। মাঝে কাঁটাতারের কোনও বালাই নেই। এখন শীতকাল। রাত থেকে বেলা পর্যন্ত গোটা এলাকা থাকে কুয়াশাচ্ছন্ন। এমন ‘সোনায় সোহাগা’ সুযোগ হাতছাড়া করতে চায় না আসছে অনুপ্রবেশকারীরা। ধানতলা, হাঁসখালির এই করিডর আগে ব্যবহার করেছে মানব পাচারের দালালরা। এখন বাংলাদেশ অস্থির। সংখ্যালঘুরা সেখানে নিপীড়িত, অত্যাচারিত। ঘোরতর সঙ্কটে রুজিরুটিও। ফলে, অনেকে শান্তির খোঁজ ও পেটের টানে বাংলায় চলে আসতে চাইছে। আসছেও। কিন্তু গ্রামবাসীদের প্রশ্ন, সবাই কী আর পেটের টানে আসছে? পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে বাংলাদেশে জেল থেকে বেরিয়ে গিয়েছে অনেক কুখ্যাত জঙ্গি। তারা এখন ঢুকে পড়ছে না তো? মুর্শিদাবাদ এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনায় জঙ্গি গ্রেপ্তারের পর প্রমাদ গুনছেন গ্রামবাসীরার।
Advertisement
তবে আশার কথা যেটা তা হল, বর্তমানে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বড় বড় বাতি স্তম্ভ বসানো হয়েছে। বসেছে নাইট ভিশন ক্যামেরাও। সবমিলিয়ে বিএসএফও তৎপর। এলাকাভিত্তিক অভিযানও চালাচ্ছে পুলিস। ভৌগোলিক অবস্থানগত দিক দিয়ে নদীয়ার সীমান্ত অনুপ্রবেশের আদর্শ। একবার এপারে ঢুকে পড়তে পারলেই কেল্লাফতে। ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়ক দিয়ে সরাসরি কলকাতা অথবা শিলিগুড়ি চলে যাওয়া খুব সহজ। পরিসংখ্যান বলছে, নদীয়া জেলায় বাংলাদেশ সীমান্ত রয়েছে প্রায় ২১৬ কিলোমিটার। এর মধ্যে এখনও কাঁটাতার নেই ২২ কিলোমিটার এলাকায়। মুরুটিয়ার শিকারপুরে দেড় কিলোমিটারের কাছাকাছি, হোগলবেরিয়া এলাকায় প্রায় ৫ কিলোমিটার, কৃষ্ণগঞ্জ এলাকায় মোটামুটি ৭ কিলোমিটার, হাসখালির প্রায় ৪ কিলোমিটার এবং ধানতলা এলাকার প্রায় ৫ কিলোমিটার এলাকাগুলিতে দীর্ঘদিন জমিজটের কারণে আটকে রয়েছে পাকাপোক্ত ফেন্সিংয়ের কাজ। স্বভাবতই এই এলাকাগুলি অনুপ্রবেশের স্বর্গরাজ্য হয়ে উঠেছে। অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে নজরদারি বাড়ালেও, বিএসএফ চাইছে জমিজট মিটিয়ে কাঁটাতার বসানোর কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে। এর জন্য জমিজট কাটাতেও চাইছে তারা। অন্তত আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার প্রশ্নে সহমতে আসুক কেন্দ্র ও রাজ্য। বিষয়টি নিয়ে বিএসএফের দক্ষিণবঙ্গ ফ্রন্টিয়ারের জনসংযোগ আধিকারিক এবং ডিআইজি পদমর্যাদার আধিকারিক এন কে পান্ডে বলেন, কাঁটাতার না থাকার কারণে অনুপ্রবেশ আটকানো সমস্যা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। প্রকৃতির প্রতিকূল পরিস্থিতির উপর কারও হাত নেই। আমরা বেশি করে আলো বসানো এবং ক্যামেরা লাগাচ্ছি। তবে আমরা চাইব, রাজ্য এবং কেন্দ্র মিলিতভাবে দ্রুত কাঁটাতার ঘেরার ব্যবস্থা করুক। জমি অধিগ্রহণ নিয়ে কিছুটা সমস্যা রয়েছে। সেটাও দ্রুত মেটানোর ব্যবস্থা করা হোক। নদীয়ার জেলাশাসক এস অরুণ প্রসাদ বলেন, সীমান্তে জমি সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যা রয়েছে। জট কাটিয়ে দ্রুত কাজ করা হচ্ছে। - নিজস্ব চিত্র



