Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সিমলাপালে শিলাবতীর উপর সেতুর দাবি

সিমলাপালে শিলাবতীর উপর সেতুর দাবি
  • ৩০ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: তালডাংরা উপ নির্বাচনে যে দলই জয় পাক না কেন সিমলাপালে শিলাবতী নদীর উপর সেতু নির্মাণে যেন নব নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি সচেষ্ট হন। এমনই দাবি তুলছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বাঁকুড়া-ঝাড়গ্রাম রাজ্য সড়কে ওই নদীর উপর একটি কজওয়ের রয়েছে। অল্প বৃষ্টিতেই শীলাবতী নদীর জল ওই কজওয়ের উপর দিয়ে বইতে শুরু করে। ফলে বাস সহ অন্যান্য যাত্রীবাহী যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। দু’টি জেলার মধ্যে সংযোগকারী রাজ্য সড়কের উপর কজওয়ে সাধারণত চোখে পড়ে না। ফলে গুরুত্বপূর্ণ ওই সড়কে শিলাবতী নদীর উপর একটি সেতু নির্মাণের দাবি দীর্ঘদিন ধরেই স্থানীয় বাসিন্দারা তুলছেন। এবার নির্বাচনী ইস্তেহারে তৃণমূলের তরফে ওই সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। স্থানীয়দের দাবি, বাম আমল থেকেই প্রতিটি ভোটের মুখে ওই সেতু তৈরির প্রতিশ্রুতি মিলেছে। নির্বাচন মিটলেই বিষয়টি বিশবাঁও জলে চলে যায়। ফলে আজও বর্ষায় জল ডিঙিয়ে সকলকে ওই রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে হয়। তালডাংরা উপ নির্বাচনের তৃণমূল প্রার্থী ফাল্গুনী সিংহবাবু বলেন, শিলাবতীর উপর ওই সেতু নির্মাণের জন্য প্রায় ৩২ কোটি টাকা প্রয়োজন। এর আগে কয়েকবার সমীক্ষার কাজ হয়েছে। রাজ্য সরকার যাতে সেতু নির্মাণের জন্য অর্থ বরাদ্দ করে, তারজন্য আমরা অতীতেও চেষ্টা করেছি। সাধারণ মানুষ আমাদের ভোটে জেতালে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে গিয়ে দাবি আদায় করে আনব। বিজেপি প্রার্থী অনন্যা রায় চক্রবর্তী বলেন, জঙ্গলমহলে ১০০ শতাংশ কাজ হয়ে গিয়েছে বলে তৃণমূল সরকার প্রায়ই দাবি করে থাকে। সব কাজ হলে, কেন তৃণমূলকে নির্বাচনী ইস্তেহারে সেতু তৈরির প্রতিশ্রুতি দিতে হচ্ছে? কেন এতদিন পরেও ওই সেতু তৈরি হল না? এই প্রশ্নের উত্তর শাসক দলকে দিতে হবে। তালডাংরাবাসী আমাদের আশীর্বাদ করলে বিষয়টি নিয়ে বিধানসভায় সরব হব।
Advertisement
প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই রাজ্য সড়ক ধরে বাঁকুড়া থেকে ঝাড়গ্রাম ও পশ্চিম মেদিনীপুরের বিভিন্ন রুটে শতাধিক বাস প্রতিদিন যাতায়াত করে। ওই কজওয়ে বাঁকুড়ার সঙ্গে সারেঙ্গা, রাইপুর ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকার যোগাযোগ রক্ষা করে। সিমলাপাল ব্লক এলাকাকেও শিলাবতী নদী দু’টি ভাগে ভাগ করেছে। ফলে বর্ষায় কজওয়ে জলে ডুবে গেলে দু’পাড়ের মানুষ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। বাম আমলে ফুলকুসমা এলাকায় ওই রাজ্য সড়কে একটি কজওয়ে ছিল। ওইসময় সেখানে জলের তোড়ে একটি বাস ভেসে যায়। তাতে অনেকে হতাহত হয়েছিলেন। সিমলাপালেও ওই ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে বলে স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন।    
ওই রাস্তা দিয়ে নিত্য যাতায়াতকারীদের মধ্যে নবনীতা পতি, সুবোধ মণ্ডল বলেন, বর্ষা ও নিম্নচাপের সামান্য বৃষ্টিতেই কজওয়ের উপর দিয়ে জল বইতে শুরু করে। তখন বাইক, সাইকেল সহ অন্যান্য ছোট গাড়ি চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। জলস্তর বৃদ্ধি পেলে বাস চলাচল করে না। তখন আমাদের ভোগান্তি পোহাতে হয়। এবার অন্তত সেতু নির্মাণে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সরব হওয়া উচিত।
   
সম্পর্কিত সংবাদ