আট বছর বয়সেই অন্নপূর্ণা বেস ক্যাম্পে স্মিতরাজ, মাত্র দেড় মাসের প্রস্তুতিতে সাড়ে ১৩ হাজার ফুটের অসাধ্য সাধন
  • ৯ নভেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সৌম্যজিৎ সাহা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: বয়স মাত্র আট বছর। এত ছোটো বয়সে দমদমের এই পড়ুয়া এমন কীর্তি করে দেখাল, যা অনেকেরই চিন্তার অতীত। নাম স্মিতরাজ দে, কলকাতার এক নামী বেসরকারি স্কুলের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র সে। স্মিতরাজ নেপালে ট্রেকিং করে সাড়ে ১৩ হাজার ফুট উচ্চতার অন্নপূর্ণা বেস ক্যাম্প অতিক্রম করেছে। বাবা-মা সহ ১৫ জনের দলের সঙ্গে হিমালয়ের কোলে গিয়েছে সে। শনিবারই তাঁরা বেস ক্যাম্পে পৌঁছেছে। ট্রেকিংয়ের জন্য গত দেড় মাস ধরে বিশেষ প্রস্তুতি নিয়েছিল সে। বাবাই ট্রেনিং দেন তাকে। যোগা, সিঁড়ি দিয়ে ওঠা-নামার মতো নানা ধরনের শারীরিক কসরত করতে হয়। এমনিতেই ফুটবল ও ক্যারাটে শেখে স্মিতরাজ। রক ক্লাইম্বিংয়ের কোর্সও করেছে সে।

Advertisement

হুগলির ভদ্রকালী পদাতিক ক্লাবের সঙ্গে এই ট্রেকিংয়ে অংশ নিয়েছে বাবা-মা ও স্মিতরাজ। ছোটো বাচ্চাকে এমন দুর্গম ও কঠিন ট্রেক করতে দেখে বিস্মিত হয়েছেন দেশ-বিদেশের বহু পর্বতারোহী, দাবি স্মিতরাজের বাবা সুমন দে’র। সাধারণত, এত ছোটো বাচ্চাদের এমন দুর্গম পথে ট্রেকিং না করারই পরামর্শ দিয়ে থাকেন বিশেষজ্ঞরা। জানা গিয়েছে, কলকাতা থেকে এই দল নেপাল যাত্রা করেছিল ১ নভেম্বর। তারপর গান্ধ্রুক থেকে অন্নপূর্ণা বেস ক্যাম্পের অভিযান শুরু হয় ৪ তারিখ। তিনদিন পর শনিবার যাত্রা শেষ হয় বেস ক্যাম্পে। গোটা যাত্রাপথ কঠিন ছিল। নানা শারীরিক কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে সবাইকে। দলের কনিষ্ঠতম সদস্য হলেও উত্তেজনা ও উদ্দীপনার উপর ভর করে গোটা ট্রেক সফলভাবে শেষ করেছে স্মিতরাজ। সুমনবাবু পেশায় আইনজীবী। তিনি বলেন, এটাই ছেলের প্রথম ট্রেক। শুশুনিয়া পাহাড়ে রক ক্লাইম্বিং কোর্স করেছে। তাই এবার আমাদের দলের লিডার প্রসেনজিৎ মুখোপাধ্যায় ছেলেকে এই ট্রেকে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে। গত দেড় মাস ধরে নানাভাবে শারীরিক প্রশিক্ষণ দিয়েছি। ভেবেছিলাম, এই দুর্গম ও কঠিন পথে অসুবিধা হতে পারে। কিন্তু সবার সঙ্গে তাল মিলিয়ে দিব্যি উঠে গেল তরতরিয়ে। ও যে নজির গড়েছে, তা নিজে বুঝতে পারছে না। অনেকে ওকে দেখে অবাক হয়েছে। বেস ক্যাম্পে যাতায়াতের সময় ছেলেকে দেখে কেউ কেউ ওর ইন্টারভিউও নিয়েছে।
 বেসক্যাম্পে পতাকা হাতে স্মিতরাজ।