Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সমুদ্রসৈকতে তাঁবুতে রাত কাটানোর আকর্ষণে ভিড় বাড়ছে কানাইচট্টায়

সমুদ্রসৈকতে তাঁবুতে রাত কাটানোর আকর্ষণে ভিড় বাড়ছে কানাইচট্টায়
  • ৩ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
সংবাদদাতা, কাঁথি: কাঁথির দেশপ্রাণ ব্লকের উপকূলবর্তী কানাইচট্টা সমুদ্রসৈকতে তাঁবুতে রাত কাটাতে উৎসাহী পর্যটকের সংখ্যা বাড়ছে। বেসরকারি উদ্যোগে সৈকতে গড়ে ওঠা এই তাঁবুতে ভিড় জমাতে শুরু করেছেন পর্যটকরা। এখানে কলকাতা সহ বিভিন্ন ‌এলাকা থেকে পর্যটকদের আনাগোনা বাড়ছে। তবে যত ভিড় তাঁবুতেই, অদূরে সরকারি উদ্যোগে তৈরি গেস্টহাউস ফাঁকা পড়ে থাকে। দু’ বছর পরও তা চালু হয়নি। ভ্রমণপ্রিয় মানুষ অবিলম্বে গেস্টহাউসটি চালু করার দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের দাবি, এই গেস্টহাউসটি চালু হলে তা আলাদা মাত্রা যোগ করবে। অখ্যাত কানাইচট্টা পর্যটনের মানচিত্রে বিশেষ জায়গা করে নেবে।  
Advertisement
‘নেচার স্টে ইকো-ট্যুরিজম’ নামে এই তাঁবু পরিকাঠামোটি কলকাতারই জনৈক ব্যক্তি স্থানীয় এক বাসিন্দার জমি লিজে নিয়ে গড়ে তুলেছেন। গাছগাছালি ভরা গ্রামীণ পরিবেশের মধ্যে মোট আটটি তাঁবু রয়েছে। সেখানে রয়েছে থাকার সবরকম বন্দোবস্ত। রয়েছে অর্ডার অনুযায়ী তিনবেলা খাওয়াদাওয়ার সুযোগ। শীতকালে ক্যাম্প ফায়ারের ব্যবস্থা। খরচও মোটামুটি সাধ্যের মধ্যে। সব মিলিয়ে অ্যাডভেঞ্চারের স্বাদ পাবেন পর্যটকরা। যার ফলে তাঁবু পর্যটন ঘিরে আগ্রহ ক্রমশ বাড়ছে। 
উল্লেখ্য, ঝাউ ও ম্যানগ্রোভের জঙ্গলে ভরা কানাইচট্টার সৈকত অত্যন্ত মনোরম। এখানে প্রচুর গাছগাছালি রয়েছে, যা অন্য সৈকতে দেখা যায় না। দিগন্ত বিস্তৃত ঝাউবন, বিস্তীর্ণ বেলাভূমি, লাল কাঁকড়ার লুকোচুরি-কোনওকিছুরই অভাব নেই। এমনিতেই অনেক ভ্রমণপ্রিয় মানুষ সকালে-বিকেলে সৈকতে বেড়াতে আসেন। বড়দিন কিংবা ইংরেজি নববর্ষে বহু মানুষ কানাইচট্টার ঝাউবন সহ আশপাশের এলাকায় পিকনিক করেন। সৈকত সংলগ্ন জলাশয় এবং গাছগাছালিতে পাখিদের কলকাকলি লেগেই থাকে। মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশ আর সুন্দর সৈকতের জন্য ইতিমধ্যেই ভ্রমণপিপাসুদের কাছে পরিচিত হয়ে উঠেছে কানাইচট্টা। এই পরিবেশকে কাজে লাগিয়েই পর্যটন পরিকাঠামো গড়ে তুলতে এগিয়ে এসেছিল দেশপ্রাণ পঞ্চায়েত সমিতি। ২৬ লক্ষ টাকা ব্যয়ে কানাইচট্টার সমুদ্রতীরে ঝাউবনের মধ্যে গেস্টহাউসটি গড়ে তোলা হয়। বিশালাকার গেস্টহাউসে  বেশ কয়েকটি রুম, জলের ব্যবস্থা, শৌচালয় সহ অনেকগুলি কাজ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু বৈদ্যুতিকরণ সহ যে সমস্ত অভ্যন্তরীণ কাজ বাকি ছিল, তা অজ্ঞাত কোনও কারণে হয়নি। বর্তমানে গেস্টহাউসটি তালাবন্ধ অবস্থায় পড়ে। চারদিক আগাছায় ঢেকে গিয়েছে। যা নিয়ে হতাশ ভ্রমণপিপাসু মানুষ। 
এলাকার বাসিন্দা সূর্যনারায়ণ জানা বলেন, তাঁবু পর্যটনের পরিকাঠামো রয়েছে ঠিকই। তবে সরকারি উদ্যোগে গেস্টহাউস সহ অন্যান্য পরিকাঠামো গড়ে তোলা হলে এই এলাকার গুরুত্ব অনেকটাই বেড়ে যাবে। স্থানীয়দের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। ভ্রমণপ্রিয় মানুষ যেমন স্বচ্ছন্দে বেড়াতে পারবেন, তেমনি বাইরে থেকে আসা লোকজন রাত্রিবাস করতে পারবেন। আমরা চাই, গেস্টহাউসটি অবিলম্বে চালু হোক। বিডিও শুভাশিস মজুমদার বলেন, আমরা বিষয়টি জানি। প্রাথমিকভাবে ওই গেস্ট হাউসের ক্যাম্পাস পরিষ্কার­-পরিচ্ছন্ন করে তার চারদিকে পাঁচিল দেওয়া হবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে। আর যা কাজ বাকি রয়েছে, সেগুলিও একে একে শেষ করা হবে। আমরা নতুন বছরের গোড়ার দিকে গেস্ট হাউসটি চালু করার পরিকল্পনা করেছি। কানাইচট্টাকে ঘিরে আমরা পরিকল্পিত পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তুলব। তার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সম্পর্কিত সংবাদ