নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা: নদীয়া জেলাজুড়ে বাগদেবীর আরাধনা হল বেশ জাঁকজমকের সঙ্গে। শীতের বিদায় বেলায়, সোমবার সকাল থেকেই উৎসবের আমেজ দেখা যায় সর্বত্র। স্কুল, কলেজগুলোতে যুগলদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। পাশাপাশি বিভিন্ন কৃষ্ণনগর শহর সহ গোটা জেলার বিভিন্ন ক্লাবে থিম করে সরস্বতী পুজোর আয়োজন করা হয়। রবিবারের মতো সোমবার দুপুর থেকেই কৃষ্ণনগর শহরের নো এন্ট্রি করে দেওয়া হয়। তবে এই সমস্ত কিছুর মধ্যে পুরোহিত খুঁজতে গিয়ে বেগ পেতে হয় ক্লাব ও স্কুল কর্তৃপক্ষকে। বলা যায়, সরস্বতী পুজোর ঢলে পুরোহিতের আকাল দেখা যায় সর্বত্রই। তবে কৃষ্ণনগর শহরের পাশাপাশি, কালীগঞ্জের মাটিয়ারি গ্রাম এবং নাকাশিপাড়ার মুড়াগাছা গ্রাম সরস্বতী পুজোর জন্য বিখ্যাত। সেখানেও ধুমধাম করে পুজো হয়। তবে, সোমবার সকালে চাপড়া থানার কলিঙ্গ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার একটি মণ্ডপে সরস্বতী প্রতিমা ভাঙার ঘটনা ঘটে। রাতের অন্ধকারে কে কারা প্রতিমা ভেঙে দিয়েছে, তা জানা যায়নি। এলাকাবাসীর তরফ থেকে চাপড়া থানায় অভিযোগ করা হয়। তবে শেষপর্যন্ত চাপড়া থানার সহযোগিতায় ওই এলাকাতেই নতুন করে সরস্বতী পুজো হয়।
Advertisement
অন্যদিকে, মন্দিরনগরী নবদ্বীপে বারোয়ারি থেকে স্কুল সব জায়গার সরস্বতী পুজোতেও থিমের রমরমা। বিদ্যার দেবী সরস্বতীর আরাধনায় নবদ্বীপের প্রাচীন মায়াপুর, প্রতাপনগর লিঙ্ক রোড, বুড়োশিবতলা ব্যানার্জিপাড়া বিভিন্ন এলাকায় থিম পুজোকে কেন্দ্র করে একে অপরের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নামে বিভিন্ন পুজো উদ্যোক্তারা। এবারও প্রাচীন মায়াপুর জাতীয় বিদ্যালয় পাড়ার ফ্রেন্ডস ইলেভেন ক্লাবের মহিলাবৃন্দের থিম ‘বাহনের পিঠে বাগদেবী’। সীতানাথ লেনের নিউ বয়েজ ক্লাবের থিম ’কাল্পনিক মন্দির’। নবদ্বীপ গানতলা গোবিন্দবাড়ির মোড়ের ইয়ং স্টাফের সম্পাদক প্রদীপ্ত অধিকারী বলেন, ‘পুজোর সংখ্যা বেড়ে গিয়েছে। তার জন্য সরস্বতী পুজোর পুরোহিত খুঁজে পাওয়া খুবই কষ্টকর। তাই আগে থেকে বুকিং করে রাখতে হয়। এ বছরও আমাদের রীতিমতো পুরোহিতের জন্য ছোটাছুটি করতে হয়েছে।’ রানাঘাট শহরের বিভিন্ন স্কুলে রবিবার এবং সোমবার দু’দিনেই সরস্বতী পুজোর আয়োজন করা হয়েছিল। পড়ুয়ারাদের পাশাপাশি প্রচুর মানুষ এসেছেন রানাঘাটের পুজো দেখতে। অন্যদিকে তেহট্ট এলাকায় বেশির ভাগ স্কুল ক্লাব বাড়ির পুজো সোমবার হয়। এদিন সকাল নয়টা ঊনষাট মিনিটে পঞ্চমী ছেড়ে যাওয়ায় সবাই এই সময়ের মধ্যে পুজো করার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়েন। ফলে পুরোহিত নিয়ে টানাপোড়েন চলে। এক ক্লাবের সদস্য তারক হালদার বলেন, আমাদের ক্লাবের নির্দিষ্ট কোনও পুরোহিত নেই। আবার পঞ্চমীর মধ্যে পুজো করতে হবে। পুরোহিত পাচ্ছিলাম না। অনেক পরে জোর করে এক পুরোহিতকে নিয়ে এসে ক্লাবের পুজো করানো হয়।
এদিন সীমান্ত ব্লক কৃষ্ণগঞ্জের বিভিন্ন স্কুলে শুরু হয় মাতৃবন্দনা। বানপুর ফুলবাড়ি প্রাইমারি স্কুলে এদিন সকালে পুজো হয়। শিবনিবাস জিএসএফ স্কুল, মাজদিয়া রেল বাজার প্রাথমিক বিদ্যালয় সহ সীমান্ত লাগোয়া স্কুলগুলিতে এদিন সকালে পুজো হয়। মাজদিয়া রেল বাজার হাইস্কুলে এদিন পুজো হয়।
এদিন সীমান্ত ব্লক কৃষ্ণগঞ্জের বিভিন্ন স্কুলে শুরু হয় মাতৃবন্দনা। বানপুর ফুলবাড়ি প্রাইমারি স্কুলে এদিন সকালে পুজো হয়। শিবনিবাস জিএসএফ স্কুল, মাজদিয়া রেল বাজার প্রাথমিক বিদ্যালয় সহ সীমান্ত লাগোয়া স্কুলগুলিতে এদিন সকালে পুজো হয়। মাজদিয়া রেল বাজার হাইস্কুলে এদিন পুজো হয়।



