Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

রাস্তার আলো না জ্বললেই ধরা পড়বে সার্ভারে! শহরের বুকে স্মার্ট লাইটিং সিস্টেম, কালীঘাট ও আলিপুরে পাইলট প্রজেক্ট

রাতের শহরকে আলোকিত করে রাখে হাজার হাজার স্ট্রিট লাইট। এবার কলকাতার এই স্ট্রিট লাইটের ব্যবস্থাপনা স্মার্ট ও ডিজিটাল করার পরিকল্পনা করছে পুরসভা।

রাস্তার আলো না জ্বললেই ধরা পড়বে সার্ভারে! শহরের বুকে স্মার্ট লাইটিং সিস্টেম, কালীঘাট ও আলিপুরে পাইলট প্রজেক্ট
  • ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাতের শহরকে আলোকিত করে রাখে হাজার হাজার স্ট্রিট লাইট। এবার কলকাতার এই স্ট্রিট লাইটের ব্যবস্থাপনা স্মার্ট ও ডিজিটাল করার পরিকল্পনা করছে পুরসভা। এর ফলে কোথাও বাতিস্তম্ভ খারাপ থাকলে বা আলো না জ্বললে তা সরসারি ধরা পড়বে পুরসভার সার্ভারে। মেরামতিও হবে দ্রুত। আপাতত শহরের দু’টি অঞ্চলে পাইলট প্রজেক্ট শুরুর তোড়জোড় চলছে বলে খবর। কলকাতা পুরসভার আলোক বিভাগের মেয়র পারিষদ সন্দীপরঞ্জন বক্সি এই পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। তবে কবে থেকে পাইলট প্রজেক্ট চালু হবে, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি।

Advertisement

জানা গিয়েছে, একটি বহুজাতিক তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা কলকাতা পুরসভাকে শহরের স্ট্রিট লাইটিং সিস্টেমের ভোলবদলের প্রস্তাব দিয়েছে। আপাতত পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে কালীঘাট এবং আলিপুরে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে। এক্ষেত্রে প্রত্যেকটি স্ট্রিট লাইট বা বাতিস্তম্ভ একটি কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত থাকবে। সেগুলি হবে ‘স্মার্ট’ এবং ‘ডিজিটালাইজড’। প্রতিটি আলোকস্তম্ভ একটি ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে নির্দিষ্ট সার্ভারের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। শহরের কোন রাস্তায় ক’টি লাইট রয়েছে, কী ধরনের লাইট, কোন বাতিস্তম্ভের আলো জ্বলছে না—এরকম নানা বিষয় ধরা পড়বে সার্ভারে। সেখানে দেখে নিয়ে চটজলদি ব্যবস্থা নিতে পারবে পুরসভা। সংশ্লিষ্ট বিভাগের মেয়র পারিষদ সন্দীপরঞ্জন বক্সি বলেন, ‘একটি সংস্থার সঙ্গে আমাদের আলোচনা চলছে। এখন কথাবার্তা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলা যায়। আপাতত দু’টি এলাকায় পাইলট প্রজেক্ট হবে। এমন ডিজিটাল ও স্মার্ট ব্যবস্থা থাকলে অনেকটাই সুবিধা। সেক্ষেত্রে কোথাও আলো না জ্বললে বা দিনের বেলায় আলো জ্বলে থাকলে আর আম জনতার অভিযোগের জন্য অপেক্ষা করতে হবে না। আমরাই সার্ভার থেকে দেখে নিয়ে দ্রুত সেটি ঠিক করে দিতে পারব।’ বিষয়টি নিয়ে পুরসভার আলোক বিভাগের আধিকারিকরাও আশাবাদী। কারণ, এরকম একটি ব্যবস্থাপনা থাকলে তাঁদের কাজের ক্ষেত্রে অনেকটা সুবিধা হবে। নাগরিকদের দিক থেকে অভিযোগ আসার আগেই সমস্যার সমাধান করে ফেলতে পারবে পুরসভা। এর চেয়ে ভালো আর কী হতে পারে! তাছাড়া, দুর্গাপুজো সহ বিভিন্ন উৎসবের সময় আলোকায়ন ব্যবস্থার উপর নজরদারি চালানো সহজ হবে তাঁদের পক্ষে। 
এর পাশাপাশি, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার ঘটনা আটকাতে পুরসভা যে বিশেষ পদক্ষেপ করেছে, তাও এদিন জানান সন্দীপবাবু। তিনি বলেন, ‘এই ধরনের ঘটনা রুখতে শহরের তিন লক্ষ বাতিস্তম্ভকে ভালোভাবে আর্থিং করা হয়েছে। পাশাপাশি, পিভিসি পাইপ দিয়ে আলোকস্তম্ভের নীচ থেকে উপরে বেশ কিছুটা অংশ মুড়ে ফেলা হচ্ছে, যাতে জলের সংস্পর্শে এলেও কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে। এই পিভিসি পাইপ তড়িৎ অপরিবাহী। ফলে কোনো কারণে একাংশ জলমগ্ন হয়ে থাকা বাতিস্তম্ভে বিদ্যুৎ ছড়িয়ে পড়লেও পিভিসি পাইপের কারণে কেউ তড়িদাহত হবেন না। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ