নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: দ্রুত সারবে ঘা কিংবা কাটাছেড়া। কম হবে যন্ত্রণাও। এমনকি ঘা বিষিয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও অনেকাংশে হ্রাস পাবে। রোগীদের স্বাচ্ছন্দ্যের কথা মাথায় রেখে এমনই ‘স্মার্ট ব্যান্ডেজ’ আবিষ্কার করেছেন এনআইটি রাউরকেল্লার গবেষক প্রফেসর প্রসূন কুমার। ওই উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ডিপার্টমেন্ট অব বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড মেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সহকারী অধ্যাপক প্রসূন কুমার এবং তাঁর টিমের দাবি, এর বাণিজ্যিক ব্যবহার শুরু হলে প্রতি স্মার্ট ব্যান্ডেজ রোলের দাম হবে ৫০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে। অর্থাৎ, তা সাধারণ রোগীদের কাছে সহজলভ্যই হতে চলেছে।
সম্প্রতি একটি সুপরিচিত সায়েন্স জার্নালে এনআইটি রাউরকেল্লার গবেষকদের এহেন চমকপ্রদ আবিষ্কার সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। বিষয়টি ঘিরে প্রবল আগ্রহ তৈরি হয়েছে সংশ্লিষ্ট মহলে। জানা যাচ্ছে, আপাতত আবিষ্কারের পেটেন্ট নেওয়ার তোড়জোড় শুরু করেছেন গবেষকরা। আবিষ্কর্তাদের দাবি, সাধারণ কটন গজে অনেক সময়ই গড়পড়তা ব্যান্ডেজ সেঁটে যায় আঘাতপ্রাপ্ত জায়গায়। এর ফলে যেসব জায়গায় বারবার ‘ড্রেসিং’য়ের প্রয়োজন হয়, সেখানে এমন সাধারণ কটন গজে রোগীদের সমস্যায় পড়তে হয়। অনেক সময় এর ফলে নতুন তৈরি হওয়া ‘টিস্যু’ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর ফলে যদি ঠিকমতো ‘ড্রেসিং’ না হয়, তাহলে ঘা বিষিয়ে ওঠার আশঙ্কাও থাকে।
ওই গবেষকদের দাবি, ‘স্মার্ট ব্যান্ডেজ’ ব্যবহার করলে এমন আশঙ্কা থাকবে না। কারণ এই ব্যান্ডেজে ব্যবহৃত হচ্ছে ন্যানোফাইবারের একটি স্তর। তা নতুন তৈরি হতে থাকা ‘সেল’ এবং ‘টিস্যু’কে রক্ষা করবে। আঘাতপ্রাপ্ত জায়গায় সরাসরি সংযোগ হবেই না এই ‘স্মার্ট কটন গজ’-এর। এরই পাশাপাশি এই স্মার্ট ব্যান্ডেজে থাকবে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল রক্ষাকবচও। এর ফলে ওই জায়গা বিষিয়ে যাবে না। বারবার ‘ড্রেসিং’য়ের প্রয়োজন হলেও পুরো প্রক্রিয়া হবে তুলনায় অনেক কম যন্ত্রণাদায়ক। ফলে সামগ্রিকভাবে স্বস্তি মিলবে রোগীদের।