সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সুপার স্পেশালিটি ব্লক এখনও পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হয়নি। ফলে কোটি কোটি টাকার অত্যাধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, মোট ৬৫টি চিকিৎসা সরঞ্জাম আসার কথা থাকলেও, এখনও ১৫টি গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্র পৌঁছয়নি। এর মধ্যে ক্যাথল্যাব ও হার্ট-লাং মেশিন অন্যতম। ফলে অ্যাঞ্জিওগ্রাম, অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টি, ওপেন হার্ট সার্জারির মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবা চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে এই দু’টি চিকিৎসা সরঞ্জামের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও বেশ কয়েকটি যন্ত্রও ব্যবহার করা যাচ্ছে না। বিষয়টি স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে জানানো হয়েছে। তিনি পরিদর্শনে আসবেন বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী আনন্দময় বর্মন।
চিকিৎসকদের একাংশের অভিযোগ, চক্ষু, ইউরোলজি, নেফ্রোলজি ও জেনারেল সার্জারি সহ একাধিক বিভাগের আধুনিক সরঞ্জাম প্রায় পাঁচ বছরেরও বেশি দিন ধরে বাক্সবন্দি অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ইউরোলজির জটিল অস্ত্রোপচারের জন্য জরুরি ইউটোরোস্কোপ, বেশকিছু ভেন্টিলেটর এখনও ব্যবহার শুরু হয়নি। এতে গরিব রোগীরা উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
রাজ্যের পরিবহণ ও অর্থদপ্তরের প্রতিমন্ত্রী আনন্দময় বর্মন বলেন, হাসপাতালের বিভিন্ন অব্যবস্থাপনার বিষয়টি তিনি রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়কে বিস্তারিতভাবে জানিয়েছেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী নিজে হাসপাতাল পরিদর্শন করে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। ইতিমধ্যেই স্বাস্থ্যভবনের একটি প্রতিনিধিদল হাসপাতাল পরিদর্শন করেছে।
হাসপাতালের অ্যাডিশনাল সুপার ডাঃ নন্দন বন্দ্যোপাধ্যায় স্বীকার করেছেন, অনেক চিকিৎসা সরঞ্জাম এখনও ব্যবহার শুরু হয়নি। তাঁর বক্তব্য, কোথাও দক্ষ চিকিৎসকের অভাব, কোথাও প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো না থাকায় এই সমস্যা তৈরি হয়েছে। সুপার স্পেশালিটি ব্লক পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে অধিকাংশ সরঞ্জামই ব্যবহারে আনা সম্ভব হবে।
করোনা সংক্রমণের সময় একটি বেসরকারি ব্যাংক গত বছর এই আইসিসিইউ তৈরি করে দিয়েছিল। সেখানে বেডের সঙ্গে ভেন্টিলেটর, সিরিঞ্জ পাম্প, কালার ডপলার ইকো কার্ডিও সহ অত্যাধুনিক সব চিকিৎসা সরঞ্জাম দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগ, করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতেই সেই আধুনিক চিকিৎসা পরিকাঠামো তছনছ করে দেওয়া হয়।