Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সালিশি সভায় চাপ দিয়ে দুই ভাইয়ের সম্পত্তি লিখিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

সালিশি সভায় চাপ দিয়ে দুই ভাইয়ের সম্পত্তি লিখিয়ে নেওয়ার অভিযোগ
  • ২ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
সংবাদদাতা, ঘাটাল: সালিশি সভায় চাপ দিয়ে দুই ভাইয়ের সম্পত্তি গ্রামের মোড়লদের নামে লিখিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠল। সাদা কাগজে বা স্ট্যাম্প পেপারে নয়, গ্রামের সভায় চাপ ও হুমকি দিয়ে জমি রেজিস্ট্রি অফিসে মোড়লদের নামে জমি লিখিয়ে দিতে বাধ্য করা হয়। দাসপুর থানার সামাট গ্রামে যে দুই ভাইয়ের জমি জোর করে রেজিস্ট্রি করিয়ে নেওয়া হয়েছে, তাঁদের নাম অরূপ চক্রবর্তী ও প্রতাপ চক্রবর্তী। গ্রামবাসীদের চাপে তাঁরা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানাতে পারছেন না বলে জানা গিয়েছে। বর্তমানে ওই দুই ভাইয়ের জমির মালিক হয়েছেন ওই গ্রাম কমিটির সম্পাদক ও সভাপতি যথাক্রমে তারাপদ পাত্র ও মানস ভট্টাচার্য। দু’জনেই স্বীকার করেছেন শর্ত সাপেক্ষে তাঁরা ওই পরিবারের কাছ থেকে প্রায় ৬০ শতক জমি লিখিয়ে নিয়েছেন। পরে তাঁরা ফেরত দিয়ে দেবেন। দাসপুর থানার পুলিস জানিয়েছে, গ্রামবাসীদের সঙ্গে অরূপ এবং প্রতাপের বেশ কয়েক মাস ধরেই ঝামেলা চলছিল। একটি মামলাও চলছে। এনিয়ে বেশ কয়েকবার থানাতেও উভয় পক্ষকে নিয়ে বসা হয়েছিল। কিন্তু জমি হস্তান্তরের খবর তাদের কাছে নেই। লিখিত অভিযোগ হলে পুলিস ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
Advertisement
অরূপের ভাই প্রতাপ দীর্ঘদিন ধরে কিডনির সমস্যায় ভুগছেন। অরূপ জানান, প্রায় এক বছর আগে তাঁর ভাই যখন হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন, তখন চিকিৎসার জন্য একটি কৃষিজমি হস্তান্তর করা হয়। কিছু টাকা অগ্রিম নিয়ে গ্রামের এক ওষুধ ব্যবসায়ীকে ওই জমি নিতে রাজি করানো হয়।
প্রতাপবাবু কিছুটা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলে সেই জমি ওই ওষুধ ব্যবসায়ীর নামে রেজিস্ট্রি করার জন্য অনুরোধ করেন। কিন্তু ওই ব্যবসায়ী পুরো টাকা না দিতে পারায় জমি রেজিস্ট্রি করা সম্ভব হয়নি। 
এরপর অরূপরা অগ্রিম নেওয়া টাকা ফেরত দিতে চাইলেও ওই ব্যবসায়ী সেই টাকা নিতে চাননি। ফলে টাকার প্রয়োজনে তাঁরা সেই জমি অন্যকে হস্তান্তর করে দেন।
তখনই গ্রামবাসীরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। গ্রামে সালিশি সভা ডেকে অরূপের ৪০ শতক এবং তাঁর ভাইয়ের ২০ শতক জমি গ্রাম কমিটির সভাপতি এবং সম্পাদকের নামে লিখে দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়। অরূপ বলেন, ‘আমি রাজি না হওয়ায় আমাকে মারধর করতে উদ্যত হয়। পরিবারের মহিলা সদস্যের নামেও কটূক্তি করা হয় এবং আমাদের পরিবারকে সামাজিক বয়কট করার হুমকি দেওয়া হয়। ফলে সম্প্রতি আমরা বাধ্য হয়েই ওই দুই ব্যক্তির নামে বাস্তু ছাড়া সমস্ত সম্পত্তি  রেজিস্ট্রি করে লিখে দিতে বাধ্য হই। ন’লক্ষ টাকা দিতে না পারলে ওই জমি আমাদের আর ফেরৎ দেবে না বলে গ্রাম কমিটি জানিয়ে দিয়েছে।’ 
গ্রামবাসীদের একাংশের কথায় অরূপদের অভিযোগ ঠিক নয়। ওই দুই ভাই জমি হস্তান্তরের জন্য টাকা নিয়েও জমি রেজিস্ট্রি করে দেননি। পরন্তু ওই ওষুধ ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে মিথ্যে মামলা করেছেন। যার জন্য তাঁর প্রচুর টাকা খরচ হচ্ছে। তারাপদবাবু বলেন, ‘গ্রামের একটা নিয়ম আছে। এভাবে কোনও মানুষকে সমস্যায় ফেলা উচিত নয়। সেজন্যই আমরা বলেছি ওই ব্যবসায়ীর কাছ থেকে নেওয়া টাকা ফেরত দিতে হবে। যতদিন না দিতে পারছে, ততদিন  সিকিউরিটি হিসেবে ওদের কিছু জমি আমাদের নামে রেজিস্ট্রি করিয়ে নেওয়া হয়েছে। ওরা ব্যবসায়ীর কাছ থেকে নেওয়া টাকা এবং মামলার জন্য খরচ হওয়া টাকা ফেরত দিলেই ওদের নামে ফের জমি রেজিস্ট্রি করিয়ে দেওয়া হবে।’ 
সম্পর্কিত সংবাদ