Bartaman Logo
১৪ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রবিবার

ধীর গতির ট্রেন!

ভারতের নীলগিরি মাউন্টেন রেলওয়ে দেশের সবচেয়ে ধীর গতির ট্রেন। ৪৬ কিমি যেতে লাগে ৫ ঘণ্টা। এই রেলপথের ইতিহাস ও গুরুত্ব জানুন।

ধীর গতির ট্রেন!
  • ১৪ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

ভারতের মতো ১৪০ কোটি জনসংখ্যার দেশে যাতায়াতের অন্যতম মাধ্যম রেল। হিসাব বলছে, প্রতিদিন গড়ে কয়েক কোটি মানুষ ট্রেনে চেপে গন্তব্যে যান। কম খরচে দ্রুত বিভিন্ন জায়গায় যাওয়ার এর থেকে ভালো উপায় বোধহয় আর নেই। ট্রেনে যাতায়াত করলে গাড়ি বা বাসের মতো যানজটের আশঙ্কাও থাকে না। কিন্তু ট্রেনে চেপে ৪৬ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে যদি সময় লেগে যায় প্রায় ৫ ঘণ্টা? অবাক হলে ছোট্ট বন্ধুরা? গল্প মনে হলেও এটাই সত্যি। হাইস্পিড ট্রেনের যুগে দক্ষিণ ভারতেই রয়েছে এমন এক বিচিত্র রেলপথ। নাম ‘নীলগিরি মাউন্টেন রেলওয়ে’। সেখানে ১০ কিমি প্রতি ঘণ্টা বেগেও ছুটতে পারে না ইঞ্জিন। এটাই দেশের সবথেকে ধীর গতির ট্রেন। 

Advertisement

তামিলনাড়ুর মেট্টুপালায়াম ও উধাগামণ্ডলম— এই দুই শহরের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে একটি কঠিন রেলপথ। দূরত্ব ৪৬ কিলোমিটার। নীলগিরি পর্বতের গা ঘেঁষে ছুটে চলে ইঞ্জিন। ভৌগোলিক অবস্থানের জন্য এই রেলপথের নাম ‘নীলগিরি মাউন্টেন রেলওয়ে’। তবে উধাগামণ্ডলমের চেয়ে উটি নামটিই সকলের কাছে বেশি পরিচিত। উনিশ শতকে এখানে একটি হিল স্টেশন তৈরি করেছিল তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার। মূলত গ্ৰীষ্মকালীন ছুটি কাটাতেই এই পদক্ষেপ। সাহেবদের ভাষায় উধাগামণ্ডলম হয়ে উঠেছিল ‘ওটাকামুন্ড’। 
উটি নিয়ে তো অনেক কথা হল। এবার দেশের সবচেয়ে ধীর গতির ট্রেনের গল্পে ফেরা যাক। উটির যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো করতে রেলপথ তৈরির পরিকল্পনা নিল ব্রিটিশ সরকার। সেইমতো ১৮৮৫ সালে দ্য নীলগিরি রেলওয়ে কোম্পানিকে নথিভুক্ত করা হয়। ১৮৯১ সালে শুরু হয় কাজ। প্রচণ্ড দুর্গম এই অঞ্চলে রেলপথ তৈরি করা মোটেই সহজ কাজ ছিল‌‌ না। তবে ব্রিটিশরা হাল ছাড়েনি। দু’ধাপে রেলপথ চালু করা হয়। ১৮৯৯ সালের ১৫ জুন মেট্টুপালায়াম থেকে কুনুর পর্যন্ত রেল সফর শুরু হয়। ১৯০৮ সালে ব্রিটিশ সরকারের তত্ত্বাবধানে কুনুর থেকে উটি পর্যন্ত রেলপথ তৈরির কাজ সম্পন্ন হয়। ৪৬ কিমির এই রেলপথ তৈরি করতে ১৬টি সুড়ঙ্গ ও ২৫০টি সেতু নির্মাণ করতে হয়েছিল। একইসঙ্গে পাহাড়ের ঢাল কেটে ২০৮টি অর্ধচন্দ্রাকৃতি পথ তৈরি করতে হয়েছিল। সেই পথ যথেষ্ট খাড়াইও বটে। ট্রেন চালানোর জন্য ইঞ্জিন দিয়েছিল একটি সুইস সংস্থা। তবে প্রাকৃতিক প্রতিকূলতার কারণে দ্রুত গতিতে ট্রেন চালানো অসম্ভব হয়ে ওঠে। তাই প্রতি ঘণ্টায় ৯ কিমি গতি নিয়ে ছুটতে শুরু করে ইঞ্জিন। অবশ্য গ্ৰীষ্মের ছুটি কাটাতে আসা ব্যক্তিদের এই বিষয়টি কখনোই চিন্তিত করেনি। একদিকে খাদ। অন্যদিকে সবুজ পাহাড়। দূরে চা-বাগানে কাজ করছেন মহিলারা। ট্রেনের কামরায় বসে এমন মনোরম দৃশ্য উপভোগ করতে কার না ভালো লাগে। 
রেলপথ তৈরির পর কেটে গিয়েছে ১০০ বছর। নগরায়ন ও উন্নয়নের ঝড়ে উটি অনেকটা বদলে গিয়েছে ঠিকই। তবে ‘নীলগিরি মাউন্টেন রেলওয়ে’ একই আছে। কয়েক বছর আগে ন্যারো গেজের এই রেলপথকে হেরিটেজ তকমা দেয় ইউনেস্কো। ভারতীয় চলচ্চিত্রে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে দুর্গম এই রেলপথ। দেখা যায়, সিনেমার পর্দায় ধোঁয়া উড়িয়ে দিব্যি ছুটছে স্টিম ইঞ্জিন। এভাবেই মানুষের মনে জায়গা করে নিয়েছে দেশের সবচেয়ে ধীর গতিসম্পন্ন ট্রেন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ