নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: মূল্যবৃদ্ধির জ্বালায় মানুষের হাতে টাকা নেই। এই অবস্থায় রোগ জ্বালার মারণ কামড়ে মানুষের নাভিশ্বাস উঠছে। সবচেয়ে বড় সমস্যায় গ্রামীণ এলাকার মানুষ। অ্যালোপ্যাথি চিকিৎসায় রোগ নির্ণয়ে বড় ভরসা নানা শারীরিক পরীক্ষা। বেশিরভাগ গ্রামীণ এলাকাতেই উন্নতমানের ল্যাব নেই। শহরের এসে বাইরে থেকে পরীক্ষা করাতে বিপুল খরচ। সালানপুর, রানিগঞ্জ ও পাণ্ডবেশ্বরের মানুষের সেই ভোগান্তি কাটতে চলেছে। তিনি ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রই ব্লক প্রাথমিক হেল্থ ইউনিটের মর্যাদা পেতে চলেছে। তারজন্য হাসপাতালগুলিতে গড়ে উঠবে উন্নতমানের ল্যাব। সেখানে বহু শারীরিক পরীক্ষা করিয়ে নিতে পারবে সাধারণ মানুষ। বিনামূল্যে নিজের এলাকাতেই এই পরিষেবা পেলে মানুষের ভোগান্তি অনেকটাই কমবে।
Advertisement
দ্বিতীয়ত, তিনটি ব্লকেই একজন করে এপিডেমোলজিস্ট ও একজন করে স্ট্যাস্টিক্যাল ম্যানেজার নিয়োগ করা হবে। যাঁরা ব্লকের বিভিন্ন প্রান্তের রোগ জ্বালার পরিসংখ্যান দেখে কোনও অতিমারীর সম্ভবনা আছে কি না, তা খতিয়ে দেখবেন। তেমন কোনও সম্ভাবনা সৃষ্টি হলেই, তা সহজে স্বাস্থ্যদপ্তরের নজরে আসবে। স্বাস্থ্যদপ্তরের আশা, ডায়ারিয়া, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে বড় ভূমিকা নেবে এই পরিকাঠানো। ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলিতে ল্যাব ও এই নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার জন্য নতুন বিল্ডিং তৈরি হবে। প্রতিটি ব্লকের জন্য ৬০ লক্ষ টাকা করে বরাদ্দ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার আসানসোলের এডিডিএ কনফারেন্স হলে অনুষ্ঠিত হয় ডিস্ট্রিক্ট লেভেল ডেভেলপমেন্ট মনিটারিং কমিটির বৈঠক। জেলাশাসক পোন্নমবলম এস, অতিরিক্ত জেলাশাসক সঞ্জয় পাল, সুবাসিনী ই সহ প্রশাসনের আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে হাজির ছিলেন জেলার মুখ্যস্বাস্থ্য আধিকারিকও। বৈঠকেই বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। তিনটি ব্লকেই এই পরিকাঠামো গড়ার দায়িত্ব ব্লক প্রশাসনকে দিয়েছেন জেলাশাসক। স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, এই জেলায় প্রথম জামুড়িয়া ও পানাগড় বিপিএইচসিতে এই উদ্যোগ নিয়ে ল্যাব গড়ে তোলা হয়েছিল। পরবর্তী ধাপে খান্দড়া-উখরা, বারাবনি, লাউদোহা বিপিএইচসিতেও এই ল্যাব গড়ার কাজ শুরু হয়েছে। বাকি তিনটি ব্লকও এই কাজের অনুমোদন পেল।



