নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: সিলিকোসিস রোগ আটকাতে আরও কঠিন অবস্থান নিল জেলা প্রশাসন। সোমবার এনিয়ে আসানসোলে শ্রম দপ্তর, স্বাস্থ্য দপ্তর ও জেলা প্রশাসনের কর্তারা বৈঠকে বসেন। সেখানে গঠন করা হয় বিশেষ অভিযান টিম। সিলিকোসিস হওয়ার আশঙ্কা আছে এমন কারখানাগুলিতে তাঁরা আচমকা পরিদর্শনে যাবেন। সেই টিমে যেমন চিকিৎসক থাকবেন তেমনি থাকবেন পুলিস কর্মী, দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের আধিকারিকরা। শ্রম দপ্তরের নেতৃত্বে গড়া টিম পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। প্রসঙ্গত, সালানপুরে রমরমিয়ে চলছে অবৈধ পাথর খাদান ও ক্র্যাশার। যেখান থেকে সিলিকোসিস রোগ হওয়ার আশঙ্কা প্রবল। এ নিয়ে ‘বর্তমান’ পত্রিকায় একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। তারপরই তৎপর হয় প্রশাসন। জেলাশাসক বিষয়টি নিয়ে বিএলএলআরওর কাছে রিপোর্ট তলব করেছেন। জেলাশাসক পোন্নমবলম এস বলেন, ক্র্যাশার থেকেও সিলিকোসিস হওয়ার আশঙ্কা থাকে। সালানপুর ব্লকে অবৈধ পাথর খাদান ও ক্র্যাশার চলার অভিযোগ পেয়েছি। বিএলএলআরও কাছে রিপোর্ট তলব করা হয়েছে। আশা করি, উনি দ্রুত রিপোর্ট দেবেন। সোমবার বৈঠক করে কারখানা পরিদর্শনের জন্য বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে। স্বাস্থ্য দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী গত দু’বছরে সিলিকোসিস রোগে দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্ত আরও পাঁচজন। সালানপুরের পাশাপাশি সিলিকোসিস ছড়িয়ে পড়েছে জামুড়িয়া ও রানিগঞ্জেও। স্বাস্থ্য দপ্তর ওই এলাকায় নমুনা সংগ্রহের কাজ শুরু করেছে। এবার অসাধু খাদান মালিকদের বিরুদ্ধে লাগাম টানতে চাইছে প্রশাসন। সেজন্যই গঠন করা হল বিশেষ টিম। আসানসোলের ডেপুটি লেবার কমিশনার অমিয় দাস বলেন, একাধিক দপ্তর মিলে টিম গঠন করা হয়েছে। আমরা আকষ্মিক অভিযানে গিয়ে পরিস্থিতি যাচাই করব। বৈঠকে জেলা মুখ্যস্বাস্থ্য আধিকারিক শেখ মহম্মদ ইউনুসও উপস্থিত ছিলেন।
Advertisement
যদিও বিজেপি যুব মোর্চার সভাপতি বাবন মণ্ডল বলেন, সালানপুরে রমরমিয়ে নদী দখল করে চলছে অবৈধ পাথর খাদান। জেলাশাসক নিজে গিয়ে সরেজমিনে তদন্ত করলেই সত্যিটা জানতে পারবেন।



