সংবাদদাতা, মেদিনীপুর: পিংলা ব্লককে আবর্জনা মুক্ত করতে সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্রকল্প চালু করছে পঞ্চায়েত সমিতি। কাজও শুরু হয়ে গিয়েছে। বাড়ি বাড়ি আবর্জনা সংগ্রহ করে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে পচন ও অপচনশীল আবর্জনা আলাদা করা হবে। তার থেকে জৈব সার তৈরি করে বিক্রি করা হবে। সেখান থেকে পঞ্চায়েত সমিতির আয়ও হবে। পঞ্চায়েত সমিতি সূত্রে জানা গিয়েছে, ১০টি পঞ্চায়েত এলাকাতেই এই প্রকল্প হবে। সাতটি ছোট ও তিনটি বড়। বড়গুলিতে জৈব সার তৈরি হবে। পঞ্চায়েত সমিতি সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রকল্পের কাজ শেষ হয়ে গেলে রাস্তার ধারে আবর্জনা ফেলা বন্ধ করা হবে।
Advertisement
পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি নিমাই সিং বলেন, করকাই, ধনেশ্বরপুর ও পিণ্ডরুই পঞ্চায়েত এলাকায় বড় প্রকল্প হবে। সেখানে বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ করে সার তৈরি হবে। করকাইয়ের কাজ শেষ হয়ে গিয়েছে। বাকি দু’টির কাজ চলছে। এছাড়াও কয়েকটি ছোট প্রকল্পেরও কাজ শেষ হওয়ার মুখে। তিনি আরও বলেন, এই প্রকল্পের কাজ শেষ হলে পিংলা ব্লককে আবর্জনা মুক্ত করা যাবে। রাস্তার ধারে আর অবর্জনা জমা করে রাখা যাবে না। আমাদের কর্মীরাই বাড়ি থেকে আবর্জনা সংগ্রহ করে নিয়ে যাবে। গাড়ি করে সেই আবর্জনা প্রকল্প স্থানে জমা করা হবে। সেখানে পৃথকীকরণ করে সার তৈরির কাজে লাগানো হবে। ফলে আমাদের আয়ও বাড়বে। পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ শেখ মাজরুল রহমান বলেন, এই প্রকল্পের জন্য ২১টি গাড়িও কেনা হয়েছে। সেই সব গাড়ি পঞ্চায়েতগুলিকে দেওয়া হয়েছে। সেই গাড়ি করেই আবর্জনা সংগ্রহ করা হবে। বাড়ি বাড়ি আবর্জনা সংগ্রহের জন্য প্রতিটি বাড়িতে দু’টি করে বালতি দেওয়া হচ্ছে। একটিতে পচনশীল ও অপরটিতে অপচনশীল আবর্জনা রাখতে হবে। তিনি বলেন, এর থেকে যে আয় হবে আগামী দিনে সেই টাকা থেকে প্রকল্প চলবে। বাড়ি থেকে আবর্জনা সংগ্রহের জন্য ৪৬জন কর্মী নিয়োগ করা হবে। এখন ১৩জন কাজ করছে। জেলা পরিষদের সদস্য শেখ সবেরাতি বলেন, আমাদের ব্লকে প্রায় দু’লক্ষ বাসিন্দা আছেন। বাড়ির সংখ্যা প্রায় ৫০ হাজার। প্রতিটি বাড়িতেই দু’টি করে বালতি দেওয়া হবে। এখন পর্যন্ত ৩৭টি বাড়িতে দেওয়া হয়ে গিয়েছে। বাকি বালতি বিতরণের কাজ চলছে। যত দ্রুত সম্ভব প্রকল্পের কাজ শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠান থেকেও আবর্জনা সংগ্রহ করা হবে।



