Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সাক্ষ্যগ্রহণের দ্বিতীয় দিনে পুলিস তুলে আনল অভিযোগকারিণীকে

সাক্ষ্যগ্রহণের দ্বিতীয় দিনে পুলিস তুলে আনল অভিযোগকারিণীকে
  • ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: রানাঘাটের জোড়া খুনের মামলার প্রথম দিন অসুস্থতার কারণে সাক্ষ্যদান সম্পূর্ণ হয়নি অভিযোগকারিনী দেবদত্তা মুখোপাধ্যায়ের। এরপর সোমবার ফের এজলাসে গরহাজির ছিলেন তিনি। কিন্তু অল্প সময়ের জন্য হলেও সোমবারই জোড়া খুনকাণ্ডের অভিযোগকারিনীকে আসতেই হবে, বিচারকের এই নির্দেশ পেয়ে তড়িঘড়ি তাঁকে হাজির করল পুলিস। উল্লেখ্য, অভিযোগকারিনী দেবদত্তা মুখোপাধ্যায় নিহত ব্যবসায়ী সুমন চক্রবর্তীর স্ত্রী। 
Advertisement
রানাঘাটে জোড়া খুনের ঘটনায় ১৪ ফেব্রুয়ারি ছিল প্রথম সাক্ষ্যদান। নিহত ব্যবসায়ী সুমন চক্রবর্তীর স্ত্রী দেবদত্তা মুখোপাধ্যায় ওইদিন রানাঘাট মহকুমা আদালতে হাজির হয়েছিলেন। কিন্তু অভিযুক্ত পক্ষের আইনজীবীর সঙ্গে প্রশ্ন-উত্তর অর্থাৎ জেরা প্রক্রিয়ার মাঝেই অসুস্থ বোধ করেন তিনি। ফলে সাক্ষ্যদান হলেও জেরার প্রক্রিয়া স্থগিত রাখার নির্দেশ দেন বিচারক। পুনরায় সেই মামলার দিন ধার্য ছিল সোমবার। জেরা সম্পূর্ণ করার জন্য হাজির থাকার কথা ছিল দেবদত্তার। কিন্তু তিনি হাজির হননি। মামলার সরকারি আইনজীবী আদালতের কাছে সময় চান। পারিবারিক সমস্যার কারণে অভিযোগকারিণী এদিন আসতে পারেননি বলে জানানো হয়। এতে তীব্র আপত্তি করেন অভিযুক্ত পক্ষের আইনজীবী সুমন রায়। এরপরই বিচারক সৌমেন গুপ্ত তদন্তকারী পুলিস আধিকারিককে নির্দেশ দেন, অল্প সময়ের জন্য হলেও দেবদত্তা মুখোপাধ্যায়কে সোমবার আদালতের কার্যকালীন সময়ের মধ্যে আসতে হবে। বিচারকের এই নির্দেশের কিছুক্ষণ পরেই আদালতে হাজির হন অভিযোগকারিনী। 
এদিকে, মামলার বিচার প্রক্রিয়া চলাকালীন জোড়া খুনকাণ্ডের একমাত্র ধৃত দীপক স্বর্ণকারকে ভার্চুয়ালি হাজির করা হয়েছিল। বর্তমানে ধৃত রানাঘাটের উপ সংশোধনাগারের আবাসিক। সূত্রের খবর, আদালতে দাঁড়িয়ে অন্যান্য বারের মতো এবারেও মৃত সুমনের স্ত্রী স্পষ্ট জানান, এই ঘটনায় দীপক ছাড়াও একাধিক ব্যক্তি জড়িত থাকতে পারে। বিষয়টি তাঁর তরফে দায়ের করা অভিযোগ পত্রেও উল্লেখ ছিল। এদিন আদালত থেকে বেরিয়ে অভিযুক্ত পক্ষের আইনজীবী সুমন রায়ের দাবি, অভিযোগকারিনীর আগের দিনের বক্তব্য এবং আজকের বক্তব্যের মধ্যে প্রচুর অসংগতি ধরা পড়েছে। তিনি বলেন, ‘বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আমরা আদালতে প্রমাণ করে দেব যে, অভিযোগকারিনী শপথ নিয়ে আদালতে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, আমার মক্কেল নির্দোষ তাও প্রমাণিত হবে।’ সরকার পক্ষের আইনজীবী দেবরঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘অভিযোগকারিনীর সাক্ষ্যদান এবং জেরা সম্পূর্ণ হয়েছে। এর পরবর্তী তারিখে নিহত সুমনের ড্রাইভার তথা খুন হওয়া দ্বিতীয় ব্যক্তি রূপম দাসের স্ত্রীর সাক্ষ্যগ্রহণের কথা। এছাড়াও যে বাড়িতে এই নৃশংস ঘটনা ঘটেছে তার মালিকেরও সাক্ষ্যদান করার কথা।’ 
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ২৫ জুলাই রানাঘাট থানা এলাকার আনুলিয়াতে ঘটে গিয়েছিল নৃশংস এই জোড়া খুন। একটি নার্সারির পাশে নির্মীয়মাণ বাড়ি থেকে  একমাত্র অভিযুক্ত হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয় দীপক স্বর্ণকারকে। এই ঘটনায় মৃত সুমন চক্রবর্তী পেশায় ব্যবসায়ী ছিলেন। মৃত দ্বিতীয় ব্যক্তির রূপম দাস ছিলেন তাঁর গাড়ির চালক। -নিজস্ব চিত্র
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ