Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

স্কিম জমা দিচ্ছেন না সোহম ও দিন্ডা

স্কিম জমা দিচ্ছেন না সোহম ও দিন্ডা
  • ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
শ্রীকান্ত পড়্যা, তমলুক: পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় বিধায়ক এলাকা উন্নয়নের টাকা খরচে সবার পিছনে দুই তারকা বিধায়ক। সময়মতো স্কিম জমা না দেওয়ায় দেড় থেকে পৌনে দু’কোটি টাকা পড়ে রয়েছে। স্কিম জমা দেওয়ার জন্য জেলাশাসকের অফিস থেকেই তাঁদের তাগাদা দেওয়া হয়েছে। অন্য বিধায়করা টাকা আসার আগেই স্কিম জমা করলেও চণ্ডীপুরের বিধায়ক সোহম চক্রবর্তী এবং ময়নার বিধায়ক অশোক দিন্ডা সময়মতো স্কিম জমা করছেন না। যেকারণে তাঁদের বিধায়ক এলাকা উন্নয়ন তহবিলের দেড় থেকে পৌনে ২ কোটি টাকা পড়ে রয়েছে। বছর ঘুরলেই ’২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে তৃণমূল ও বিজেপির দুই তারকা বিধায়কের পারফরমেন্স নিয়ে এলাকায় চর্চা চলছে। জেলাশাসকের অফিস থেকেও কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁদের সময়মতো পাওয়া যায়নি।
Advertisement
২০২১ সালে চণ্ডীপুরের দু’টি টার্মের বিধায়ক অমিয়কান্তি ভট্টাচার্যকে বসিয়ে সেখানে প্রার্থী করা হয় সোহম চক্রবর্তীকে। ২০১৬ সালে বাঁকুড়ার বড়জোড়া বিধানসভার মানুষ তাঁকে খালি হাতে ফেরালেও চণ্ডীপুর বিধানসভার মানুষ দু’হাত তুলে তাঁকে আশীর্বাদ করেছেন। বিধায়ক হওয়ার পর সোহম চণ্ডীপুরে একটি অফিস খুললেও নিজের বিধানসভার সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ অনেকটাই কম। এলাকায় এনিয়ে ক্ষোভ রয়েছে। দলের কর্মীদের মধ্যেও ক্ষোভ রয়েছে। বিধায়ক এলাকা উন্নয়ন তহবিলের টাকা খরচেও সোহম ১৬ জনের মধ্যে ১৫ তম স্থানে আছেন। ২০২১ সালের পর থেকে চণ্ডীপুর বিধানসভা এলাকায় উন্নয়নের জন্য এ পর্যন্ত ২ কোটি ৬০ লক্ষ টাকা এসেছে। খরচ হয়েছে মাত্র ৯৪ লক্ষ টাকা। মাত্র ৩৮ শতাংশ টাকা খরচ হয়েছে। ওই তহবিলের টাকায় কাজের জন্য বিধায়ককেই স্কিম জমা করতে হয়। সময়মতো স্কিম ডিএম অফিসে জমা না পড়লে প্রশাসন টাকা বরাদ্দ করতে পারে না। স্কিমের লিস্ট জমা করার জন্য জেলা পরিকল্পনা অফিস থেকে তাঁকে কয়েকবার তাগাদা দেওয়া হয়। তারপর তিনি এপর্যন্ত ২কোটি ৪১ লক্ষ টাকার স্কিম জমা করেছেন। তারমধ্যে জেলা প্রশাসন ১ কোটি ৫৭ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করেছে। অনেকটা দেরিতে স্কিম জমা পড়ায় অন্যদের তুলনায় পারফরমেন্সে পিছিয়ে।
একইভাবে ময়না বিধানসভার বিজেপির তারকা বিধায়ক অশোক দিন্ডা বিধায়ক এলাকা উন্নয়ন তহবিলের পারফরমেন্সে সকলের পিছনে। জেলায় মোট ১৬ জন বিধায়কের মধ্যে তাঁর স্থান ১৬ তম স্থানে। ২০২১ সাল থেকে এপর্যন্ত ময়না বিধানসভা এলাকা উন্নয়নের জন্য ২ কোটি ৬০ লক্ষ টাকা এসেছে। তারমধ্যে খরচ হয়েছে মাত্র ৮৬ লক্ষ ৫৪ হাজার টাকা। অর্থাৎ এখনও পড়ে রয়েছে ১ কোটি ৭৪ লক্ষ টাকা। মাত্র ৩৩ শতাংশ টাকা খরচ হয়েছে। তাগাদা দেওয়ার পর ওই বিধায়ক ২ কোটি ১৪ লক্ষ টাকার স্কিম জমা করেছেন। তবে, অনেকটা দেরিতে ওইসব স্কিম জমা পড়েছে। তাই টাকা ছাড়তেও অনেক দেরি হয়েছে। তিনি মোট ১৪৭টি স্কিম জমা করেছেন। তারমধ্যে ১০০টি স্কিমে ১ কোটি ৫৩ লক্ষ টাকা মঞ্জুর করেছে জেলা প্রশাসন।
এছাড়াও এগরার বিধায়ক তরুণকুমার মাইতির বিধায়ক এলাকা উন্নয়ন তহবিলের পারফরমেন্স বেশ খারাপ। ২ কোটি ৬০ লক্ষ টাকার মধ্যে মাত্র ৯৭ লক্ষ টাকার ইউসি জমা পড়েছে। শতাংশের নিরিখে ৩৭ ভাগ টাকা খরচ হয়েছে। পারফরমেন্সের নিরিখে সবার শীর্ষে আছেন পটাশপুরের বিধায়ক উত্তম বারিক। ২ কোটি ৬০ লক্ষ টাকার মধ্যে ১ কোটি ৯০ লক্ষ টাকার ইউসি জমা পড়েছে। মহিষাদলের বিধায়ক তিলক চক্রবর্তীও পারফরমেন্সে এগিয়ে। ১ কোটি  ৮৮ লক্ষ টাকার ইউসি জমা পড়েছে। 
দুই বিধায়কের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা হলেও ফোন ধরেননি। জেলাশাসক পূর্ণেন্দু মাজী বলেন, ২০২৪-’২৫ আর্থিক বছরে ১৬টি বিধানসভার জন্য দু’টি কিস্তির টাকা এসে গিয়েছে। কেউ কেউ দেরিতে স্কিম জমা করায় ইউসি দেরিতে জমা পড়ছে।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ