সংবাদদাতা, করিমপুর: স্কুলছুট আটকাতে ও স্কুলে যাওয়ার আগ্রহ বাড়াতে পড়ুয়াদের জন্মদিন পালন চালু করেছে করিমপুরের বিভিন্ন স্কুল। এই উদ্যোগের ফল মিলেছে হাতেনাতে। গত এক বছরে সেইসব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বেড়েছে পড়ুয়াদের। স্থানীয় স্কুল শিক্ষাদপ্তর থেকে জানা গিয়েছে, শুরুটা হয়েছিল বছর খানেক আগে পিপুলবেড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে। তারপর থেকে করিমপুর চক্রের বহু প্রাথমিক বিদ্যালয় পড়ুয়াদের জন্মদিন পালন শুরু করেছে। রানিনগর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পীযূষ জোয়ারদার বলেন, গ্রামীণ এলাকার বেশিরভাগ ছেলেমেয়েদের বাড়িতে সেভাবে জন্মদিন পালন হয় না। একসময়ে পড়ুয়াদের উপস্থিতি কমে যাওয়ায় শিক্ষকরা আলোচনা করে স্কুলে পড়ুয়াদের জন্মদিন পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। ঠিক হয়েছিল, একটি মাসে প্রাক প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণির যেসব ছাত্রছাত্রীর জন্মদিন, সেই মাসের একটা নির্দিষ্ট দিনে তারা সবাই স্কুলে একসঙ্গে একটি বড় কেক কাটবে এবং অন্যান্য দিনের মতো স্কুলের সকল ছাত্রছাত্রীদের মিড ডে মিল খাওয়ানো হবে। আর বার্থ ডে কেক ও মিষ্টির খরচ বহন করবেন শিক্ষকরা। এমন আয়োজনে ভীষণ খুশি খুদেরা। পরবর্তী সময়ে নিয়ম করে স্কুলে জন্মদিন পালন শুরু করে মজলিসপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়, অভয়পুর প্রাথমিক বিদ্যালয়, জ্যোতির্ময় স্মৃতি বিদ্যানিকেতন, রানিনগর প্রাথমিক বিদ্যালয়। করিমপুরের জ্যোতির্ময় স্মৃতি বিদ্যা নিকেতনের প্রধান শিক্ষক প্রকাশ মণ্ডল বলেন, ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে পড়ুয়াদের জন্মদিন পালন করে আসছি। প্রত্যেক মাসের শেষ দিনে এই জন্মদিন পালন করা হয়। কেক কাটার পাশাপাশি সরকারের সদ্য অতিথি ভোজন নির্দেশিকা পাওয়ার পর থেকে এলাকার কোনও না কোনও ব্যক্তি জন্মদিন পালনে বিশেষ মেনু নিয়ে হাজির হন। ফলে এখন স্কুল কামাই কমেছে। মজলিসপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পার্থ রায় বলেন, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে জন্মদিন পালন করে আসছি। আমাদের স্কুলে সেপ্টেম্বর মাসে ১৬ জন ছাত্রছাত্রীর জন্ম তারিখ ছিল। তারপর পুজোর ছুটি থাকায় অক্টোবর মাসে পালন সম্ভব হয়নি। নভেম্বর মাসে তেইশ জনের পালন করা হয়। করিমপুর চক্রের অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক সোমদেব মজুমদার জানান, এই জন্মদিন পালন করার ব্যাপারে অনেক প্রধান শিক্ষক আমাকে জানতে চেয়েছিলেন। অনুমতি মেলায় এখন অনেক স্কুল তাদের ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে জন্মদিন পালন করছে। যার ফলে শিক্ষকদের সঙ্গে ছাত্রছাত্রীদের একটা ভালো সম্পর্ক তৈরি হচ্ছে এবং তার ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে স্কুলের হাজিরায়।



