Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

স্কুলছুট কমাতে দক্ষিণবঙ্গের ১১০৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে পঞ্চম শ্রেণিতে উন্নীত শিক্ষাদপ্তরের

স্কুলছুট কমাতে দক্ষিণবঙ্গের ১১০৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে পঞ্চম শ্রেণিতে উন্নীত শিক্ষাদপ্তরের
  • ৯ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সুখেন্দু পাল, বর্ধমান: গ্রাম থেকে হাইস্কুল অনেক দূরে। সেই কারণে অনেকেই চতুর্থ শ্রেণি পাশ করেই পড়াশোনার ইতি টানে। সেসব পড়ুয়াদের কথা ভেবে দক্ষিণবঙ্গের ১১০৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয় পঞ্চম শ্রেণিতে উন্নীত করা হচ্ছে। পূর্ব বর্ধমানের ৮৩টি স্কুলকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত উন্নীত করা হবে। শিক্ষাদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, জামালপুরের সেলিমাবাদ এফপি, কেউতারা এফপি, গুসকরা বালিকা এফপি, কালনার বিজয়নগর এফপি স্কুলে আগামী দিনে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ানো হবে। পূর্ব বর্ধমানের প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের চেয়ারম্যান মধুসূদন ভট্টাচার্য বলেন, সরকারের এই সিদ্ধান্তে বহু পড়ুয়া উপকৃত হবে। আগামী দিনে আরও বেশিকিছু প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ানো হবে। সরকার সমস্ত স্তরেই শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে চাইছে। সেই কারণেই কন্যাশ্রী, শিক্ষাশ্রী, সবুজসথীর মতো প্রকল্প চালু হয়েছে। শিক্ষাদপ্তর সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, পূর্ব বর্ধমানের পাঁচরা, রাজুয়া, পালিতপুর, শীতলগ্রাম, গ্রামকালনা, জৌগ্রাম, কুরম্বা, রাজের, হরিপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়েও পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ানো হবে। পাশের জেলা পশ্চিম বর্ধমানের ৮৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ও পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত উন্নীত হবে। প্রতিটি জেলাতেই এভাবে প্রাথমিক স্কুলগুলিতে শ্রেণি বাড়ানো হচ্ছে। 
Advertisement
শিক্ষাদপ্তর সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, দুই বর্ধমানের শহরের বেশকিছু প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ুয়ার সংখ্যা তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। অনেক স্কুলেই ২০-র নীচে পড়ুয়া রয়েছে। এই সমস্ত স্কুলগুলিকে নিয়েও চিন্তাভাবনা শুরু হয়েছে। এক্ষেত্রে দু’টি স্কুল সংযুক্তিকরণ করা হতে পারে। এক আধিকারিক বলেন, ছাত্রছাত্রী না থাকায় ওই স্কুলগুলিতে শিক্ষকদের কাজ থাকে না। তাঁদের অনেকে স্কুলেও যান না। ওই শিক্ষকদের অন্য স্কুলে বদলি করা যায় কি না তা নিয়ে দপ্তর খতিয়ে দেখছে। অনেক স্কুলে পড়ুয়ার তুলনায় শিক্ষকের সংখ্যা কম রয়েছে। সেসব স্কুলগুলিতে শিক্ষক, শিক্ষিকাদের বদলি করা যেতে পারে। আউশগ্রাম বা মঙ্গলকোটের মতো বেশকিছু জায়গায় গ্রাম থেকে দূরে প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। ছোটদের দূরে স্কুলে যেতে সমস্যা হয়। অনেকে হেঁটে স্কুলে পৌঁছতে পারে না। বাবা-মা অন্য কাজে ব্যস্ত থাকায় সন্তানদের স্কুলে নিয়ে যেতে পারেন না। তার ফলে ড্রপআউটের সংখ্যা বেড়ে যায়। কিন্তু গ্রামের কাছে স্কুলে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ার সুযোগ থাকলে ড্রপ আউট কমবে বলেই শিক্ষক-শিক্ষিকারা মনে করছেন। শিক্ষাদপ্তর সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, বাঁকুড়ার ৪৫, বীরভূমের ১১৮, নদীয়ার ১৪০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ানো হবে। মুর্শিদাবাদে ৪৮৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয় পঞ্চম শ্রেণিতে উন্নত করা হচ্ছে। পূর্ব মেদিনীপুরের ৬১টি প্রাথমিক স্কুলেও পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কয়েকটি স্কুলের পরিকাঠামোও উন্নত করা হচ্ছে।
সম্পর্কিত সংবাদ