এর্নাকুলম: স্কুলে লাগাতার র্যাগিং। খোটা দেওয়া হত গায়ের রঙ নিয়ে। অপমানে আত্মঘাতী হলেন বছর পনেরোর এক কিশোর। কেরলের থ্রিপুনিথারায় এই ঘটনা ঘটেছে। জানা গিয়েছে, গত ১৫ জানুয়ারি নিজের আবাসনের ২৭তলা থেকে ঝাঁপ দিয়েছিল মিহির নামে ওই কিশোর। তার মা রাজনা সোশ্যাল মিডিয়ায় ছেলের এই পরিণতির আসল কারণ কথা জানান। তাতেই গোটা বিষয় সামনে আসে। ছেলের উপর হওয়া অত্যাচার নিয়ে সন্তানহারা মা যে পোস্ট করেছেন, তা দেখে সকলেই হতবাক। জানা গিয়েছে, ওই কিশোরকে শৌচালয়ে নিয়ে গিয়ে টয়লেট সিট চাটতে বাধ্য করা হয়েছিল। শুধু তাই নয়। তার মাথা কোমডে ঢুকিয়ে তারপর ফ্লাশ করা হয়। এছাড়া শারীরিক নির্যাতন তো ছিলই। রাজনার দাবি, স্কুলে এই অত্যাচারের পর মানসিকভাবে মিহির ভেঙে পড়েছিল। সেই অবসাদ সহ্য করতে না পেরেই সে আত্মহত্যা করে। সুদীর্ঘ ওই চিঠিতে সুবিচারের আর্জি জানিয়েছেন রাজনা। পাশাপাশি তিনি এও জানান, ছেলের এই করুণ পরিণতির পর থেকেই তিনি ও তাঁর স্বামী এর পিছনের কারণ খুঁজতে থাকেন। মিহিরের বন্ধু, সহপাঠীদের সঙ্গে কথা বলেন তাঁরা। খুঁটিয়ে দেখেন মোবাইল মেসেজ। তখনই স্কুলে র্যাগিংয়ের বিষয় তাঁদের সামনে আসে। রাজনা এও দাবি করেছেন, শুধু র্যাগিংয়ের ওই ঘটনাই নয়। নিয়মিত তাঁর ছেলেকে গায়ের রং নিয়ে খোঁচা দেওয়া হতো। এমনকী তাঁর মৃত্যুর পরও কেউ কেউ বর্ণবিদ্বেষমূলক মন্তব্য করতে পিছপা হননি। সোশ্যাল মিডিয়ার পোস্টে রাজনা বেশকিছু স্ক্রিনশট শেয়ার করেছেন। তাতে স্কুলেরই কয়েকজন মিহিরের মৃত্যুর পরও তাঁকে গায়ের রং নিয়ে মজা করেছে। ইতিমধ্যেই থ্রিপুনিথুরার হিল প্যালেস থানায় এফআইআর দায়ের হয়েছে। রাজনার আর্জি, তাঁর ছেলের এই অকালমৃত্যুর পিছনে যারা রয়েছে, তাদের ধরতে সোশ্যাল মিডিয়ার বিভিন্ন মেসেজ সবচেয়ে বড় প্রমাণ। তাই সেগুলি মুছে দেওয়ার আগে যেন পুলিস তদম্ত শুরু করে। তিনি এও বলেন, মিহিরের মতো পরিণতি যাতে আর কারও না হয়, সেদিকেও স্কুল কর্তৃপক্ষের নজর দেওয়া দরকার।



