Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

স্কুলে মিড ডে মিলের অর্থ বণ্টনে অনিয়ম

স্কুলে মিড ডে মিলের অর্থ বণ্টনে অনিয়ম
  • ১২ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
অগ্নিভ ভৌমিক, কৃষ্ণনগর: শহরের স্কুলে মিড ডে মিলেও অনিয়ম! রান্নার সামগ্রী কিনতে সরকারের বরাদ্দকৃত অর্থের সম্পূর্ণটা পৌঁছয়নি কৃষ্ণনগর শহরের বহু স্কুলে। যা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে শিক্ষক মহলে। দেখা যাচ্ছে, কোনও কোনও স্কুলকে বরাদ্দ অর্থের অর্ধেক প্রদান করা হয়েছে। আবার কিছু স্কুল অর্ধেকেরও কম টাকা পেয়েছে। শহরের প্রাইমারি থেকে হাইস্কুল সর্বত্রই এই একই ছবি। ইতিমধ্যেই স্কুলগুলি জেলা প্রশাসনকে লিখিতভাবে বিষয়টি জানিয়েছে। সেইসঙ্গে বকেয়া অর্থ দ্রুত প্রদান করার জন্য আবেদন করা হয়েছে। যদিও অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে কৃষ্ণনগর পুরসভার তরফে। 
Advertisement
নদীয়া জেলার মিড ডে মিলের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক রাজীব পাণ্ডে বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের তরফ থেকে কৃষ্ণনগর পুরসভাকে জানানো হয়েছে। তাঁরা ব্যবস্থা নিচ্ছে বলে আশ্বাস দিয়েছে।’ কৃষ্ণনগর পুরসভার চেয়ারম্যান রীতা দাস বলেন, ‘অনিয়মের কোনও প্রশ্নই ওঠে না। পুরসভার কাছে শহরের প্রতিটি স্কুলই সমান। যে সব স্কুল সম্পূর্ণ টাকা পায়নি, তাদের বাকি টাকা শীঘ্রই দেওয়া হবে।’ কিন্তু সরকারের বরাদ্দকৃত অর্থ কেন কাটছাঁট করে দেওয়া হবে, সেই প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে। এ ব্যাপারে অবশ্য জবাব এড়িয়ে গিয়েছে পুর কর্তৃপক্ষ। 
জানা গিয়েছে, কৃষ্ণনগর শহরে প্রাইমারি ও হাইস্কুল রয়েছে মোট ৯০টি। সম্প্রতি কেন্দ্র সরকার ও রাজ্য সরকার যৌথ প্রকল্পে কৃষ্ণনগর শহরের ৪১টি স্কুলে মিড ডে মিল সামগ্রী কিনতে ৬ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা বরাদ্দ করে। ৫০ জন পর্যন্ত পড়ুয়া থাকা স্কুলগুলির জন্য ১০ হাজার টাকা। ১৫০ জন পর্যন্ত পড়ুয়া থাকা স্কুলগুলির জন্য ১৫ হাজার টাকা, ২৫০ জন পর্যন্ত পড়ুয়া থাকা স্কুলগুলির জন্য ২০ হাজার টাকা এবং তার থেকে বেশি পড়ুয়া থাকা স্কুলগুলির জন্য ২৫ হাজার টাকা করে বরাদ্দ করা হয়েছে।
কিন্তু দেখা যাচ্ছে, ওই ৪১টি স্কুলকে বরাদ্দ অর্থের পুরোটা দেওয়া হয়নি। যেমন, অনাদিনগর প্রাইমারি স্কুলের পড়ুয়ার সংখ্যানুযায়ী ১০ হাজার টাকা পাওয়ার কথা। তাদের পুরসভা থেকে দেওয়া হয়েছে ৫ হাজার টাকা। আশ্বিনীকুমার প্রাইমারি স্কুলে পড়ুয়ার সংখ্যা ১৫৫। নিয়মানুযায়ী ২০ হাজার টাকা পাওয়ার কথা। কিন্তু দেওয়া হয়েছে ৮ হাজার ৫০০ টাকা। বাড়ুইপুর প্রাইমারি স্কুল, ভুবনমোহিনী শিক্ষা নিকেতন, ঘূর্ণি গার্লস প্রাইমারি স্কুল, ঘূর্ণি স্বর্ণময়ী বিদ্যাপীঠ, কৃষ্ণনগর এ ভি স্কুল সহ বহু স্কুলে এই ঘটনা ঘটেছে। নাজিরাপাড়া রামকৃষ্ণ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সুব্রত প্রামাণিক বলেন, ‘স্কুলের ছাত্র ছাত্রীর সংখ্যানুযায়ী আমাদের ১০ হাজার টাকা পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট আপডেট করার পর আমার দেখি ৫ ডিসেম্বর আমাদের ৫ হাজার ৫০০ টাকা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তারপর থেকেই এখনও পর্যন্ত বাকি টাকা আমরা পাইনি।’ 
সঙ্গতকারণেই বাকি টাকা কোথায় গেল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে শিক্ষক মহল। পুরসভার যুক্তি, শহরের বেশ কিছু স্কুল মিড ডে মিলের সামগ্রীর জন্য পুরসভার কাছে আবেদন করেছিল। কিন্তু সরকার থেকে নির্দিষ্ট কিছু স্কুলের জন্যই প্রকল্পে টাকা বরাদ্দ করে। তাই প্রাথমিকভাবে সেই টাকা সমস্ত স্কুলের মধ্যে বণ্টন করে দেওয়া হয়েছে। এবার যারা সম্পূর্ণ অর্থ পায়নি তাদের পুরসভার নিজস্ব তহবিল থেকে বাকি অর্থ দেওয়া হবে।  নদীয়া উত্তর তৃণমূল প্রাথমিক শিক্ষা সেলের সভাপতি কিংশুক দাস বলেন, ‘বিষয়টি আমরা প্রশাসনকে জানিয়েছি। আমরা চাই প্রতিটি স্কুল যেন তাদের বরাদ্দ অর্থের পুরোটাই পায়।’ একই দাবি করেছেন নদীয়া উত্তর তৃণমূলের মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি দিলীপ সিংহ। তিনি বলেন, ‘কৃষ্ণনগর শহরের বহু হাইস্কুল মিড ডে মিলের রান্নার সামগ্রী কেনার জন্য বরাদ্দ অর্থের পুরোটা পায়নি। দ্রুত বাকি টাকা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হোক।’ 
সম্পর্কিত সংবাদ