Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

গোয়েন্দা বিভাগের মনিটর সেল থেকে বদলি দক্ষ অফিসার, ক্ষুব্ধ লালবাজারের নীচুতলা

ঘটনার চারবছর পর তাঁর দেওয়া নিখুঁত তথ্যের ভিত্তিতেই নয়ডা থেকে গ্রেফতার হয়েছিল পার্ক স্ট্রিট গণধর্ষণ কাণ্ডে পলাতক মূল অভিযুক্ত কাদের খান। আর জি করে রাতের অন্ধকারে সেমিনার রুমে চিকিৎসক  ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গ্রেফতার হয়েছিল কলকাতা পুলিশের সিভিক ভলান্টিয়র সঞ্জয় রাই।

গোয়েন্দা বিভাগের মনিটর সেল থেকে বদলি দক্ষ অফিসার, ক্ষুব্ধ লালবাজারের নীচুতলা
  • ১৫ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুজিত ভৌমিক, কলকাতা:  ঘটনার চারবছর পর তাঁর দেওয়া নিখুঁত তথ্যের ভিত্তিতেই নয়ডা থেকে গ্রেফতার হয়েছিল পার্ক স্ট্রিট গণধর্ষণ কাণ্ডে পলাতক মূল অভিযুক্ত কাদের খান। আর জি করে রাতের অন্ধকারে সেমিনার রুমে চিকিৎসক  ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গ্রেফতার হয়েছিল কলকাতা পুলিশের সিভিক ভলান্টিয়র সঞ্জয় রাই। এমনকী গুলশন কলোনিতে হালফিলের হামলার ঘটনায় তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই দিল্লি থেকে গ্রেফতার হয় পলাতক মিনি ফিরোজ।  আবার গত বছর নভেম্বর মাসে তাঁর দেওয়া তথ্যে ভর করেই, লালবাজার কসবায় শাসক দলের কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষের উপর প্রাণঘাতী হামলার চেষ্টায় জড়িতরা পরপর গ্রেফতার হয়। 

Advertisement

অভিযোগ, কলকাতা পুলিশের মনিটর সেলের এহেন দক্ষ গোয়েন্দা অফিসার সোহম চট্টোপাধ্যায়কে সম্প্রতি বদলি হতে হয়েছে লালবাজারের এক শীর্ষকর্তার রোষে পড়ে! লালবাজারের ওই শীর্ষকর্তার আচরণে দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষোভ জমছিল গোয়েন্দা বিভাগের নীচুতলার অফিসার মহলে। এই বদলির বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই সেই ক্ষোভ মাত্রাছাড়া আকার নিয়েছে। কারণ, যেদিন সোহম চট্টোপাধ্যায়কে বদলি করা হয়,  সেদিন তাঁর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী সন্তানের জন্ম দিতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন! শীর্ষকর্তার এমন ‘অমানবিক’ আচরণে ক্ষুব্ধ লালবাজারের নীচুতলা। গোয়েন্দা বিভাগের এই মনিটর সেল অত্যন্ত ‘স্পর্শকাতর’ এবং ‘গুরুত্বপূর্ণ’ ইউনিট।  বিশেষজ্ঞ গোয়েন্দা ছাড়া এই সেল কার্যত অচল। সেলের দেওয়া ত঩থ্যের ভিত্তিতেই পলাতক কুখ্যাতদের খোঁজে দেশজুড়ে অপারেশন চালায় কলকাতা পুলিশ। প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালে তৎকালীন ডিসি (সাউথ) মুরলীধর শর্মার আগ্রহে কলকাতার পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমার সাউথ ডিভিশনে একটি মনিটর সেল গঠন করেন। সেই সময় সাউথ ডিভিশনের অফিসারদের থেকে বাছাই করে সোহম চট্টোপাধ্যায়কে মনিটর সেলে নিয়োগ করা হয়েছিল। নয়ডা থেকে কাদের খান গ্রেফতারের পর লালবাজারে মূল মনিটর সেলে জায়গা পান সোহম চট্টোপাধ্যায়।  লালবাজার এই বদলিকে অবশ্য রুটিন বলে দাবি করছে। এদিকে মনিটর সেল থেকে সোহম চট্টোপাধ্যায়কে বদলি করে তাঁর জায়গায় ক্রাইম রেকর্ড সেকশন থেকে একজন অফিসারকে আনা হয়েছে। কিন্তু তাঁর মনিটর সেলে কাজের অভিজ্ঞতা নেই। ফলে কার্যত মুখ থুবড়ে পড়ার অবস্থা মনিটর সেলের।  এদিকে কাকতালীয় হলেও, ডিজিটাল তথ্য প্রমাণের ঘাটতিতে গত ২১ সেপ্টেম্বর চারু মার্কেট থানার দেশপ্রাণ শাসমল রোডে জিমে গুলি কাণ্ডে এখনও কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি লালবাজার। সোহম চট্টোপাধ্যায়ের  বদলি ঠেকাতে সিপি মনোজ ভার্মার দ্বারস্থ হয়েছিলেন কলকাতা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত গোয়েন্দা প্রধান রূপেশ কুমার। তিনিও সফল হননি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ