Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সুখেদুখে ঐক্যবদ্ধ, ভরতপুরের দাসপাড়া যেন একান্নবর্তী পরিবার

সুখেদুখে ঐক্যবদ্ধ, ভরতপুরের দাসপাড়া যেন একান্নবর্তী পরিবার
  • ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
ইন্দ্রজিৎ কর্মকার, কান্দি: এ যেন এক অন্য গ্রহ! এক বৃহৎ যৌথ পরিবার! স্বচ্ছল বা দুঃস্থ, পাড়ার প্রতিটি পরিবার যেমন খুশিতে একসঙ্গে মেতে ওঠে। তেমনি একে অপরের দুঃখেও পাশে দাঁড়ায়। কোনও পরিবারের কারও মৃত্যু হলে প্রতিটি পরিবার থেকে ৫০ টাকা করে নিয়ে মৃতের পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়। ভরতপুর ১ ব্লকের দাসপাড়ায় এই রীতি চলে আসছে প্রায় ১০ বছর ধরে। বাসিন্দারা চান না এই রীতির কোনও বদল ঘটুক। 
Advertisement
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই পাড়ায় প্রায় ১৬০টি পরিবারের বাস। প্রতিটি পরিবার তফসিলি সম্প্রদায়ভুক্ত। বেশিরভাগই হয় ব্যবসায়ী, নয় তো ভিন রাজ্যে কাজ করেন। অনেকে খেতেও কাজ করেন। কয়েকজন সরকারি প্রকল্পে চুক্তিভিত্তিক কর্মী। পাড়ার অধিকাংশ বাড়িই কংক্রিটের। যদিও কোনও বাড়িরই সীমানা প্রাচীর নেই। যে কোনও একটি বাড়িতে ঢুকলেই পাড়ার শেষ বাড়িটিতে অনায়াসে যাওয়া যায়। ঠিক যেন একটি যৌথ পরিবার। 
তবে বছর দশেক আগে ছবিটা এমন ছিল না। বাসিন্দারা জানিয়েছেন, অধিকাংশ বাড়িই ছিল মাটির। প্রতিবেশীদের মধ্যে ঝগড়া মারামারি লেগেই থাকত। সদ্ভাব বিশেষ ছিল না। কিন্তু পাড়ার কয়েকজনের চেষ্টায় ছবিটা পাল্টে গিয়েছিল। পাড়ার প্রবীণদের সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই সময়ে পাড়ার কারও মৃত্যু হলে আর্থিক অনটনের কারণে মৃতের শেষকৃত্য করতে সমস্যায় পড়ত মৃতের পরিবার। মৃতের পরিবারকে শেষকৃত্যের জন্য মহাজনের কাছে ঋণও নিতেও হতো। এমন অবস্থায় একদিন পাড়ার প্রবীণরা আলোচনায় বসেন। প্রয়াত বাদল দাস, কানাই দাস, সুশীল দাস, চম্পা দাসরা ঠিক করেন, পাড়ার কারও মৃত্যু হলে প্রতিটি পরিবার থেকে টাকা নিয়ে শেষকৃত্যের জন্য মৃতের পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হবে। সেই সিদ্ধান্তই বদলে দেয় ছবিটা। এরপর ধীরে ধীরে গোটা পরিবেশটাই বদলে গিয়েছে। পাড়ার সব পরিবার মিলে এখন কার্যত একটিই পরিবার। স্থানীয় বাসিন্দা ভরতপুর পঞ্চায়েতের প্রাক্তন সদস্য কালীচরণ দাস বলেন, এখন আমাদের পাড়া না বলে একটি যৌথ পরিবার বলাই ভালো। কেউ মারা গেলে যেমন তাঁর পরিবারের হাতে টাকা তুলে দেওয়া হয়। তেমনি পুজোপার্বণে সকলে একসঙ্গে অংশ নিই। শুধু নির্বাচন বাদে বিপদে আপদে আমরা এখন এক। নির্বাচনের সময়ে কারও গণতান্ত্রিক অধিকারে কেউ হস্তক্ষেপ করেন না। কারণ এতে একতা ভেঙে যাওয়ার ভয় রয়েছে। এই রীতি আমরা আগামীতেও বজায় রাখতে চাই। বাসিন্দারা আরও জানিয়েছেন, এই ১০ বছরে পাড়ায় অন্তত ১৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়কালে প্রতিটি পরিবার থেকে ৫০ টাকা করে চাঁদা তুলে মৃতদের পরিবারকে দেওয়া হয়েছে। তা সে বড়লোক হোক, বা গরিব। তবে কোনও পরিবার এই টাকা নিতে না চাইলে পাড়ার কোনও ভালো কাজে তা লাগানো হয়। পাড়ার কৃত্তিবাস, পরেশ দাস প্রমুখ জানিয়েছেন, আজকাল অন্যান্য জায়গায় এসব দেখাই যায় না। পূর্বসূরীদের দেখানো পথেই তাঁরা হাঁটতে চান। গৃহবধূ পূর্ণিমা দাস বলেন, পাড়ার অধিকাংশ পরিবার দুঃস্থ হলেও একতার কারণে কখনও তা বোঝা যায় না।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ