Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

হরিশ্চন্দ্রপুর: ‘মাকে মারতে মারতে নিয়ে যায় বাবা-পিসি’, পুলিসকে জানাল ছ’বছরের ছেলেই, কঙ্কালের ডিএনএ টেস্টের দাবি

আটদিন আগে পাটখেত থেকে উদ্ধার কঙ্কালসার দেহটি চাঁচলের এক গৃহবধূর। এমনটাই দাবি পরিবারের।

হরিশ্চন্দ্রপুর: ‘মাকে মারতে মারতে নিয়ে যায় বাবা-পিসি’, পুলিসকে জানাল ছ’বছরের ছেলেই, কঙ্কালের ডিএনএ টেস্টের দাবি
  • ৩০ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, হরিশ্চন্দ্রপুর: আটদিন আগে পাটখেত থেকে উদ্ধার কঙ্কালসার দেহটি চাঁচলের এক গৃহবধূর। এমনটাই দাবি পরিবারের। ওই বধূ জুন মাসের ১৩ তারিখ থেকে নিখোঁজ হয়ে যান বলে পুলিস সূত্রে খবর। বধূর পরিবারের দাবি, উদ্ধার হওয়া কঙ্কালটি তাঁদের মেয়ের। বধূকে খুন করে পাটখেতে ফেলে দেওয়া হয়েছে। কঙ্কালটির ডিএনএ টেস্টের দাবি তুলেছে পরিবার। এবিষয়ে চাঁচল মহকুমা পুলিস আধিকারিক সোমনাথ সাহা বলেন, পরিবারের লোকেরা চাইলে অবশ্যই ডিএনএ টেস্ট করতে পারেন। তবে, তার জন্য আদালতে আবেদন করতে হবে। কোর্ট অনুমতি দিলে ডিএনএ টেস্ট করা যাবে। পরিবারটির অভিযোগও খতিয়ে দেখছে পুলিস।

Advertisement

গত ২৩ জুন চাঁচলের নদীসিক এলাকার পাটখেত থেকে একটি কঙ্কালসার দেহ উদ্ধার করে চাঁচল থানার পুলিস। পাশে পড়ে থাকা হাতের বালা দেখে পুলিসের প্রাথমিক অনুমান, সেটি কোনও মহিলার দেহ। এদিকে, ১৩ জুন থেকে চাঁচল থানার বৈরগাছি এলাকার বধূ মাহেনুর খাতুন নিখোঁজ রয়েছেন। বধূর বাপের বাড়ি হরিশ্চন্দ্রপুরের কুশিদা এলাকায়। বধূর বাবা আব্দুল সাজ্জাদ চাঁচল থানায় মিসিং ডায়েরি করেন। 
স্থানীয় সূত্রে খবর, মাহেনুর খাতুনের বিয়ে হয় কাদের বক্সের সঙ্গে।   অভিযোগ,শ্বশুরবাড়ির লোকেরা মাহেনুরের উপর নির্যাতন চালাত। বধূ নিখোঁজের পর থেকে স্বামী কাদেরের কোনও খোঁজ নেই। দেহ উদ্ধারের কথা জানতে পেরে আব্দুল সাজ্জাদ ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। সঙ্গে বৈরগাছি এলাকার কয়েকজন মহিলাও যান। তাঁরা হাতের বালা দেখে দাবি করেন, দেহটি নিখোঁজ বধূর। যদিও পুলিসের অনুমান, দেহটি দেড় থেকে দু’মাসের পুরনো। পরিবারের লোকেদের অভিযোগ, পুলিস সঠিক তদন্ত করছে না। শ্বশুরবাড়ির লোকদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে আসল ঘটনা বেরিয়ে আসবে। 
১৩ জুনের ঘটনা এখনও তাজা বধূর ছয় বছরের ছেলের, সেদিনই তার মা নিখোঁজ হয়ে যায়। রবিবার ভয়ে ভয়ে বধূর ছেলে মাসুদ আলি বলে, সেদিন ভোরে আমার বাবা-পিসি মাকে মারধর করে ঘর থেকে নিয়ে যায়। তারপর থেকে মায়ের কোনও খোঁজ নেই। নিখোঁজ বধূর বাবা আব্দুলের দাবি, মেয়ের শ্বশুরবাড়ির পরিবারের লোকেরা কয়েকজন মিলে আমার মেয়েকে খুন করেছে।
আব্দুল দাবি করেন, যে কঙ্কালটি পাওয়া গিয়েছে, সেটি আমার মেয়ের। কারণ, দেহের পাশে যে বালাটি পড়ে ছিল, সেটি আমার মেয়ে পরত। ডিএনএ টেস্ট করলে দেহটি শনাক্ত হয়ে যাবে।
পুলিস সূত্রে খবর, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত কিছুই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়। কঙ্কাল উদ্ধার ও বধূ নিখোঁজের ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে চাঁচল থানা।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ