সংবাদদাতা, কান্দি: সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে স্কুলের ছয় শিক্ষকের চাকরি গিয়েছে। ফলে সমস্যায় ভরতপুর ১ ব্লকের আলুগ্রাম ইউনিয়ন উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়। অঙ্ক ও ভূগোল বিষয়ে শিক্ষকহীন হয়ে পড়ল স্কুলটি। সেইসঙ্গে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির জন্যও কোনও শিক্ষক রইলেন না। তার ফলে সমস্যায় পড়ল প্রায় সাড়ে ১৭০০ ছাত্রছাত্রী।
১৯৫০ সালে প্রতিষ্ঠা হয় স্কুলটির। বর্তমানে বিজ্ঞান ও কলা বিভাগ মিলে মোট ১৭৪৭ জন ছাত্রছাত্রী পড়াশুনা করে। বিজ্ঞানের পড়ুয়ার সংখ্যা ২৮ জন। সুপ্রিম নির্দেশে স্কুলের ছয় শিক্ষকের চাকরি যাওয়ায় সেখানে প্রধান শিক্ষক সহ ১৩ জন রইলেন। ফলে সমস্যায় পড়ল স্কুল কর্তৃপক্ষ। সবচেয়ে বড় সমস্যা হল স্কুলে অঙ্ক ও ভূগোলের কোনও শিক্ষক রইলেন না। এরসঙ্গে উচ্চ মাধ্যমিকের ক্লাসগুলির জন্য একজন শিক্ষকও রইলেন না।
স্কুল সূত্রে জানা গিয়েছে, চাকরিহারা হয়েছেন অঙ্কের শিক্ষক আয়াতুল্লা শেখ। এছাড়াও মুনমুন মুখোপাধ্যায়ও একমাত্র ভূগোলের শিক্ষিকা ছিলেন। এছাড়াও চাকরি গিয়েছে ইতিহাসের দীপঙ্কর তাঁতি, ইংরেজির সুক্তি মুখোপাধ্যায়ের। এই দুইজন একমাত্র উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষক হিসেবে যুক্ত ছিলেন। এঁদের চাকরি যাওয়ায় স্কুলে আর কোন উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষক রইলেন না। এছাড়াও চাকরি গিয়েছে ইংরেজির শালমা সুলতানা ও জীবন বিজ্ঞানের শুভঙ্কর নস্করের।
আর এই ঘটনার পর চিন্তায় পড়েছেন স্কুল কর্তৃপক্ষ থেকে ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকরা। প্রধান শিক্ষক অমিতাভ চক্রবর্তী বলেন, এতবড় সঙ্কট স্কুলে কোনওদিন আসেনি। এমনিতেই স্কুলে শিক্ষকের সংখ্যা কম। তার উপর একসঙ্গে ছয়জন শিক্ষকের চাকরি যাওয়ায় কীভাবে স্কুল পরিচালনা করা হবে, সেই চিন্তা সকলকে তাড়া করেছে। পরীক্ষা শেষ হলেই ক্লাস নিতে গিয়ে চরম সমস্যায় পড়তে হবে আমাদের। সেক্ষেত্রে দ্রুত পরিচালন কমিটির সভা ডাকা হচ্ছে। পরিচালন সমিতির এক সদস্য বলেন, গেস্ট টিচার নিয়োগ করে বিকল্প পথে হাঁটা ছাড়া স্কুল চালানোর পথ দেখা যাচ্ছে না। তবে স্কুল ফান্ডে তেমন টাকাও নেই। এছাড়া সমস্ত ক্লাসের সংখ্যা কমিয়ে দেওয়া হতে পারে।
উদ্বিগ্ন অভিভাবক পরিমল নন্দী, তাপস দে প্রমুখ জানিয়েছেন, প্রত্যন্ত গ্রামের এই স্কুলে অধিকাংশ ছাত্রছাত্রী দুঃস্থ পরিবারের। সেক্ষেত্রে অনেক ছাত্রের পরিবার টাকা খরচ করে প্রাইভেট টিউশনও দিতে পারবেন না। ফলে শিক্ষার চরম সঙ্কট দেখা দেবে। স্কুলের দ্বাদশ শ্রেণির মনমোহিনী দে, নাসিমা খাতুন, অনির্বাণ দাস প্রমুখ পড়ুয়ারা জানিয়েছে, শিক্ষকদের চাকরি যাওয়ায় সব থেকে সমস্যায় পড়েছি আমরাই। কীভাবে পড়াশোনা হবে, তা বুঝতে পারছি না। এই
নির্দেশ আমাদের অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিল।