Bartaman Logo
২৫ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

১০ ফুট রাস্তায় ছ’তলা নির্মাণ, নির্বাক পুরসভা, টিটাগড়ে বিস্ফোরণস্থল সেই বিতর্কিত বহুতল নিয়ে উঠছে প্রশ্ন

টিটাগড় পুরসভার বাঁশবাগান এলাকার এস এস পথ রোডে দশ ফুট রাস্তার ধারে ছ’তলা আবাসন কী ভাবে তৈরি হল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

১০ ফুট রাস্তায় ছ’তলা নির্মাণ, নির্বাক পুরসভা, টিটাগড়ে বিস্ফোরণস্থল সেই বিতর্কিত বহুতল নিয়ে উঠছে প্রশ্ন
  • ২২ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাকপুর: টিটাগড় পুরসভার বাঁশবাগান এলাকার এস এস পথ রোডে দশ ফুট রাস্তার ধারে ছ’তলা আবাসন কী ভাবে তৈরি হল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আবার ছাদের উপরে হয়েছে অতিরিক্ত নির্মাণ। জলের ট্যাংকের পাশে ঘর বানিয়ে মানুষ বসবাস করছে। যেকোনো সময় বড় বিপদ ঘটতে পারে। প্রসঙ্গত, সোমবার সকালে ওই আবাসনেরই পাঁচতলার একটি বন্ধ ফ্ল্যাটে মজুত রাখা বোমা ফেটে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরক মজুত ও বিস্ফোরণের ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলার আরমান মণ্ডল সহ তিনজনকে ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার করেছে পুলিস। আদালতের নির্দেশে তাঁরা এখন পুলিস হেফাজতে রয়েছে। বন্ধ ওই ফ্ল্যাটটি দীর্ঘদিন ধরে কাউন্সিলারের হেফাজতেই ছিল।  

Advertisement

ওই বহুতলের আশপাশের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, বাড়িটির বেআইনি অংশে মানুষ বসবাস করছে। যে কোনো সময় পাঁচিল ভেঙে পড়ে আবার লাগোয়া বস্তির মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। অভিযোগ, এই বেআইনি নির্মাণ নিয়ে চোখ বুজে রয়েছে টিটাগড় পুরসভা। অবশ্য ওই বাড়ির প্রোমোটার অনিল গুপ্তার বক্তব্য, ২০১৬ সালে জি প্লাস ফোর প্ল্যান অনুমোদিত হয়েছিল পুরসভা থেকে। উপরের অংশটার অনুমতি নেওয়া হয়নি। এ ব্যাপারে অবশ্য পুরসভার চেয়ারম্যান কমলেশ সাউ কোন মন্তব্য করতে চাননি। তৎকালীন চেয়ারম্যান ছিলেন প্রশান্ত চৌধুরী। তিনি বলেন বাড়িটির প্ল্যান অনুমোদন হয়েছিল। পরে বাড়াতে পারে। সেটা আমার পক্ষে বলা সম্ভব নয়।
তবে অভিযুক্ত কাউন্সিলার আরমান মণ্ডল একটি ফ্ল্যাট যে দখল করে রেখেছেন, তা বর্তমান চেয়ারম্যানকে জানানো হয়েছিল বলে জানিয়েছেন প্রোমোটার। তিনি বলেন, আরমান মণ্ডল ২০২২ সালের পুরভোটের আগে ওই ঘর চেয়েছিলেন, দিয়েছিলাম। তিন বছর হয়েছে, ঘর আর ছাড়েননি। চাবিও কাউন্সিলরের কাছেই আছে। বিষয়টি আমি পুরসভার চেয়ারম্যানকে জানিয়েছিলাম। কিন্তু লাভের লাভ কিছু হয়নি। কিন্তু চেয়ারম্যান অবশ্য তা অস্বীকার করেছেন। তবে স্থানীয় বিধায়ক রাজ চক্রবর্তী জানিয়েছেন, আমি যদি জানতাম, অবশ্যই ব্যবস্থা নিতাম।
আরমানের বিষয়ে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে, আইন ও প্রশাসনিকস্তরে যা ব্যবস্থা নেওয়ার তাই নেওয়া হবে। সূত্রের খবর, আরমান মণ্ডলের কাজকর্মে খুবই অসন্তুষ্ট ছিল বারাকপুরের পুলিশ প্রশাসন। ২০২২ সালে তাঁর ভাই এক তরুণীকে গণধর্ষণে অভিযুক্ত ছিল। সেই ঘটনায় বর্তমান পুলিস কমিশনার অজয় ঠাকুরকে বারাকপুর থেকে বদলি হতে হয়েছিল। আরমানের ভাই জেলে রয়েছে। পুলিস কমিশনার হিসেবে অজয় ঠাকুর এবার আইনগতভাবে যা ঠিক, সে পথেই চলছেন। এই আরমান মণ্ডলের বিরুদ্ধে বিজেপির যুব নেতা মণীশ শুক্লা খুনে যুক্ত থাকার অভিযোগ থাকলেও, পরে চার্জশিট থেকে তাঁর নাম বাদ পড়ে যায় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। অপরদিকে বিরোধীদল বিজেপি এই বিস্ফোরণ কাণ্ড এবং কাউন্সিলার গ্রেপ্তারকে ইস্যু করে বুধবার সন্ধ্যায় টিটাগড় থানার সামনে প্রতিবাদ সভার আয়োজন করে। সেখানে অর্জুন সিং, সজল ঘোষ সহ নেতারা বক্তব্য রাখেন। তাঁরা বিস্ফোরণের ঘটনার এনআইএ তদন্তের দাবি জানান।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ