Bartaman Logo
২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ছ’মাস মিড-ডে মিলের টাকা বকেয়া, অনেক স্কুল সংকটে

স্কুলে গিয়ে ক্ষুদে ছেলে, মেয়েগুলো দুপুরের খাবার পায়। কিন্তু কতদিন সেটা পাবে কাটোয়া এক ব্লকের বহু স্কুলে তা নিয়ে চিন্তিত শিক্ষকরা। বলা হচ্ছে মিড ডে মিলের পোর্টালে সমস্যা হচ্ছে।

ছ’মাস মিড-ডে মিলের টাকা বকেয়া, অনেক স্কুল সংকটে
  • ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কাটোয়া: স্কুলে গিয়ে ক্ষুদে ছেলে, মেয়েগুলো দুপুরের খাবার পায়। কিন্তু কতদিন সেটা পাবে কাটোয়া এক ব্লকের বহু স্কুলে তা নিয়ে চিন্তিত শিক্ষকরা। বলা হচ্ছে মিড ডে মিলের পোর্টালে সমস্যা হচ্ছে। তার দরুণ কাটোয়া-১ ব্লকের বহু স্কুলে মিড-ডে মিলের ছ’মাসের টাকা বকেয়া রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে ঋণ করে পড়ুয়াদের দুপুরে খাওয়াতে হচ্ছে শিক্ষকদের। কোনো স্কুলে ঋণের পরিমাণও বেশি। মুদিখানা থেকে সবজি বাজার সবটাই ধার করে চালাতে হচ্ছে। মিড-ডে মিলের এই অচলাবস্থা নিয়ে এবার সরব হয়েছেন শিক্ষকরা।  কাটোয়ার মহকুমা শাসক রীনা ঘোষ বলেন, আমি খোঁজ নিয়ে দেখব৷ 

Advertisement

কাটোয়া-১ ব্লকের প্রাক-প্রাথমিক, উচ্চ মাধ্যমিক, এসএসকে, এমএসকে সহ মোট ১৩০ টি স্কুল রয়েছে। যেখানে খুদে পড়ুয়াদের দুপুরে মিড-ডে মিল খাওয়ানো হয় প্রতিদিন। শিক্ষকদের দাবি, গত এপ্রিল থেকে আগস্ট পর্যন্ত বহু স্কুলেই মিড-ডে মিল খাওয়ানোর খরচের টাকা আসেনি। এদিকে বাজারে তাঁদের ঋণের পরিমাণও বাড়ছে। একপ্রকার বাধ্য হয়ে শিক্ষকদের পকেট থেকে খরচা করে বাচ্চাগুলিকে মিড-ডে মিল খাওয়াতে হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে চরম সংকটে পড়বে প্রকল্প। আগের তৃণমূল সরকার মিড-ডে মিলে পড়ুয়া পিছু ৬. ৭৮ টাকা দিত। নতুন বিজেপি সরকার বরাদ্দ বাড়িয়েছে।  দু’মাস আগে নতুন সরকার মিড-ডে মিলে পড়ুয়া পিছু ১০ টাকা ভর্তুকি দেওয়ার কথা জানিয়েছে। ভোটের আগে পূর্বতন সরকার সব স্কুলগুলিকে দু’মাসের অগ্রিম টাকা দিয়েছিল। কিন্তু সেই টাকা কোন মাসে স্কুলগুলি খরচ করবে, তার কোনো নির্দেশ ছিল না৷ ফলে বহু স্কুলই সংকটে পড়েছে।  কাটোয়া পশ্চিম চক্রের অধীনে বিকিহাট অবৈতনিক প্রাথমিক স্কুলের মোট পড়ুয়া ১০৪। তার মধ্যে প্রতিদিন তাদের গড়ে ৮০-৯০ জন করে পড়ুয়াকে মিড-ডে মিলের খাবার খাওয়ানো হয়৷ স্কুলের প্রধান শিক্ষক বিকাশ সাহা বলেন, ছ’মাস ধরে মিড-ডে মিলের টাকা ঢোকেনি। আমাদের মুদিখানার বিল বাকি ১৮ হাজার টাকা৷ তার উপরে প্রতিমাসে শিক্ষকদের পকেট থেকে ৯ হাজার টাকা দিয়ে চালাতে হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে সামনের মাস থেকে মিড-ডে মিল চালাতে পারব না৷ পাশাপাশি বিকিহাট পশ্চিমপাড়া অবৈতনিক প্রাথমিক স্কুলেরও একই পরিস্থিতি। ওই স্কুলে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত ৪৪ জন পড়ুয়া রয়েছে৷ প্রতিদিন গড়ে ৩৫ জন করে পড়ুয়াকে মিড-ডে মিল খাওয়ানো হয়৷ প্রধান শিক্ষক রাজেন্দ্র কুমার দাস বলেন, আমরা ব্লকে জানিয়েছি৷ সুরাহা হয়নি। এদিকে রান্নার গ্যাসের বিল বাকি পড়েছে। মুদিখানা তো রয়েইছে। কাটোয়া-১ ব্লকের খাজুরডিহি জুনিয়র বেসিক প্রাথমিক স্কুলে ২৪০ জন পড়ুয়া। ওই স্কুলে প্রতিদিন গড়ে ১৮০-১৮২ জনকে মিড-ডে মিল খাওয়াতে হয়। স্কুলের প্রধান শিক্ষক অরূপ পণ্ডিতের কথায়, আমাদের স্কুলের আবার মুদিখানার বিল বাকি রয়েছে প্রায় ৩২ হাজার টাকা৷ 
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পরেই মিড-ডে মিল সংক্রান্ত পোর্টালে কাজ চলছিল৷ যার জেরে গোটা রাজ্যজুড়ে স্কুলগুলিতেই একই অবস্থা চলছিল। কিন্তু গত ১৩ সেপ্টেম্বর পোর্টাল খুলেছে৷ ট্রেজারিতে বিল করে জমাও দেওয়া হয়েছে৷ বাকি বহু স্কুলে মিড-ডে মিলের টাকা ঢুকলেও কাটোয়া-১ ব্লকে বাকি রয়েছে৷ এনিয়ে ব্লকের সংশ্লিষ্ট বিভাগের দায়িত্বে থাকা এক অফিসার জানান, আমাদের ব্লকে সবার বিল ট্রেজারিতে জমা দেওয়া হয়ে গিয়েছে৷ আশা করি দ্রুত মিড-ডে মিলের টাকা ঢুকে যাবে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ