নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: প্রতিশ্রুতিই সার! একাধিক সময় দিনক্ষণ ঘোষণা হলেও বেপরোয়া টোটোর গতিতে লাগাম টানতে পারেনি সিউড়ি পুরসভা কর্তৃপক্ষ। এমনকী একাধিক সময় সিদ্ধান্ত হলেও কিউআর কোড বিহীন টোটোর বিরুদ্ধে অভিযানও হয়নি। ফলে, সিউড়ি শহরে টোটোর দাপট ক্রমশ বাড়ছে। শহরের প্রধান সড়কগুলি সহ মসজিদ মোড় এলাকা, টিনবাজার চত্বরে টোটোর দৌরাত্ম্য বাড়ছে। যার জেরে বিভিন্ন সময় যানজট হচ্ছে। এনিয়ে বাসিন্দারা পুরসভার ভূমিকায় প্রশ্ন তুলে ধরতে শুরু করেছেন। যদিও, টোটো ইউনিয়নের সদস্যরাও দাবি করছেন দেরি হচ্ছে যানজট সমস্যা সমাধানে। এক্ষেত্রে পুরসভাকে আরও সক্রিয় হওয়া প্রয়োজন বলে তাঁদের দাবি। যদিও পুরসভা কর্তৃপক্ষ বলছে চলতি মাসেই কিউআর কোডের ভিত্তিতে শহরে টোটো চলাচল শুরু হবে। কেউ নিয়ম ভাঙলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুরসভার চেয়ারম্যান উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায় বলেন, প্রশাসনিক কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে আগামী ২৮ এপ্রিল থেকে কিউআর কোডের ভিত্তিতে জোড়-বিজোড় সংখ্যার টোটো চালানো হবে। এনিয়ে টোটো ইউনিয়নের সদস্যদেরও সতর্ক করা হয়েছে। সিউড়ি শহরে যানজটের অন্যতম কারণ টোটো। বেলাগাম টোটো চলায় রাশ টানতে মহকুমা প্রশাসনের সহযোগিতায় গত ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে পুরসভার তরফে রেজিস্ট্রেশনপ্রাপ্ত টোটোয় কিউআর কোড লাগানোর কাজ শুরু হয়েছিল। মাস শেষ হওয়ার আগেই সেই কাজ শেষ করার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। যদিও রেজিস্ট্রেশনপ্রাপ্ত টোটোর একাংশ কিউআর কোডের আওতায় না আসায় মেয়াদ বাড়ানো হয়। অন্যদিকে টোটো ইউনিয়ন ও পুরসভার তরফেও চালকদের সচেতন করতে প্রচার চালানো হয়। যদিও পুরসভার এই সিদ্ধান্তে অনেক টোটোচালক সাড়া দেননি। তার জেরেই জোড় বিজোড় হিসেবে টোটো চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও কার্যকারী করতে পারছে না পুরসভা কর্তৃপক্ষ। অবশ্য একসময় পুরসভা ধড়পাকর অভিযান শুরু করেছিল। কিন্তু, তা সাময়িক। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, আগে শহরজুড়ে মাইকিং করা হবে। তারপর আগামী ২৮ এপ্রিল থেকে কিউআর কোডের ভিত্তিতে পৃথক রঙেরজোড় বিজোড় টোটো চলবে। শহরের বাসিন্দা আদিত্য মুখোপাধ্যায় বলেন, সিউড়ি পুরসভাকে দ্রুত সক্রিয় হতে হবে। নইলে পুরসভার উপর সাধারণ মানুষের আস্থা ক্রমশ হারাবে। সিউড়ি শহর টোটো ইউনিয়নের সভাপতি রাজিবুল ইসলাম বলেন, আমরাও চাইছি দ্রুততার সঙ্গে এই নিয়ম কার্যকর হোক।



