নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে আরও একধাপ এগল সিউড়ি পুরসভা। পচনশীল ও অপচনশীল বর্জ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে এবার শহরের বিভিন্ন রাস্তার ধারে ট্রলি ও কন্টেনার বসতে চলেছে। যেগুলিতে পৃথকভাবে বর্জ্য মজুত করার বন্দোবস্ত থাকছে। ইতিমধ্যে পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের টাকায় পুরসভায় পাঁচটি ট্রলি এসে পৌঁছেছে। আরও পাঁচটি ট্রলি খুব শীঘ্রই এসে পৌঁছবে। এছাড়াও, আবর্জনা সংগ্রহের ক্ষেত্রে ইতিমধ্যে প্রায় ১০০টি ট্রলি পুরসভায় এসে পৌঁছেছে। পুরসভার তরফে জানা গিয়েছে, শহরের বিভিন্ন রাস্তার ধারে থাকা কংক্রিট সহ অস্থায়ী ভ্যাট সরিয়ে ফেলা হবে। তার পরিবর্তে ওই ট্রলি ও কন্টেনারগুলি বসানো হবে। পুরসভার চেয়ারম্যান উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায় বলেন, প্রায় একবছর আগে মুখ্যমন্ত্রী আমাদের সতর্ক করেছিলেন। তারপর থেকেই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজে জোর দেওয়া হয়েছিল। এবার নয়া পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। শহরের রাস্তার ধারে থাকা অস্থায়ী ভ্যাট সরিয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তাতে শহর অনেকটাই দূষণমুক্ত হবে। তবে, সাধারণ মানুষ সচেতন না হলে প্রয়োজন অনুসারে আমরা জরিমানার পথে হাঁটব। তিনি আরও বলেন, মুখ্যমন্ত্রী জেলা সফরে আসছেন। শহরের উন্নয়নের স্বার্থে তাঁর কাছে কিছু প্রস্তাব তুলে ধরার ইচ্ছে রয়েছে। শহরকে সুন্দর করে সাজিয়ে তোলার জন্য বেশকিছু প্রকল্পের অনুমোদন চেয়ে আবেদন জানানো হবে। ২০২৪ সালের ২৪ জুন শহরের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ইস্যুতে নবান্নর সভাঘরের প্রশাসনিক বৈঠক থেকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সিউড়ি পুরসভার চেয়ারম্যানকে কড়া ধমক দিয়েছিলেন। এরপর থেকেই পুরসভা কর্তৃপক্ষ শহরাঞ্চলকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে বদ্ধপরিকর হয়ে ওঠে। ইতিমধ্যেই দিনেরবেলা বাড়ি থেকে আবর্জনা সংগ্রহের পাশাপাশি শহরের মূল অংশে নাইট সার্ভিসও চালু করা হয়েছে। পরবর্তীতে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা, বিশেষ করে প্রতিটি বাজার চত্বরেই নাইট সার্ভিস চালু করা হবে। পুরসভার তরফে জানা গিয়েছে, শহরের ২১টি ওয়ার্ডজুড়ে প্রায় ১৪০টি ভ্যাট রয়েছে। এরমধ্যে বেশকিছু ভ্যাট অস্থায়ী অর্থাৎ কাঁচা। যদিও বেশিরভাগ ভ্যাটই কংক্রিটের তৈরি। বর্তমানে নির্মল সাথীর কর্মীরা বিভিন্ন বাড়ি থেকে আবর্জনা সংগ্রহ করে তা ওই ভ্যাটে মজুত করেন। পরবর্তীতে সেখান থেকে সরাসরি সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্রকল্পে পাঠানো হয়। যদিও এক্ষেত্রে পচনশীল ও অপচনশীল আবর্জনা মিলেমিশে একাকার হয়ে থাকছে। এছাড়াও, অনেক সময় ওই ভ্যাটগুলি থেকে আবর্জনা রাস্তায় ছড়িয়ে পড়ে। ফলত দূষণের সম্ভাবনাও প্রবল হয়ে ওঠে। এই পরিস্থিতিতে এবার পুরসভা দূষণরোধের পাশাপাশি পৃথকভাবে আবর্জনা সরাসরি প্রকল্প এলাকায় পৌঁছে দিতে তৎপর হয়ে উঠেছে।



