সংবাদদাতা, বজবজ: অচলাবস্থা কাটিয়ে ক্রমশ স্বাভাবিক হচ্ছে বজবজের ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশনের (আইওসি) বটলিং প্লান্ট। বুধবার এখান থেকে রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডার সরবরাহ করা হয়েছে বিভিন্ন এলাকায়। যদিও পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও দু’-একদিন সময় লাগতে পারে বলে মনে করছেন প্লান্টের কর্তারা। এদিকে, মঙ্গলবার রাতে প্লান্টের বাইরে গোলমালের ঘটনায় সব মিলিয়ে ৯০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিস। ধৃতরা সকলেই আইওসি’র লেবার অ্যান্ড ড্রাইভার ও হেল্পার ইউনিয়নের সদস্য বলে জানা গিয়েছে। ডায়মন্ডহারবার পুলিস জেলার এক আধিকারিক বলেন, ধৃতদের বিরুদ্ধে তিনটি পৃথক মামলা রুজু করা হয়েছে। ধৃতদের এদিন আলিপুর আদালতে তোলা হলে বিচারক ২০ জনকে পুলিস হেফাজত এবং বাকিদের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। আইওসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি আংশিক স্বাভাবিক হয়েছে। এদিন ১৮-২০ হাজার সিলিন্ডার লোডিংয়ের পর সরবরাহ করা হয়েছে। যে চালকরা গোলমাল করেছিলেন, তাঁদের চিহ্নিত করে বাদ দেওয়া হয়েছে। পরিবর্তে দু’-একদিনের মধ্যে নতুন চালক নেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত, বেশ কিছু দাবিতে লেবার অ্যান্ড ড্রাইভার ও হেল্পার ইউনিয়নের সদস্যরা গত শনিবার আন্দোলন শুরু করেছিলেন। তাঁরা লোডিং ও আনলোডিংয়ের কাজ বন্ধ করে দিয়েছিলেন। ফলে তিনদিন সিলিন্ডার সরবরাহের কাজ কার্যত স্তব্ধ হয়ে যায়। এ নিয়ে কর্তৃপক্ষ এবং কর্মী সংগঠন আলোচনায় বসলেও সমাধান সূত্র বের হয়নি। বরং কাজ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তে অনড় ছিলেন চালক ও খালাসিরা। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আন্দোলন তোলার জন্য চালক ও খালাসিদের চাপ দিতে একদল দুষ্কৃতী হামলা চালায় বলে অভিযোগ। পাল্টা প্রতিরোধ করেন আন্দোলনকারীরা। দু’পক্ষের সংঘর্ষে একাধিক গাড়ি, বাইক ভাঙচুর করা হয়েছে বলে খবর। পুলিস ঘটনাস্থলে এলে আন্দোলনকারীরা সিলিন্ডারের মুখ খুলে গ্যাস ছড়াতে থাকে। চারদিক সাদা হয়ে যায়। এই ঘটনায় কয়েকজন পুলিস আধিকারিক অসুস্থ হয়ে পড়েন। গ্যাসের প্রভাব ঠেকাতে দমকলের একটি ইঞ্জিন এসে জল ছিটাতে শুরু করে। অনেকেরই বক্তব্য, ওই সময় কেউ সিগারেট বা বিড়ি ধরালে কিংবা দেশলাইয়ের কাঠি জ্বালালে বড়সড় বিপদ হতে পারত।
এদিকে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার পর পুলিস ধরপাকড় শুরু করে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়। বজবজ ১ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি তথা সংগঠনের সম্পাদক কানাইলাল দাস বলেন, পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক। সিলিন্ডার লোডিং ও আনলোডিংয়ের কাজ শুরু হয়েছে।