নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: বাজেটে বাংলার ভাগ্যে প্রায় কিছুই জোটেনি। এই কারণে ভোটের প্রাক্কালে বঙ্গবিজেপি পর্যন্ত বিপাকে। সংসদের বাজেট অলোচনায় তৃণমূল কংগ্রেসের এমপিদের তোলা অভিযোগে কোণঠাসা মোদি সরকার। সেই সব কিছু আড়াল করতেই যেন বুধবার জবাবি ভাষণে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন সিংহভাগ সময় ব্যয় করলেন পশ্চিমবঙ্গ নিয়েই। লাগাতার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে টার্গেট করে তিনি বাজেট বির্তককে পর্যবসিত করলেন নির্বাচনি জনসভায়। এমনকি কালীগঞ্জে বোমা বিস্ফোরণে কেন এক বালিকার মৃত্যু হয়েছে, মেদিনীপুরে বোমা-সংঘর্ষ, নারীদের জন্য বাংলা অসুরক্ষিত, রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা নেই, সিন্ডিকেটরাজ ইত্যাদি বাজেটের সঙ্গে সম্পর্কহীন বিষয় নিয়েও দীর্ঘ সময় ব্যয় করেন তিনি। সঙ্গে অবশ্য এও বললেন, পশ্চিমবঙ্গের জন্য এবার বাজেটে একঝাঁক উপহার দেওয়া হয়েছে। হুগলিতে জুট শিল্পের প্রকল্প, দুর্গাপুর-আসানসোল শিল্প করিডর, শিলিগুড়িতে হাই-স্পিড ট্রেন। এছাড়া সামগ্রিকভাবে চর্মশিল্প এবং জঙ্গলমহলে বিড়ি তৈরির তেন্ডু পাতার উপর শুল্ক কমানো তো রয়েছেই। বাজেটে শুধু ঘোষণা, প্রকল্প রূপায়ণে এগিয়ে আসতে হবে রাজ্যকে—এমন অভিনব সিদ্ধান্তের কথা অর্থমন্ত্রী নিজেই বলে ফেলেছেন। তিনি বলেন, এই যে কেমিকেল পার্ক ঘোষণা করা হয়েছে। বাংলা কেন হলদিয়ায় কেমিকেল পার্ক করছে না? আমরা বলেছি, সিটি ইকনমিক রিজিয়ন যে কোনো শহরেই হতে পারে। বছরে ১ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ। রাজ্য সরকার তাহলে শহর চিহ্নিতকরণ করছে না কেন? ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ডিজাইন পূর্ব প্রান্তে হবে। বাংলা এগিয়ে আসুক। পশ্চিমবঙ্গে প্রাপ্য অর্থ কেন্দ্র মেটাচ্ছে না কেন? এই প্রশ্ন বারংবার উত্থাপন করেছে তৃণমূল। সেব্যাপারে এদিন অর্থমন্ত্রীর প্রত্যুত্তর, ‘কলকাতায় পেট্রলের দাম ১০ টাকা বেশি কেন?’
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার, অভিষেকের নামে সমালোচনা শুনে আর চুপ করে থাকেননি তৃণমূল সাংসদ প্রতিমা মণ্ডল। দলের ২৮ সাংসদের মধ্যে কেউ ছিলেন না। তবে একাই লড়ে যান দক্ষিণ ২৪ পরগনার জয়নগরের এই সাংসদ। পিছনের আসন থেকে সামনে দ্বিতীয় সারিতে এসে চিৎকার করতে থাকেন, ‘ধর্ষণ বাজেটের বিষয়ই নয়। তাহলে কেন বাংলাকে বদনাম করতে ধর্ষণের কথা বলছেন? আপনাদের উন্নাও, হাতরাস কি ভুলে গেলেন? বাংলাকে টার্গেট করেছেন বলে বকেয়া মেটাচ্ছেন না। আর এখানে তার জবাব না দিয়ে অপ্রাসঙ্গিক কথা কেন বলছেন?’ তাঁর তোপ, ‘সংসদে দাঁড়িয়ে মিথ্যাচারে দেশকে বিভ্রান্ত করছেন কেন? এই মিথ্যাচারের জবাব পেতে বাংলার ভোটে তৈরি থাকুন।’ তাঁকে একা লড়তে দেখে এগিয়ে আসেন সমাজবাদী পার্টির ধর্মেন্দ্র যাদব, কংগ্রেসের বেণী বেনন, প্রনীতি সিন্ধে, প্রভা মল্লিকার্জুন, দীপেন্দর হুডা, এনসিপি’র সুপ্রিয়া সুলের মতো বিরোধী সাংসদরা। পরে স্বয়ং প্রিয়াঙ্কা গান্ধী করমর্দন করে অভিনন্দন জানান প্রতিমাকে। পরে তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এক্স হ্যান্ডলে লেখেন, আমি দুই ভারত থেকে এসেছি। এক ভারতে যেখানে পেঁয়াজ কিনতে হিমশিম খান। তাঁদের টিকে থাকাটাই স্বপ্ন। আর অন্য ভারতে দেশের সর্বোচ্চ আর্থিক পদে থাকা ব্যক্তি হালকা চালে বলতে পারেন, আমি পেঁয়াজ খাই না, তাই বিচলিত নই।
এদিন লোকসভা শান্তিপূর্ণভাবে চললেও আচমকা ‘জিরো আওয়ার’ বাতিল করা হয়। তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তৃণমূলের অসিত কুমার মাল। আবার তৃণমূলের মিতালি বাগের প্রশ্নে সংখ্যালঘু বিষয়কমন্ত্রী কিরেণ রিজিজু লিখিতভাবে জানিয়েছেন, প্রি ম্যাট্রিক, পোস্ট ম্যাট্রিক সহ সংখ্যালঘুদের জন্য যে স্কলারশিপ ছিল, তা গত ২০২১-২২ অর্থবর্ষের পর বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে এই প্রকল্পে টাকা দেওয়ার প্রশ্নই নেই। তা নিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন মিতালি।



