Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

তাঁতশিল্পের অগ্রগতি নিয়ে দিশা দেখাতে পারলেন না সীতারমণ

বাংলার ভোটের ময়দানে নামলেন দেশের অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনও। বুধবার তিনি এলেন কালনার তাঁতশিল্পীদের কাছে। এক মহিলার কাছে থেকে তাঁত বোনা শিখলেন।

তাঁতশিল্পের অগ্রগতি নিয়ে দিশা দেখাতে পারলেন না সীতারমণ
  • ১৬ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান এবং সংবাদদাতা, কালনা: বাংলার ভোটের ময়দানে নামলেন দেশের অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনও। বুধবার তিনি এলেন কালনার তাঁতশিল্পীদের কাছে। এক মহিলার কাছে থেকে তাঁত বোনা শিখলেন। শিল্পীদের তারিফ করলেন। কিন্তু, ওই পর্যন্তই। তাঁতশিল্পীরা ভেবেছিলেন, দেশের অর্থমন্ত্রী হয়তো তাঁত শিল্পের অগ্রগতির জন্য কোনও প্রতিশ্রুতি দিয়ে যাবেন। কিন্তু, সেই গুড়ে বালি। তিনি তাঁত শিল্প নিয়ে কিছু বললেন না। মোদি, অমিত শাহদের সুরে সুর মিলিয়ে মহিলাদের অ্যাকাউন্টে তিনহাজার করে টাকা দেওয়ার আশ্বাস দিলেন। তাতে অবশ্য তিনি তাঁত শিল্পীদের মন জয় করতে পারলেন না। মন্ত্রী অবশ্য অভিযোগের সুরে বলেন, চা শ্রমিক এবং তাঁত শিল্পীরা কোনো সুবিধা পায় না। কিন্তু, কেন্দ্রীয় সরকার তাঁত শিল্পীদের জন্য কেন কিছু করেননি, সেই ব্যাখা তিনি দেননি। 

Advertisement

কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী কালনায় তাঁতশিল্পীদের নিয়ে সম্মেলন করলেও সম্মেলন মঞ্চে ডাক পাননি সদ্য তাঁতশিল্পের অবদানের জন্য পদ্মশ্রী প্রাপক জ্যোতিষ দেবনাথ। তিনি বলেন, আমাকে সম্মেলনে আগে থেকে ডাকা হয়নি। সম্মেলন দুপুরে শেষ হয়েছে। বিকালে আমাকে একজন ফোন করে ডেকেছিলেন। আমি তখন নববর্ষের পুজোয় কারখানায় ব্যস্ত ছিলাম। আগে ডাকা হলে অর্থমন্ত্রীর কাছে তাঁত শিল্প নিয়ে অনেক কথাই বলার ছিল।    
বিজেপির পশ্চিমবঙ্গ হ্যান্ডলুম ও উইভার্স সেলের প্রদেশ তাঁত সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় কালনা শ্রীরামপুর আশ্রমপাড়ায়। সেখানে অর্থমন্ত্রী ছাড়াও কালনা বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী সিদ্ধার্থ মজুমদার, বিজেপির কাটোয়া জেলা সাংগঠনিক সভানেত্রী স্মৃতিকণা বসু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এদিনের সম্মেলনে কেন্দ্রীয় নানা প্রকল্প তুলে ধরেন। কালনার প্রাচীন স্থাপত্য নিদর্শনের কথাও তিনি তুলে ধরেন। তবে, আগামী দিনে কোন পথে তাঁত শিল্পীরা উপকৃত হবেন, সেই রকম কোনো দিশা দেখাতে পারেননি।
এদিন কালনা, ধাত্রীগ্রাম, সমুদ্রগড় প্রভৃতি এলাকা থেকে তাঁত শিল্পীরা সম্মেলনে এসেছিলেন। মন্ত্রী স্থানীয় একটি তাঁত কারখানায় গিয়ে শিল্পীদের সঙ্গে কথা বলেন। তাঁরা সমস্যার কথা বললেও অর্থমন্ত্রীর কাছ থেকে তেমন কোনো আশ্বাস পাননি বলে জানান। তাঁত শিল্পী সবিতাদেবী বলেন, তিনি আমাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। কিন্তু, আমাদের  কীভাবে উন্নতি হবে তা নিয়ে কিছুই বলেননি। ১০০ দিনের কাজ বা জলজীবন মিশনের টাকা বন্ধের পিছনে অর্থমন্ত্রী রাজ্য সরকারকে দায়ী করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, রেশন মিলছে না। রেশনের টাকা মন্ত্রীর কাছে যাচ্ছে। স্কুলে খাবার মিলছে না বলেও তিনি অভিযোগ করেন। তৃণমূলের দাবি, অর্থমন্ত্রী মিথ্যাচার করেছেন। তৃণমূল নেতা স্বপন দেবনাথ বলেন, বিজেপি নেতারা মিথ্যা কথা বলছেন। তাঁত শিল্পীদের উন্নয়নে অনেক কাজ করা হয়েছে। বিজেপির কাউকে অন্য সময় দেখা যায় না। ভোটের সময় তাঁরা এসে মিথ্যাচার করছেন।  তাঁতির ঘরে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ