Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সাঁইথিয়ায় জলসঙ্কট মেটাতে অম্রুত প্রকল্পে বরাদ্দ ৫৮ কোটি

সাঁইথিয়ায় জলসঙ্কট মেটাতে অম্রুত প্রকল্পে বরাদ্দ ৫৮ কোটি
  • ১১ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, সিউড়ি: সাঁইথিয়া শহরে পানীয় জলের সমস্যা মেটাতে অম্রুত প্রকল্প তৈরি হতে চলেছে। রাজ্য সরকার এজন্য প্রায় ৫৮কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। পুর কর্তৃপক্ষ মনে করছে, প্রকল্পের কাজ শেষ হলে সাঁইথিয়া শহরের প্রতিটি ওয়ার্ডে পানীয় জলের সমস্যার প্রায় সিংহভাগ মিটে যাবে। 
Advertisement
সাঁইথিয়া পুরসভার চেয়ারম্যান বিপ্লব দত্ত বলেন, শহরের ১৬টি ওয়ার্ডেই কমবেশি জলের সমস্যা রয়েছে। খুব তাড়াতাড়ি আম্রুত প্রকল্পের কাজ শুরু হতে চলেছে। কাজ সম্পূর্ণ হলে শহরে জলের সমস্যা অনেকখানি মিটবে।
পুরসভা জানিয়েছে, এশহরে ১৬টি ওয়ার্ডে যে বাড়ি বাড়ি পানীয় জলের সংযোগ রয়েছে, তাতে শহরবাসীর পানীয় জলের চাহিদার চারভাগের এক ভাগ পূরণ করা সম্ভব হয়। তাই শহরের পাশেই ময়ূরাক্ষী নদী থাকলেও গরমকালে শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে পানীয় জলের ব্যাপক সঙ্কট দেখা দেয়। পুরসভার তরফে টিউবওয়েল, সাবমার্সিবল পাম্প সহ নানাভাবে অতিরিক্ত জলের চাহিদা মেটানোর চেষ্টা করা হয়।
শহরে ১৬হাজারের বেশি পরিবার রয়েছে। তার মধ্যে মাত্র ৩০০৬টি বাড়িতে পুরসভার উদ্যোগে পাইপলাইনের মাধ্যমে জলের সংযোগ দেওয়া গিয়েছে। বাকি মানুষকে টিউবওয়েল ও স্ট্যান্ডপোস্টের জলের উপর নির্ভর করতে হয়।
তাই শহরের বাকি প্রায় ১৩হাজারের বেশি বাড়িতে পাইপলাইনের মাধ্যমে জলের সংযোগ পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর জন্য আম্রুত প্রকল্পে ৫৮কোটি ৪৩লক্ষ টাকা অনুমোদিত হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে শহরের বাসিন্দারা প্রতিদিন মাথাপিছু ৭০লিটার করে জল পাবেন। প্রকল্পের টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে বলে পুর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ভোট এলেই নেতারা জলের সমস্যা মেটানোর আশ্বাস দেন। কিন্তু ভোট পেরিয়ে গেলে আর কোনও উদ্যোগ চোখে পড়ে না। অবশেষে আম্রুত প্রকল্পের মাধ্যমে সেই সমস্যা স্থায়ীভাবে মিটতে চলেছে। এই প্রকল্পে শহরের দু’টি প্রান্তে নতুন দু’টি ওভারহেড জলের ট্যাঙ্ক তৈরি করা হবে। সেখান থেকেই পাইপলাইনের মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি পানীয় জলের সংযোগ দেওয়া হবে।
তবে সাঁইথিয়া শহরের রাস্তায় পুরসভার স্ট্যান্ডপোস্ট থেকে জল অপচয়ের অভিযোগ হামেশাই ওঠে। পুরসভা মানুষকে সচেতন করা সত্ত্বেও বিভিন্ন জায়গায় মাটিতে ও নর্দমায় পড়ে পানীয় জল নষ্ট হচ্ছে। অনেক পাড়ায় ওই সমস্ত কলের মুখ খুলে নিয়ে গিয়েছে দুষ্কৃতীরা। ফলে শহরে প্রচুর জল অপচয় হচ্ছে। পুর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জল অপচয় বন্ধে মানুষকে আরও সচেতন করা হবে।
সম্পর্কিত সংবাদ